আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: ফালুজার রাস্তায় পড়ে আছে লাশ। পচন ধরেছে তাতে। দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে চারদিক। ঘরে সম্ভ্রম নিয়ে নিরাপদ নন নারী। খাবার নেই। অহরহ হয়তো ফাঁসি দিয়ে না হয় শিরশ্চেদ করা হচ্ছে। জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের নৃশংসতার এমন পরিবেশ থেকে পালাতে পেরেছেন কিছু মানুষ। তারাই এসব বর্ণনা দিয়েছেন আল জাজিরার কাছে।
সম্প্রতি ফালুজা আইএসের দখলমুক্ত করার জন্য যে অভিযান সেনাবাহিনী শুরু করেছে তাতে আইএসের নিপীড়ন আরও বেড়েছে। তাদের নিপীড়ন থেকে পালাতে পারছে না মানুষ। জীবন নিয়ে কোনমতে কোন পুরুষ পালিয়ে আসতে পারলেও সেনাবাহিনী তাকে আইএস সদস্য হিসেবে টার্গেট করে। এভাবে পালিয়ে আসা অন্তত একজনকে সেনাবাহিনী ধরে নিয়ে গেছে। তার কোন খোঁজ মিলছে না। যারা পালাতে পেরেছেন তাদের ঠাঁই হয়েছে ফালুজার দক্ষিণাঞ্চলে আল হেসিই এলাকায়। এমন একজন হলেন সাফিয়া জসিম সাউদ (৫৭)।
তিনি বলেন, ফালুজা শহর থেকে পালানোর পথ খুব সহজ নয়। তা সত্ত্বেও আমাদের মতো কিছু পরিবার জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন। আমাদের অনেকে তার সন্তান বা স্বামী হারিয়েছেন। এমনকি তার সম্ভ্রমও হারিয়েছেন। দেখা দিয়েছে মারাত্মক খাদ্য সঙ্কট। আমরা শহরে অবস্থানকালীন শুকনো খেজুর খেয়েছি। খেজুরের বীজ গুড়ো করে তা দিয়ে রুটি বানিয়েছি। তার জামাইকে সেনাবাহিনী আইএস সন্দেহে ধরে নিয়ে গেছে সেনা বাহিনীর আশ্রয়ে যাওয়ার পর থেকে। তারপর কেটে গেছে তিন দিন।
কিন্তু এখনও তাকে ফিরিয়ে দেয়া হয় নি। তিনি বলেন, আইএস তাদের নিয়ম মানতে বাধ্য করছে আমাদের স্বামী বা পিতাদের। কোন নারী ঠিকমতো নিকাব না পরলে তাকে প্রহার করার নির্দেশ দিচ্ছে তারা। নির্দেশ না মানলে নেমে আসে কঠোর শাস্তি। পালিয়ে আসা হুসেইন আবদো নাসিফ (৬০) বলেন, আমাদেরকে শিরশ্চেদ প্রত্যক্ষ করতে বাধ্য করেছে আইএস। আমরা দেখেছি তারা মানুষজনকে দালানের ওপর থেকে ছুড়ে নিচে ফেলে দিচ্ছে। আমরা যে রাস্তা দিয়ে এসেঠি সেখানে পড়ে আছে অনেক লাশ।
সেগুলোতে পচন ধরেছে। কুকুর কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে তা। ফাঁসি বা শিরশ্চেদ সম্প্রচারের জন্য আইএস ফালুজার বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করেছে বিশাল সব টিভি স্ক্রিন। দাড়ি শেভ করা বা প্রকাশ্যে ধুমপান করার অপরাধে তারা মানুষকে হত্যা করছে। তাদের সঙ্গে যোগ দিতে অস্বীকার করলে তাকে হত্যা করা হচ্ছে। যারা তাদের বিরুদ্ধে যাওয়ার সাহস দেখাচ্ছে তাদেরকে হত্যা করা হচ্ছে।
মোহাম্মদ আব্বাস জাসাম (৫২) বলেন, আইএস যে কাউকেই প্রহার করে। আমরা যারা ফালুজায় ছিলাম আমাদেরকে অপমান করা হয়েছে। আমাদের মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে। তারা নারীদের প্রহার করে। নির্যাতন করে। তারা বাসা বাড়ির চারপাশে, রাস্তায় তাদের লোক নিয়োগ করেছে।
তুরাইয়া আবাউদ হাইদান (৫৪) বলেন, আমরা সেখানে বসবাস করেছি অমানবিক অবস্থায়। আমাদের খাবার কিছুই ছিল না। এমনকি আমরা ঘাস পর্যন্ত খেয়েছি। শুকনো খেজুর খেয়েছি। সেখানে কোন খাবারের সরবরাহ নেই। কোন ধরনের খাবার খুঁজে পাওয়া অসম্ভব। ফলে শহরের অনেকেই এখন বাঁচার আশা ছেড়ে দিয়েছেন।