শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: পারমাণবিক প্রকল্প নিয়ে শীতল অবস্থার মধ্যে চীনের প্রেসিডেন্ট সি জিনপিং ও প্রধানমনত্রী লি কেকিয়াংয়ের কাছে চিঠি লিখেছেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। এতে দু’দেশের বাণিজ্য ও সহযোগিতা উন্নত করার প্রত্যয় জানিয়েছেন তিনি।
তেরেসা মে বলেছেন, তিনি চীনের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করতে চান। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে বলা হয়, ইংল্যান্ডের সমারসেটে হিঙ্কলে পয়েন্টে একটি পারমাণবিক প্রকল্পে ২৪০০ কোটি ডলার অর্থায়ন করতে চেয়েছিল চীন। কিন্তু নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে তা বিলম্বিত করা হয়েছে। এ নিয়ে লন্ডন ও চীনের মধ্যে এক ধরণের শীতলতা আছে। বিতর্ক আছে।
চীনের অর্থায়ন এভাবে আটকে দেয়ায় বৃটেনের বিরুদ্ধে চীন সতর্কতা অবলম্বন করছে। বিশেষ করে গত মাসে ওই পারমাণবিক প্রকল্পে চীনের অর্থায়ন প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে বিলম্বিত করায় দু’দেশের সম্পর্ক সঙ্কটময় এক অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় সোমবার দিনশেষে একটি বিবৃতি দিয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
তারা বৃটিশ একজন দূতকে উদ্ধৃত করে বলেছে, চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’কে বলা হয়েছে, সিনো-বৃটিশ সহযোগিতার বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছে বৃটেন। ওয়াং ই’কে ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিসে পার্লামেন্টারি আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট অলোক শর্মা বলেছেন, চীনা প্রেসিডেন্ট সি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংকে চিঠি লিখেছেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে।
এতে তিনি আগামী মাসে চীনে অনুষ্ঠেয় জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। ওই চিঠি উল্লেখ করে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ব্যবসা, বাণিজ্য ও বৈশ্বিক ইস্যুগুলো নিয়ে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা শক্তিশালী করতে চায় বৃটেন। জবাবে অলোক শর্মাকে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, চীনের প্রতি বৃটেন মুক্ত নীতি অবলম্বন করবে বলে মনে করে চীন। টুইটারে অলোক শর্মা বলেছেন, ওয়াং ই’র সঙ্গে তার প্রথম বৈঠক ছিল ‘গ্রেট’।
ওদিকে তেরেসা মে’র পূর্বসুরী ডেভিড ক্যামেরন বলেছেন, বৃটেন যে বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত হিঙ্কলে পয়েন্ট প্রকল্প তারই প্রতীক। কিন্তু চীনা বিনিয়োগ নিয়ে নিরাপত্তা বিষয়ে খুব বেশি উদ্বিগ্ন তেরেসা মে। এ জন্য তিনি প্রকল্প নিয়ে রিভিউ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে প্রকল্পটি চালু করার দাবি জানিয়েছে চীন। এ প্রকল্পে ফ্রান্সের ইডিএফ নামের দুটি পারমাণনিক চুল্লী বসানোর কথা। এর আংশিক অর্থায়ন করার কথা চীনের রাষ্ট্রীয় কোম্পানি চায়না জেনারেল নিউক্লিয়ার পাওয়ার করপোরেশনের। এ প্রকল্প নিয়ে বৃটেন ও ফ্রান্সের ইডিএফ-এর মধ্যে প্রথম বাণিজ্যিক চুক্তি হয় ২০১৩ সালে। এর দু’বছর পরে এর সঙ্গে যুক্ত হয় চীন।
ওই সময় চীনের প্রেসিডেন্ট সি জিনপিংকে বৃটেন সফরের সুযোগ করে দেয় ডাউনিং স্ট্রিট। তার ওই সফরকে দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কের স্বণালী যুগ বলে আখ্যায়িত করা হয়। ওই প্রকল্পে চায়না জেনারেল নিউক্লিয়ার পাওয়ারের এক তৃতীয়াংশ শেয়ারের মালিকানা থাকার কথা।
বৃটেনে ব্রেক্সিট পরবর্তী নতুন সরকার এ প্রকল্প নিয়ে কাজ শুরুর আগে আরও সময় চেয়েছে। বৃটিশ সরকারের এমন সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান প্রকাশ করেছে চীনা ওই কোম্পানি।