শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: অবশেষে দখলমুক্ত হলো সিলেট নগরীর ঐতিহাসিক রেজিস্ট্রি মাঠ। দীর্ঘদিন পর রোববার পুরোপুরি দখলমুক্ত হয়েছে অনেক ইতিহাসের সাক্ষী এই মাঠটি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হকারসহ অন্যরা স্ব-উদ্যোগেই নিজেদের স্থাপনা সরিয়ে নিয়েছেন। কেউ যাতে আবারও সেখানে অস্থায়ী দোকান-পাট বসাতে না পারে-সে জন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন অনেকে।
রেজিস্ট্রারী মাঠের দখল নিয়ে গত মে মাসে হকারদের সাথে দলিল লেখক সমিতির বিরোধ বাঁধে। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটেরও ডাক দেয় দলিল লেখক সমিতি।
এ অবস্থায় দু’পক্ষের বিরোধ মীমাংসায় উদ্যোগী হন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। মে’র শেষের দিকে দু’পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসে ঈদুল ফিতরের পর রেজিস্ট্রি মাঠ থেকে হকার শেডসহ অন্যান্য অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্তের কথা জানান কামরান।
তবে গত রোববার অবৈধ স্থাপনা নিজেরাই সরিয়ে নেন হকাররা। দখলমুক্ত হওয়ার দিন সোমবার দুপুরে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো: জয়নাল আবেদীন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব, সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা মাঠটি পরিদর্শন করেন।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব জানান, ঝামেলার কারণে দু’পক্ষকে মাঠ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। মাঠটির সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য তারা পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন বলেও জানান তিনি।
পাকিস্তানী আমল থেকে সিলেট শহরে রাজনৈতিক দলগুলোর বড় ধরণের সমাবেশের স্থান হিসাবে পরিচিত ছিল রেজিস্ট্রি মাঠ। এ মাঠে দাঁড়িয়ে দেশের অনেক রিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বক্তৃতা করেছেন। নব্বইয়ের দশক থেকে মাঠটি পর্যায়ক্রমে হকারদের দখলে চলে যায়।
কিন্তু কোনভাবেই সেখান থেকে হকারদের উচ্ছেদ করা যাচ্ছিল না। এ অবস্থায় মাঠটি ক্রমশ সংকুচিত হতে থাকে। কমে যেতে থাকে রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচিও।