শীর্ষবিন্দু নিউজ: বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিষ্ট শফিক রেহমানকে ইস্কাটনের বাসা থেকে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা। ডিবি পুলিশ পরিচয়ে গ্রেপ্তারের আগে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে পুলিশ বাসায় প্রবেশ করে বলে জানান শফিক রেহমানের স্ত্রী ও ডেমোক্রেসি ওয়াচের পরিচালক তালেয়া রেহমান।
শনিবার সকালে রাজধানীর ইস্কাটনের নিজ বাসা থেকে শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এসময় তালেয়া রেহমান অস্ত্রসজল চোখে বলেন, এই ধরনের পরিস্থিতির জন্য তারা প্রস্তুত ছিলেন না। তার (শফিক রেহমান) বয়স হয়েছে। এ অবস্থায় এমন পরিস্থিতির জন্য চিন্তা হচ্ছে।
২
০১৫ সালের আগস্টে রাজধানীর পল্টন থানায় দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলায় শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা। শনিবার সকাল ৮টার দিকে তাঁকে ইস্কাটনের নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে তার স্ত্রী তালেয়া রহমানের বরাত দিয়ে নিশ্চিত করেছেন বিএনপির মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যা পরিকল্পনা মামলায় তার বিরুদ্ধে এ রিমান্ড আবেদন করা হয়। শনিবার দুপুরে ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে এ আবেদন করা হয়। রিমান্ড আবেদন করেন ডিবির এএসপি হাসান আরাফাত। বিকেল ৩টায় বিচারক মাজহারুল ইসলামের আদালতে শুনানি হবে।
সাংবাদিক পরিচয়ে এমন ভাবে গ্রেপ্তার সাংবাদিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে; বলেন তালেয়া রেহমান। তিনি বলেন, সকাল ৭ টার কিছু পরে তিনজন লোক বাসার অভ্যার্থনা কক্ষে এসে বৈশাখী টেলিভিশনের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে শফিক রেহমানের সঙ্গে দেখা করতে চায়। অভ্যার্থনা কক্ষ থেকে শফিক রেহমানের কাছে বার্তা পাঠানো হলে তিনি তাদের নাস্তা দিতে বলেন। ওই তিনজন নাস্তা খেয়ে বাসার বাবুর্চির কাছে একটি কার্ড দিয়ে তা শফিক রেহমানকে দিতে বলেন।
বাবুর্চি কার্ড নিয়ে উপরের তলায় ওঠার মূহুর্তেই শহিফক রেহমান নিচে চলে আসেন। এসময় ওই তিন ব্যাক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাকে আটক করে। বার্বুচিকে মারধর করে সেই কার্ডটিও নিয়ে যায় পুলিশ। সাংবাদিক শফিক রেহমান সম্পাদিত মৌচাকের ঢিল ম্যাগাজিনের সহযোগী সম্পাদক সজীব অনাচিত জানান, শফিক রেহমানকে নিয়ে যাওয়ার সময় বাসার বাইয়ে একটি সাদা মাইক্রোবাস, দুটি মোটরসাইকেল ও আরও নয়জন ব্যাক্তিকে তিনি দেখতে পেয়েছেন।
সজিব আরও জানান, এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় ভূমিকম্পের কিছু আগে সাংবাদিক পরিচয়ে তিনজন ব্যাক্তি বাসায় এসেছিলেন; যারা ভূমিকম্প হওয়ার পরে কিছু না বলেই চলে যান। ইন্টারভিউ না নিয়েই চলে যাচ্ছেন, এমন প্রশ্নে তখন তারা বলেছিলেন, আজ নয় আরেক দিন।
এদিকে বেলা ১১ টার দিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সহ দপ্তর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান শফিক রেহমানের বাসায় যান। তারা শফিক রেহমানের স্ত্রী তালেয়া রেহমানকে সান্তনা দেন।
মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ডিবির উপকমিশনার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ জানান, ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে রাজধানীর পল্টন থানায় করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যা পরিকল্পনা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জানা যায়, আজ সকাল ৬টার দিকে ৪/৫ লোক এসে বাড়ির দারোয়ানকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বাড়ির ভিতরে ঢোকে। তারপর শফিক রেহমানের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে তাকে ডিবি পরিচয় দিয়ে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।
বাড়ির দারোয়ান মোল্লা জানান, সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বাড়ির ভিতরে ঢোকা ব্যক্তিদের মধ্যে শুধু একজনের গায়ে ডিবি লেখা কটি পরা ছিল।
পল্টন থানা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের আগস্টে রাজধানীর পল্টন থানায় দায়ের করা নাশকতার মামলায় শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
লাল গোলাপ নামে একটি অনুষ্ঠান নিয়ে এখন সম্প্রচার মাধ্যমে সক্রিয় তিনি। প্রখ্যাত অধ্যাপক সাইদুর রহমানের ছেলে শফিক রেহমানের স্ত্রী তালেয়ার প্রতিষ্ঠান ডেমোক্রেসি ওয়াচ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা হিসেবে সক্রিয়। বিশিষ্ট সাংবাদিক, যায় যায় দিন প্রত্রিকার সাবেক সম্পাদক ও টেলিভিশন উপস্থাপক শফিক রেহমানের বিরুদ্ধে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।