অন্যকিছু ডেস্ক: মাটিকে ছুঁয়ে আছে না ডাব। সেই ডাবের ফলে মাটিকে প্রায় ছুঁয়ে আছে গাছও। সত্যি বনসাই আকৃতির এই নারিকেল গাছই সম্ভব করেছে ওই অসম্ভবকে। নারিকেলের এ জাতটি দেশের সব জেলায় ছড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি বিভাগ।
সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি ভিয়েতনাম থেকে ২০ হাজার চারা আমদানি করেছিল কৃষি মন্ত্রণালয়। এই চারা লাগানোর দুই বছর পরই নারিকেল ধরা শুরু হয়। দেশি জাতের চেয়ে এর ফলন প্রায় চারগুণ বেশি। ফলে দেশে নারিকেলের অভাব দূর করার জন্য আরো ৭৫ হাজার চারা আমদানির উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
সূত্র আরও জানিয়েছে, কৃষি মন্ত্রণালয় সারা বছর ফল উৎপাদনের জন্য নতুন একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এই প্রকল্পের নাম দেয়া হয়েছে ‘বছরব্যাপি ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প’। এই প্রকল্পের অধীন প্রথম ধাপে ভিয়েতনাম থেকে ২০ হাজার ওই নারিকেল চারা আনা হয়েছে। আর চারা আনা হবে বলেও সূত্র জানিয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, নারিকেলের উন্নয়নে কাজ করছে এশিয়ান প্যাসেভিক কোকোনাট কমিউনিটি। যার প্রধান কার্যালয় ইন্দোনেশিয়ায়। বর্তমানে বাংলাদেশসহ ১৮টি দেশের নারিকেল নিয়ে সংস্থাটি কাজ করছে।
এই সংস্থাটি এক জরিপ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বাংলাদেশে ৪০ কোটি নারকেল গাছ লাগানো সম্ভব। কিন্তু উন্নত জাতের নারকেল চারার সন্ধান মেলেনি। কয়েক বছর আগে ভারত থেকে একটি জাত আনা হলেও তার চারা করা সম্ভব হয়নি। কেননা সেটি ছিল হাইব্রিড জাত। এরপরই ভিয়েতনামেই এই নারিকেলে জাতটির সন্ধান পাওয়া গেল।
ওই প্রকল্পের পরিচালক বলেন, দেশে ডাবের চাহিদা পূরণে বিশেষ এই জাতটি আমদানি করা হয়েছে। বছরে দেশি একটি গাছে ৫০ থেকে ৬০টি নারিকেল ধরলেও আমদানি করা এই গাছে গড়ে ২০০টি নারিকেল ধরবে। ঝড়ে এই গাছ ভাঙার কোন ভয় নেই।