রবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ১১:১১

আনন্দবাজারের রিপোর্ট: খালি হাতেই ফিরছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আনন্দবাজারের রিপোর্ট: খালি হাতেই ফিরছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

 

 

 

 

 

 

 

 

 

নিউজ ডেস্ক: ঢাকা ভাল করেই জানে স্থলসীমান্ত চুক্তি ভারতীয় সংসদে পাস করানোর প্রকৃত চাবিকাঠি রয়েছে বিজেপি নেতৃত্বের হাতে। সে অনুযায়ী শুক্রবার রাজ্যসভার প্রধান বিরোধী নেতা অরুণ জেটলির সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করলেন দীপু মনি। কিন্তু বরফ গললো না। দীপু মনির আবেদনে ইতিবাচক সাড়া দেননি জেটলি। বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে কার্যত খালি হাতেই দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়।

আনন্দবাজারের একই রিপোর্টে আরো বলা হয়, অরুণ জেটলির এ ব্যাপারে তাৎক্ষনিক কোন মন্তব্য না করে দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে জানাবেন বলে জানান। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন দীপু মনি। ইফতার সেরেছেন বিদেশমন্ত্রী সালমন খুরশিদের সঙ্গে। সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হলেও স্বাভাবিকভাবেই মুখ্য বিষয় ছিল তিস্তা ও স্থলসীমান্ত চুক্তি। নৈশভোজেও বিষয়গুলো নিয়ে সলমন খুরশিদেরও সঙ্গে কথা হয়েছে দীপু মনির। দীপু বললেন, গণতন্ত্রে এটা সর্বত্রই দেখা যায়, যে কোন বিষয় নিয়ে বিভিন্ন বিরুদ্ধমত তৈরি হচ্ছে। আবার এমন এক-একটা সময় আসে, যখন জাতীয় স্বার্থের কথা মাথায় রেখে ক্ষুদ্র স্বার্থকে ঝেড়ে উঠে দাঁড়াতে হয় আমাদের। আশা করবো ভারতের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সেটা করবেন। কিন্তু তিস্তার জল গড়ায়নি, সীমান্ত নিয়েও জট ছাড়ার কোন ইঙ্গিত মেলেনি।

জেটলি-দীপু মনি বৈঠকের পর বিজেপি সূত্রের বক্তব্য, যদিও এটি বিদেশনীতির বিষয় এবং তারা বাংলাদেশবিরোধীও নন, তবু সীমান্ত চুক্তির প্রশ্নে সরকারের আনা বিলটিকে সমর্থন করার সম্ভাবনা অদূর ভবিষ্যতে নেই। বিজেপির এক নেতার কথায়, ‘বাংলাদেশের ভোট তো আমাদের উদ্বেগের বিষয় হতে পারে না!’ বৈঠকের পর দীপু মনি অবশ্য জানিয়েছেন, তিনি আশাবাদী ভারত দ্রুত তাদের ‘অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া’ শেষ করবে। ভারতের জনপ্রতিনিধিদের প্রতি তার আহ্বান, গত সাড়ে চার বছরে দু’দেশের মধ্যে যে অগ্রগতির সুফল পাওয়া গেছে, এবার তার ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে তারা কিছু করে দেখান। তার কথায়, জেটলির সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।

তিনি জানিয়েছেন, ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রশ্নে তার দলের সমর্থন রয়েছে। ভারতীয় সংসদে স্থলসীমান্ত চুক্তি সমর্থন করার জন্য আমি জেটলিকে অনুরোধ করেছি। তিনি জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে সতীর্থদের সঙ্গে কথা বলে তার পর জানাবেন।’ বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সূত্র সীমান্ত চুক্তি ও তিস্তা দু’টি বিষয় নিয়েই মুখ খুলেছে। সূত্রের বক্তব্য, ‘স্থলসীমান্ত চুক্তির বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এবং দীপু মনির কথা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, এ বিলটি সংসদের আসন্ন বর্ষাকালীন অধিবেশনে পেশ করা হবে।’ পাশাপাশি তিস্তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় সূত্রের বক্তব্য, ‘বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে, ভারত সরকার এ বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য তৈরির চেষ্টা করছে। তিস্তা নিয়ে দু’দেশ তথ্য-পরিসংখ্যান ভাগ করে নিচ্ছে। বৈঠকের পর কিছুটা হতাশা ছিল দীপু মনির গলায়। এ দু’টি চুক্তি ফলপ্রসূ না হলে বাংলাদেশের নির্বাচনে কি তার প্রভাব পড়বে না?

এ প্রশ্নের উত্তরে বিদেশমন্ত্রী জানিয়েছেন, চুক্তিগুলো সম্পন্ন না হলে তা অবশ্যই হতাশাজনক হবে। তার পরিণামও দেশে পড়তে পারে। কিন্তু মানুষ তো দেখেছেন, আগের সরকার এ বিষয়গুলোতে আদৌ উদ্যোগীই হয়নি। এগুলো তো আজকের বিষয় নয়, দশকের পর দশকজুড়ে ঝুলে রয়েছে। হাসিনা সরকার যে এ চুক্তিগুলোর একেবারে অন্তিম পর্যায়ে নিয়ে এসেছে, আশা করি সেটা এখন সবাই বুঝবেন।

 




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2024