বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৫৫

বৃটেনে আবারও অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা

বৃটেনে আবারও অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: আগামী দেড় বছরের মধ্যে বৃটেনে বড় ধরনের অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে। এমন আশঙ্কাকে সামনে রেখে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড গত সাত বছরের মধ্যে প্রথমবার সুদের হার কমিয়ে দিচ্ছে।

বলা হচ্ছে, এটা হবে সব সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন সুদের হার। বলা হচ্ছে, কর্তন করে নতুন করে সুদের হার নির্ধারণ করা হবে শতকরা ০.২৫ ভাগ। এটা এ যাবতকালের সর্বনিম্ন সুদের হার। ব্রেক্সিট গণভোটের প্রেক্ষিতে অর্থনীতিতে মন্দা দেখা দিতে পারে বৃটেনে। তারই কিছু ইঙ্গিত মিলেছে এরই মধ্যে। অনাগত সেই মন্দা পরিস্থিতিকে মোকাবিলা করতে এমন পদক্ষেপে নেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদরা সতর্কতা উচ্চারণ করেছেন। কোন কোন সূচকে বলা হয়েছে, জাতীয় প্রবৃদ্ধি পতন হবে।

ব্যাংক গভর্নর মার্ক কারনি বলেছেন, মন্দার যে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল তার কিছু কিছু লক্ষণ এরই মধ্যে স্পষ্ট হচ্ছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন দ্য স্কাই নিউজ। এতে বলা হয়েছে, অর্থনীতিবিদরা পূর্বাভাস করছেন যে, মন্দা মোকাবিলার জন্য মনিটারি পলিসি কমিটি সর্বকালের মধ্যে সবচেয়ে কম অর্থাৎ ০.২৫ শতাংশ সুদের হার নির্ধারণে ভোট দেবে।

এর আগে ২০০৯ সালে অর্থনৈতিক মন্দার প্রেক্ষিতে ওই বছর মার্চে প্রথমবার সুদের হার তখনকার সময়ে সর্বনিম্ন করা হয়েছিল। তা ছিল শতকরা ০.৫ ভাগ। এ উদ্যোগকে হয়তো স্বাগত জানাবেন ঋণ গ্রহীতারা। কিন্তু যারা অর্থ সঞ্চয় করেন তাদের জন্য দীর্ঘ এক ভোগান্তির সৃষ্টি হবে।

স্কাই নিউজ আরও বলেছে, জুনে ব্রেক্সিট ভোটের পরে ব্যাংক গভর্নর মার্ক কারনি জুলাই বা আগস্টে সুদের হার কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে বৃটেনে বছরের প্রথম অর্ধাংশে গত সপ্তাহে দেখা গেছে জাতীয় প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশিত হারে বেড়েছে। বৃদ্ধির এই হার শতকরা ০.৬ ভাগ। কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বৃটেনের বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের পর এই প্রবৃদ্ধি অর্জন এখন উল্টো পথে যেতে পারে। পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেস্ক (পিএমআই) অর্থনীতির তিনটি বড় খাতে জরিপ চালিয়েছে।

তাতে দেখা গেছে গত মাসে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড রেকর্ড পরিমাণ কমে গেছে। এতে বৃদ্ধি পেয়েছে অর্থনৈতিক মন্দার আতঙ্ক। বিশেষ করে ২০১২ সালের পর সার্ভিস সেক্টরে হতাশার ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে এতে।

পিএমআই বলেছে, বছরের তৃতীয় চতুর্থাংশে জাতীয় প্রবৃদ্ধির পতন হতে পারে শতকরা ০.৪ ভাগ। মারকিট নামের সংস্থার প্রধান ক্রিস উইলিয়ামসন সতর্কতা উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, গবেষণার ফল নিঃসন্দেহে হালকা একটি অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকি বাড়িয়েছে। এতে পর পর দু’টি কোয়ার্টারে জাতীয় প্রবৃদ্ধি পতনের কথা বলা হয়েছে।

তবে ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল রিসার্চের (এনআইইএসআর) তার পূর্বাভাষে বলেছে, আগামী দেড় বছরের মধ্যে অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকি ৫০/৫০। এনআইইএসআর-এর রিসার্চ ফেলো জ্যাক মিনিং বলেছেন, ব্যাংকগুলোর উচিত অর্থনৈতিক মন্দার বিষয়ে প্রস্তুতি নেয়া। ব্যাংক গভর্নর মার্ক কারনি মে মাসেই সতর্ক করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ব্রেক্সিট গণভোটের ফলে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে।

তিনি বলেছেন, আগে যেসব লক্ষণের কথা বলা হয়েছিল তার অনেকটাই এখন সামনে আসতে শুরু করেছে। বিস্ময়করভাবে অর্থনৈতিক বাজার নীরব হয়ে গেছে। পাউন্ডের দাম পড়ে গেছে। ভোক্তাদের আস্থা দ্রুত পতন হয়েছে। বাণিজ্যিক ও আবাসন বিষয়ক বাজারে টান দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বাড়ির মালিকানা কমে গেছে ব্যাপকভাবে।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2025