বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৪৮

বৃহস্পতিবারের রেফারেন্ডাম নিয়ে শঙ্কিত ইইউ থেকে আসা বাঙালিরা

বৃহস্পতিবারের রেফারেন্ডাম নিয়ে শঙ্কিত ইইউ থেকে আসা বাঙালিরা

নিউজ ডেস্ক: ইউরোপিয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিভিন্ন দেশের পাসপোর্ট পাওয়ার সুবাদে অনেক বাংলাদেশি বর্তমানে যুক্তরাজ্যে এসে বসবাস করছেন। উন্নত জীবন-যাপন, ধর্ম পালনের স্বাধীনতা কিংবা সন্তানদের ইংরেজি ভাষা শিখানো- এসব বিষয় বিবেচনা করে তারা যুক্তরাজ্যে বসতি গড়েছেন।

ইইউর মুক্ত সীমান্ত নীতির কারণে তারা অবাধে যুক্তরাজ্যে এসে বসতি গড়তে সক্ষম হয়েছেন। ইইউতে থাকা না থাকা নিয়ে বৃহস্পতিবার যে গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে- তা নিয়ে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় আছেন ইইউভুক্ত দেশ থেকে আসা এসব নাগরিকরা। কেননা তারা জানেন না, যুক্তরাজ্য যদি ইইউর সদস্যপদ ত্যাগ করে তাহলে তাদের ভাগ্যে কী ঘটবে?

ইতালিয়ান বাংলাদেশি ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম মৃধা বলেন, সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তিনি ইতালি থেকে যুক্তরাজ্যে এসেছেন। কিন্তু এই গণভোটের মাধ্যমে যদি যুক্তরাজ্য ইইউ থেকে বের হয়ে যায়, তাহলে ইইউ নাগরিকদের কী হবে- সে সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। জনাব মৃধা বলছেন, সুনির্দিষ্ট করে কিছু না জানার কারণে আগাম কোনো পরিকল্পনাও করা যাচ্ছে না। যে কারণে এই গণভোটের ফলাফল কী হবে- তা ভেবে তিনি শঙ্কিত।

অনেকটা একই ধরণের আশঙ্কার কথা জানালেন পর্র্তুগাল থেকে আসা জামশেদ শাহরিয়ার। দুই বছর হল তিনি ব্রিটেনে বসবাস করছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে দুই সন্তান এবং স্ত্রীকেও ব্রিটেনে নিয়ে এসেছেন। সবকিছু করেছেন পর্তূগালের নাগরিক হিসেবে। কিন্তু যুক্তরাজ্য যদি ইইউ থেকে বের হয়ে যায়, তা নিশ্চই তাদের জন্য ভাল হবে না বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

পর্র্তুগাল থেকে আসা আরেক বাংলাদেশি শওকত ফারুক বলেন, নিজেদের ভালোর কথা চিন্তা করে যুক্তরাজ্যে এসেছেন। কিন্তু এ ধরণের পরিস্থিতি হবে সেটা তিনি জানতেন না। শুধু বাংলাদেশিরা নয়, ইইউভুক্ত দেশের অন্যান্য নাগরিকরা এই গণভোট নিয়ে একই রকম আশঙ্কায় ভুগছেন। যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৩০ লাখ ইইউভুক্ত নাগরিক বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছে। এরমধ্যে অনন্ত ২০ লাখ কর্মজীবী।

কিন্তু এদের মধ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকের সংখ্যা কত তা সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই। ধারণা করা হয় যে, ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি এসেছেন ইতালি থেকে। যা সংখ্যা হবে প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার। এছাড়া পর্তুগাল, স্পেন থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যাক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিক ব্রিটেনে এসেছেন।

এসব ইইউভুক্ত নাগরিকরা ব্রিটেনে সকল সরকারী সুযোগ সুবিধা ভোগ করলেও এদের যুক্তরাজ্যে কোনো ভোটাধিকার নেই। ফলে গণভোটেও তারা মতামত দিতে পারবেন না।

ইইউর মুক্ত সীমান্ত নীতির সুযোগ নিয়ে ইইউভুক্ত দেশের নাগরিকরা যেমন ব্রিটেনে বসবাস করছে, একই সুবিধা নিয়ে প্রায় ২০ লাখ ব্রিটিশ নাগরিক ইইউর বিভিন্ন দেশে বসবাস করছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সম্পাদিত লিসবন ট্রিয়েটির ফলে ব্রিটেন ইইউ ত্যাগ করলেও ইইউ ইমিগ্রেন্টদের ফেরত পাঠাতে পারবে না। যারা ইইউ থেকে বের হয়ে আসার পক্ষে (লিভ ক্যাম্পেইন) প্রচার চালাচ্ছেন তারাও বলছেন না যে, গণভোটের ফলাফল ইইউর বিপক্ষে যাওয়া মাত্রই তারা ইইউ ইমিগ্রেন্টদের বের করে দেবেন।

লিভ ক্যাম্পেইনের এক মূখপাত্র বিবিসিকে বলেন, এখনো পর্যন্ত যে পরিকল্পা তাতে ব্রিটেন যদি ইইউ ত্যাগ করে তবে ইইউ ইমিগ্রেন্টদের ব্রিটেনে আজীবন বসবাসের সুযোগ দেয়া হবে। কেননা প্রায় ২০ লাখ ব্রিটিশ নাগরিক ইইউ বিভিন্ন দেশে বসবাস করছে। ফলে ইইউ ছাড়লে ওইসব ব্রিটিশ নাগরিকদের ফেরত আনা কিংবা ইইউ নাগরিকদের বিতাড়নের চিন্তা কেউ করছে না। ওই মূখপাত্র বলেন, ইইউ ত্যাগ করলে নতুন ইমিগ্রেন্ট আসার ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে।

ইইউর বাইরের দেশের ইমিগ্রেন্টদের জন্য যেমন পয়েন্ট সিস্টেম রয়েছে, একই রকমের সিস্টেম তখন ইইউ নাগরিকদের জন্যও কার্যকর হবে। যারা ইতিমধ্যে ব্রিটেনে বসবাস করছেন ইইউর সদস্যপদ ত্যাগ তাদের কোনো অসুবিধায় ফেলবে না।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2025