শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: দুঃসময়ে তুরস্কের কামাল আতাতুর্ক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মঙ্গলবারের হামলা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আঙ্কারা ও ইস্তাম্বুলে সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষিতে তুরস্কের অর্থনীতি যখন টলটলায়মান তখনই নতুন করে এ হামলা হলো।
রাশিয়ার একটি বিমান তুরস্কে ভূপাতিত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রাশিয়ানদের তুরস্ক সফরে যেতে বারণ করেন। এতে সেখানকার অর্থনীতিতে বড় একটি আঘাত এসেছে। কারণ, বিপুল সংখ্যক রাশিয়ান তুরস্ক সফরে যান প্রতি বছর। এ থেকে পর্যাপ্ত রাজস্ব আয় হয় সরকারের। কিন্তু পুতিনের ওই সিদ্ধান্তে তা বলা চলে বন্ধ হয়ে গেছে। এমন সব কথা অনলাইন সিএনএনে লিখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের উডরো উইলসন সেন্টারের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক প্রোগ্রামের পরিচালক হেনরি জে. বার্কলি।
এতে তিনি লিখেছেন, প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়েছে সর্বশেষ হামলায় অংশ নিয়েছে কমপক্ষে তিন ঘাতক। তাদের কাছে ছিল স্বয়ংক্রিয় রাইফেল। তারা হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়ে নিজেরা আত্মঘাতী হয়। এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এটা বলতেই হয় এটা ছিল একটি উচ্চাভিলাষী অভিযান। হামলাকারীদের দু’জন খুব সম্ভবত ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড সিরিয়া (আইসিস বা আইএস) এবং কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদী। আইসিস গত বছরজুড়ে তুরস্কে হামলা বৃদ্ধি করেছে।
তার মধ্যে রয়েছে বেশ কিছু আত্মঘাতী বোমা হামলা। আইসিস সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা চালায় গত বছর অক্টোবরে। ওই সময় আঙ্কারায় চালানো হামলায় কমপক্ষে ১০৩ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হন। মঙ্গলবার তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইয়িলদিরিম বলেছেন, প্রাথমিকভাবে বলা যায় সর্বশেষ এ হামলায় আইসিস দায়ী। বাকি সন্দেহভাজন দুজন কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদী দল কুর্দিশ ফ্রিডম ফলকন (টিএকে)-এর সদস্য। এ গ্রুপটি কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে)-এর একটি অঙ্গ সংগঠন।
২০১৫ সালের শুরুতে শান্তি প্রক্রিয়ার একটি সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার পর কুর্দি সরকার তাদের সঙ্গে তিক্ত লড়াইয়ে লিপ্ত। এ ছাড়া টিএকে আঙ্কারা ও ইস্তাম্বুলে বেশ কিছু হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে তারা সামরিক বাহিনীকেও টার্গেটে পরিণত করে। তবে সবচেয়ে জটিল বিষয় হলো পিকেকে সংশ্লিষ্ট ডেমোক্রেটিক পার্টি (পিওয়াইডি)-এর সামরিক শাখা পিপলস প্রটেকশন ইউনিটস (ওয়াইপিজি) সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আইসিসের বিরুদ্ধে লড়াই করছে।
পিওয়াইজি নিজেদেরকে আইসিসের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর একটি একক বাহিনী হিসেবে প্রমাণ করেছে। তারা আইসিসের নিয়ন্ত্রণে থাকা মানবিজ এলাকায় আইসিসের বিরুদ্ধে অভিযানে লিপ্ত। ওয়াইপিজির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের মধ্যে টানাপড়েন আছে। কারণ ওয়াইপিজি হলো পিকেকে সংশ্লিষ্ট একটি গ্রুপ।
যখন পিকেকে ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র তুরস্কের সঙ্গে একমত হয় তখনই সিরিয়ার পিওয়াইডি ও তুরস্কের পিকেকেকে আলাদা করে দেখানো হয়। আসল সত্য হলো দু’পক্ষই একই সময়ে সঠিক এবং ভুল। যুক্তরাষ্ট্রের যেমন খুব বেশি প্রয়োজন সিরিয়ার কুর্দিদের, ঠিক তেমনিভাবে পিকেকে’কে অবৈধ করতে শঙ্কায় থাকে তুরস্ক। দৃশ্যত মঙ্গলবারের ভয়াবহ হামলা আইসিস চালিয়েছে বলেই বেশি মনে হচ্ছে। এরাই মার্চে ব্রাসেলস বিমানবন্দরে একই কাজ করেছিল।