বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৪৭

হালাল খাবারের চাহিদা বাড়ছে বৃটেনে

হালাল খাবারের চাহিদা বাড়ছে বৃটেনে

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি অমুসলিমদের মাঝেও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে হালাল খাবারের। হালাল ফুড অথরিটির বার্ষিক কনফারেন্সে এসব তথ্য জানান বিশেষজ্ঞ বক্তারা।

ক্যানসিংটন হোটেলে আয়োজিত সেমিনারে আর্ন্তজাতিক প্রতিষ্টানগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তা, হালাল বাজার বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন এয়ারলাইন্স ক্যাটারিং কোম্পানীর প্রতিনিধিসহ প্রায় অর্ধশতাধিক বহুজাতিক কোম্পানীর শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন। কনফারেন্সের এক পর্যায়ে হালাল ফুড অথরিটির ক্ল্যায়েন্ট ও কর্মকর্তাদের এওয়ার্ড প্রদান করা হয়। পুরো অনুষ্টান পরিচালনা করেন-জনপ্রিয় প্রেজেন্টার রাহিম জাং।

সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে কনফারেন্সে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা, ওয়াকর্শপ ও ট্রেনিং দেওয়া হয়। এতে ফুড সাইনটিস্ট, ইন্ডাস্ট্রি স্পেশালিস্ট, গবেষক এবং বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানীর শীর্ষ অফিসাররা অংশ নেন। এ সময় বক্তারা বলেন, বৃটেনে প্রতিবছর ২০ পার্সেন্ট হারে বাড়ছে হালাল খাবারের চাহিদা। আর পুরো পৃথিবীতে এই এর রয়েছে কয়েক ট্রিলিয়ন পাউন্ডের বাজার। এজন্য বৃটেনসহ পুরো ইউরোপের হালাল খাবারের বাজার ধরে রাখতে মুসলমানদের এগিয়ে আসতে হবে।

বৃটেনের ফুড ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম গুরুত্বপূর্ন এই ইভেন্টটি প্রতিবছর আয়োজন করে আসছে হালাল ফুড অথরিটি। সেন্ট্রাল লন্ডনের কেনসিংটন প্যালেস হোটেলের বলরুমে দিনব্যাপী আয়োজিত এই কনফারেন্সে যোগ দেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ডেলিগেটরা। এতে ইউকে-ইউরোপের বাজারে হালাল খাবারের প্রসার- প্রচার ও সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। বিভিন্ন বিষয়ে কী নোট উপস্থাপন করেন বিশেষজ্ঞ বক্তারা।

হালাল খাবার, হালাল মেডিসিন, এমনকি হালাল কসমেটিকস থেকে নিয়ে অসংখ্য হালাল পন্যের বিশ্বব্যাপী-বাজার সৃষ্টি করেছে মালয়েশিয়া। বলতে গেলে- এই সেক্টরে পাওনিয়্যার মুসলিম এই দেশটি। এবারের কনফারেন্সে আমন্ত্রন জানানো হয়েছিলো দেশটির প্রধানমন্ত্রী অফিসের ডেপুটি মিনিস্টার ড. আসিরাফ ওয়াজদি বিন দাতু দাসুকিকে । তিনি বলেন তার দেশ প্রতিবছর হালাল খাতে রপ্তানি করে ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের পন্য। ই্উকে এবং ইউরোপের বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বলে জানান তিনি। হালাল ফুড অথরিটির এই মহতি উদ্যোগের প্রশংস্ াকরেন মালয়েশিয়ার এই প্রভাবশালী মন্ত্রী।

বিশ্বখ্যাত ফুড চেইন কেন্টাকী ফ্রাই চিকেন (ক্এেফসি) হালাল ফুড অথরিটির অন্যতম ক্ল্যায়েন্ট। ইউকে এবং আয়ারল্যান্ডে তাদের ১০০টি আইটলেটে সম্পূর্ন হালাল খাবার পরিবেশন করা হয়। দিন দিন এই চাহিদা আরো বাড়ছে বলে জানান কেএফসির প্রডাক্ট এক্সেলেন্স ডাইরেক্ট ক্রিস ফেলস। হালাল ফুড অথরিটি এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখছে বলে জানান তিনি।

কনফারেন্সের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন হালাল ফুড অথরিটির চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন খান। তিনি বলেন, হালাল ফুড অথরিটি ১৯৯৪ সালে যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিগত ২০ বছরে এই সংস্থা বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় হালাল সার্টিফাইয়িং অথরিটিতে পরিণত হয়েছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে হালাল খাবারের অনুমোদন, হালাল নিশ্চিতকরণ এবং সর্বোপরি হালাল ব্যবসার প্রসার ও শক্তিশালীকরণ, সুবিধা, সমর্থন ও সহযোগিতা প্রদান করা আমাদের লক্ষ্য।

তিনি বলেন তার সংস্থাটি হালাল ফুড ফাউন্ডেশন নামক চ্যারিটির অধীনে একটি বিজনেস উইং হিসেবে কাজ করে যাচেছ। সংস্থাটি বোর্ড অব ট্রাষ্টি দ্বারা পরিচালিত একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। মূল বক্তব্য তুলে ধরেন চীফ এক্সিকিউটিভ সাকিব মুহাম্মদ। তিনি বলেন, হালাল ফুড অথরিটিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, দক্ষ এবং অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একটি টিম রয়েছে। ফুড টেকনোলজিষ্ট, অডিটর, ইন্সপেক্টর এমনকি এনিমেল এবং পোলট্রি ওয়েলফেয়ার অফিসাররাও কাজ করছেন বলে জানান তিনি।

সাকিব মুহাম্মদ বলেন, সার্টিফিকেশন শুধুমাত্র পশু-পাখী জবাইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর পাশাপাশি বিভিন্ন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানীতে প্রস্তুতকৃত খাবার, প্যাকেজিং, সরবরাহ, বিতরণ, রপ্তানী করা হালাল উপাদান, ফ্লেভার্স, ইমালসিফাইয়ার্স, তৈল এবং চর্বি, ফার্মাসিউটিকেলস্্ এবং কসমেটিক্স প্রোডাক্টসও সার্টিফাই করা হয়। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে সংস্থাটির অনুমোদিত ১৭০টি মতো কোম্পানী রয়েছে। তন্মধ্যে বিশ্বখ্যাত ইউনিলিভার, মার্স চকলেটস্্, ক্রিসপি ক্রিম, কেএফসি, এলাইড ব্যাকারী, কিংসমিল ব্রেড ও আঙকেল বিনজ অন্যতম।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2025