শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: আপিল কোর্টের রায়ে হতাশ জেরেমি করবিনের উদ্যোগে গঠিত সংগঠণ মোমেন্টামের সদস্য ও সমর্থকেরা।
গত বছর লেবার পার্টির লীডার নির্বাচনের পর মোমেন্টাম নামের সংগঠণটি গঠিত হয়। ওই নির্বাচনে অবিসংবাদিতভাবে বিজয়ী হয়েছিলেন এমপি জেরেমি করবিন।
হাইকোর্টের রায়ে লেবার পার্টির লিডারশীপ নির্বাচনে ভোটাধিকার ফিরে পেয়েও আপিল কোর্টের রায়ে আবারও সেই অধিকার হারিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছে জেরেমি করবিনের উদ্যোগে গঠিত সংগঠণ মোমেন্টামের সদস্য ও সমর্থকেরা।
টাওয়ার হ্যামলেটস মোমেন্টামের মুখপাত্র এহতেশাম হক বলেন: এ বছর হাজার হাজার লোক সরল বিশ্বাসে লেবার পার্টিতে যোগ দিয়েছেন। লেবার পার্টির মূল্যবোধের প্রতি সমর্থন জানিয়ে টরি সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রচারণায় অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে তাঁরা লেবার পার্টিতে যোগ দেন।
গত বছর একই ধরণের লোকদের লিডারশীপ নির্বাচনে ভোট দিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। অথচ চলতি বছর তাদেরকে উদ্যেশ্যমূলকভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। নতুন এই পরিবর্তন কেন আনা হলো এই বিষয়ে এনইসি কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি।
এর ফলে পর্যবেক্ষকরা আশঙ্কা করতে পারেন যে, জেরেমি করবিনের সমর্থকদের বাদ দিয়ে লিডারশীপ নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবান্বিত করার চেষ্টা করছে লেবার পার্টির এনইসি।
মোমেন্টামের টাওয়ার হ্যামলটেস শাখা থেকে প্রচারিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আপিল আদালতের রায়ে হতাশা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, গত বছরের লিডারশীপ নির্বাচনের নিয়ম আর সাম্প্রতিক নির্বাচনে ভোটদানের যোগ্যতায় ভিন্নতা থাকলেও আপিল আদালত সেই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
গত বছর অনুষ্ঠিত লিডারশীপ নির্বাচনে দলের নতুন সদস্যরা ভোট দিতে পেরেছিলেন, কিন্তু চলতি বছরের নির্বাচনে নতুন সদস্যদের ভোট দেওয়ার অধিকার কেড়ে নিয়েছে লেবার পার্টির ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটি( এনইসি)।
লেবার পার্টির ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটির ভূমিকা ও আপিল আদালতের রায়কে লেবার পার্টির অভ্যন্তরে গণতন্ত্র চর্চার ইতিহাসে বেদনাদায়ক ঘটনা হিশাবে বর্ণনা করেছেন টাওয়ার হ্যামলেটস মোমেন্টামের মুখপাত্র ইহতিশাম হক।
সাম্প্রতিক লিডারশীপ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার চেয়ে দলের যে পাঁচ জন সদস্য আদালতে গিয়েছিলেন, আপিল আদালত তাঁদের আবেদন নাকচ করে দিয়েছে। ওই পাঁচ সদস্য হলেন ক্রিস্টিন ইভানজেলো , রিভারেন্ড এডওয়ার্ড মুঙ্গো লিয়ার, হানা ফোর্ডহ্যাম, ক্রিস গ্র্যাঙ্গার এবং অনুর্ধ্ব ১৮ বছরের লেবার পার্টির একজন সদস্য।
লেবার পার্টির পাঁচ সদস্য মূলত: লেবার পার্টির বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়েই আদালতে গিয়েছিলেন। অভিযোগকারীদের সকলেই চলতি বছর লেবার পার্টিতে যোগ দিয়েছেন। লিডারশীপ নির্বাচনে ভোটদান সহ দলের সদস্য হিশাবে সব ধরণের কর্মকান্ডে জড়িত থাকার আশা ছিল তাঁদের।
কিন্তু লেবার পার্টির কেন্দ্রীয় কার্য্যনির্বাহী কমিটি (এনইসি) সিদ্ধান্ত দেয় যে, চলতি বছরের ১২ জানুয়ারির আগে যারা দলের সদস্য পদ গ্রহণ করেছেন, কেবল তাঁরাই লিডারশীপ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। অথচ গত বছর অনুষ্ঠিত লিডারশীপ নির্বাচনে এবারের চেয়ে অপেক্ষাকৃত নতুন সদস্যরাও ভোট দিয়েছেন।
হাইকোর্ট তাদের রায়ে চুক্তি ভঙ্গের বিষয়টিকে আমলে নিয়ে পাঁচ অভিযোগকারীর পক্ষে রায় দিয়েছিল। লেবার পার্টির রুল বুকে লিখিত নিয়মাবলীই হচ্ছে দলের সদস্য ও লেবার পার্টির মধ্যকার চুক্তি।
অর্থাৎ তাঁদেরকে ভোটদান থেকে বঞ্চিত করলে সেটি হবে চুক্তিভঙ্গের শামিল। রুল বুক ছাড়াও লেবার পার্টির অন্যান্য প্রচারপত্রেও গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করা আছে যে, দলের সদস্যরা লিডারশীপ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন।
এসব কারণেই হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছিল, লেবার পার্টির ওই পাঁচ সদস্যকে লিডারশীপ নির্বাচনে ভোট দেওয়া থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। কিন্তু লেবার পার্টির রুল বুকে লিখিত অপর একটি নিয়মের ভিত্তিতে হাইকোর্টের রায় বাতিল করে দিয়েছেন আপিল আদালত।
রুল বুকে লেখা আছে, লেবার পার্টির কেন্দ্রীয় কার্য্যনির্বাহী কমিটি (এনইসি) লিডারশীপ নির্বাচনের নিয়মাবলী পৃথকভাবে প্রণয়ণ করতে পারবে। এই নিয়মের আওতায় এ্নইসি একটি তারিখ নির্দিষ্ট করে দিয়ে সেই তারিখের আগে যারা সদস্য হয়েছেন তাঁদেরকে লিডারশীপ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য হিশাবে ঘোষণা করতে পারে। এই নিয়মের আওতায় আপিল আদালত পাঁচ অভিযোগকারীর আবেদনের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন।