মিন্টু চৌধুরী: পর্যটকদের বিশেষ সুবিধার সুযোগ নিয়ে আনার পর চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে থাকা ১০৬টি দামী গাড়ি নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এভাবে আনা গাড়ি জব্দে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অভিযানের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে এসব গাড়ি আর খালাস হয়নি।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল খান সোমবার বলেন, ১০৬টি বিলাসবহুল গাড়ি বন্দরে পড়ে আছে, যা কেউ খালাস করছে না। এসব গাড়ির মূল্য নির্ধারণ জটিলতা কাটিয়ে নিলামের মাধ্যমে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কার্নেট ডি প্যাসেজ’র বিশেষ সুবিধায় শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা প্রায় দেড়শ গাড়ির সন্ধান করছে শুল্ক গোয়েন্দারা। এই অভিযানের মধ্যে সোমবার চট্টগ্রামে দুটি গাড়ি ধরা পড়েছে। ২০০৯ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে পর্যটকদের বিশেষ সুবিধার সুযোগে (কার্নেট ডি প্যাসেজ) তিনশ’র বেশি বিলাসবহুল গাড়ি বাংলাদেশে এসেছে বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান মইনুল খান।
তিনি বলেন, এর মধ্যে অর্ধেক ফেরত গেলেও বাকিগুলো রয়ে গেছে। এসব গাড়ির সন্ধান চলছে।
শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আন্তর্জাতিক একটি সনদ অনুযায়ী যে সুবিধায় পর্যটকরা একটি দেশ থেকে অন্য দেশে শুল্ক না দিয়েই গাড়ি নিয়ে ঢুকতে পারেন, তাকেই কার্নেট ডি প্যাসেজ বলা হয়।
তবে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এই সুবিধা পান পর্যটকরা। এতে তাদের সংশ্লিষ্ট দেশের অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হতে হয়। নির্দিষ্ট সময় পর গাড়িটি ফেরত না গেলে সংশ্লিষ্ট দেশের নিয়ম অনুযায়ী এর উপর শুল্ক আরোপ করা হয়। এই সুবিধা নিয়ে বিএমডব্লিউ, পোরশে, রেঞ্জ রোভার, রোলস রয়েসের মতো দামী গাড়ি ২০১৩ সালের আগে বাংলাদেশে ঢুকেছিল বলে শুল্ক গোয়েন্দারা জানান।
মইনুল খান বলেন, ২০১৩ সালের পর থেকে বাংলাদেশে এ সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কার্নেট ডি প্যাসেজ সুবিধা ছাড়াও মিস ডিক্লারেশন (মিথ্যা ঘোষণায় শুল্ক ফাঁকি) দিয়েও বিলাসবহুল গাড়ি আমদানি করা হয়েছে। মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা বিনা শুল্কে গাড়ি আমদানি করতে পারেন। তাদের ক্ষেত্রে কিছু কিছু ব্যত্যয় ঘটছে বলে জানান শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।
নিয়ম অনুযায়ী, ৪০০০ সিসি’র বেশি এসব গাড়ির শুল্ক হার ৮৩৩ শতাংশ হওয়ায় আমদানিকারকদের কেউ কেউ শুল্ক ফাঁকি দিতে চান। সে কারণে বিশেষ সুবিধার সুযোগ নিয়ে এসব বিলাসবহুল গাড়ি আনা হচ্ছে বলে শুল্ক কর্মকর্তারা জানান।
মইনুল খান জানান, শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা গাড়ি জব্দে তাদের চলমান অভিযানে সারাদেশ থেকে এ পর্যন্ত ৩১টি গাড়ি ধরা পড়েছে। এর মধ্যে ২০টি গাড়ি ‘কার্নেট ডি প্যাসেজ’ সুবিধায় আনা।
চট্টগ্রামের শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা সোমবার নগরীর আমীরবাগে এক ব্যবসায়ীর বাসা থেকে একটি রেঞ্জ রোভার এবং অলংকার মোড়ের পেট্রোল পাম্প থেকে একটি পোরশে গাড়ি জব্দ করেন।
মইনুল খান সাংবাদিকদের বলেন, শুল্ক করসহ জব্দ করা গাড়ি দুটির মূল্য প্রায় ১১ কোটি টাকা। দুটি গাড়িই চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাস করা হয়েছে এবং আনা হয়েছে ইংল্যান্ড থেকে। ২০০৯ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে আনা গাড়ি দুটি কয়েক হাত বদলের পর বর্তমান মালিকের কাছে এসেছে বলে জানান শুল্ক গোয়েন্দারা।