শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: জার্মানির একটি উগ্র-ডানপন্থী দল অলটারনেটিভ ফ্যুর ডয়েচলান্ড তাদের সম্মেলনে ইসলামবিরোধী একটি কড়া নির্বাচনী খসড়া অনুমোদন করেছে। জার্মানিতে মুসলমানদের আজান, বোরকা, এবং মসজিদের মিনার নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়ে এই নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো অনুমোদন করেছে।
জার্মানিতে প্রায় ৫০ লক্ষ মুসলিম বাস করে। যারা জনসংখ্যার পাঁচ শতাংশ। এদের অনেকেই তুরস্ক থেকে আসা এবং তারা কয়েক প্রজন্ম ধরে এদেশে বাস করছে। অনেকেই বলছেন- এএফডির ইসলাম সম্পর্কে অবস্থান বিপজ্জনক এবং বিভক্তি সৃষ্টিকারী। একজন মুসলিম নেতা বলেন, তাদের নীতি অনেকটা ইহুদিদের ব্যাপারে নাৎসীদের অবস্থানের মতো।
এই উগ্র-ডানপন্থী দল অলটারনেটিভ ফ্যুর ডয়েচলান্ড নামের দলটি সম্প্রতি আঞ্চলিক নির্বাচনে বেশ ভালো ফল করেছে। তাদের সম্মেলনে ইসলামবিরোধী একটি কড়া নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো অনুমোদন করে এতে বলা হয়- জার্মানিতে ইসলাম ধর্মের কোন স্থান নেই। এতে মুসলমানদের আজান, পুরো মুখমন্ডল ঢাকা নিকাব এবং মসজিদের মিনার নির্মাণ নিষিদ্ধ করার লক্ষ্য ঘোষিত হয়।
গত এক বছরে যুদ্ধবিক্ষুব্ধ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে ১০ লাখেরও বেশি অভিবাসী- যাদের অনেকেই মুসলিম – জার্মানিতে আসার পর, দেশটিতে এএফডির পক্ষে সমর্থন বেড়েছে। আঞ্চলিক নির্বাচনেও দলটি ভালো করেছে। অর্ধেকেরও বেশি আঞ্চলিক পার্লামেন্টে এএফডি আসন পেয়েছে। অনেকেই বলছেন, হয়তো আগামি বছর এই প্রথমবারের মতো জাতীয় পার্লামেন্টে দলটি আসন পেয়ে যেতে পারে।
একজন ডেলিগেট সম্মেলনে বক্তৃতা দেবার সময় বলেন, জার্মানির জন্য ইসলাম একটি বিদেশী ধর্ম। তাই এখানে খ্রীষ্টানদের মতো সমান অধিকার মুসলিমদের থাকা উচিত নয়। এ সময় অন্য ডেলিগেটরা জোরে করতালি দেন। এই সম্মেলন শুরুর আগে মিলনায়তনের বাইরে সংঘর্ষ হয় এবং পুলিশ কয়েকশ বামপন্থী বিক্ষোভকারীকে আটক করে।
বিবিসির সংবাদদাতা বলছেন, ইউরো-বিরোধী দল হিসেবে যাত্রা শুরু করা এএফডি এখন পুরোপুরি ‘অভিবাসন-বিরোধী’ বা আরো স্পষ্টভাবে ইসলাম-বিরোধী পার্টিতে পরিণত হয়েছে।