রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:৩৫

সিন্ডিকেটের কারসাজিতে লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি

সিন্ডিকেটের কারসাজিতে লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি

নিউজ ডেস্ক: চিনির দাম যখন বাড়ছে তখন স্বস্তি নেই তেতোতেও। কারণ তেতোর প্রধান উপকরণ লবণ বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুণ দামে।

শুধু তাই নয়-চাল, ডাল, ভোজ্যতেল এবং পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাচ্ছে। কোরবানি সামনে রেখে বিভিন্ন ধরনের মসলার দামও বেড়ে গেছে ইতোমধ্যে। লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে সংকটে নিম্ন আয়ের মানুষ। ভোক্তাদের জিজ্ঞাসা-আন্তর্জাতিক বাজারে যখন মূল্য কমছে তখন কেন বাংলাদেশে এসব পণ্যের দাম বাড়ছে?

বে এসব প্রশ্নের সঠিক কোন উত্তর নেই সংশ্লিষ্টদের। তাদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এসব সিন্ডিকেট চক্রের কারসাজি, জিম্মি হয়ে পড়ছে প্রশাসন। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে সিন্ডিকেট চক্র কি তাহলে সরকারের চেয়েও বেশি শক্তিশালী?

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুর্বল বাজার মনিটরিং, প্রতিযোগিতা কমিশন গঠন করা হলেও তা কার্যকর না হওয়া, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে যে আইন রয়েছে তা প্রয়োগ না হওয়া, ভ্রাম্যমাণ আদালত নিষ্ক্রিয় থাকা এবং পণ্যমূল্যের তালিকা প্রদর্শন না করার সুযোগ নিচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা।

তাই দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বাজার মনিটরিং টিম শক্তিশালী করার সঙ্গে সঙ্গে সরকার নিয়ন্ত্রিত সংস্থা টিসিবিকে শক্তিশালী করার পরামর্শ রয়েছে তাদের।

ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ টিসিবি’র তথ্যমতে, গত এক বছরে চিনির দাম বেড়েছে ৭০ শতাংশ এবং ৪৭ শতাংশ বেড়েছে ভোজ্য লবণের দাম। আর ওই সময়ে জাত ও মানভেদে ৭ থেকে ২৮ শতাংশ বেড়েছে ডালের দাম, ভোজ্যতেল ৮ শতাংশ এবং জাত ও মানভেদে চালের দাম বেড়েছে ২ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত। কোরবানি সামনে রেখে পেঁয়াজের দাম এখন বাড়লেও সারাবছর দাম নিয়ে তেমন কোন হৈ-চৈ পড়েনি।

বরং গত এক বছরে পেঁয়াজের দাম ৫৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তবে রসুনের দাম বেড়েছে ৮৩ শতাংশ পর্যন্ত ।

চিনি ভোজ্যতেল ও লবণের দাম বেশি নেয়া হচ্ছে ॥ পণ্যের দর ও জাহাজ ভাড়া মিলিয়ে এক কেজি চিনির উৎপাদন খরচ পড়ে ৪৬ টাকা। গত জুনে ইউনাইটেড সুগার মিলস অপরিশোধিত চিনি আমদানি করেছে প্রতিটন ৩২০ ডলার দরে। এসব দরে আমদানি করা চিনি বর্তমানে দেশের বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা কেজি দরে।

অথচ আমদানি ব্যয়, পরিশোধন খরচ এবং সরকারের শুল্ককর ও ভ্যাট পরিশোধসহ প্রতিকেজি চিনিতে খরচ পড়ে ৫০ থেকে ৫২ টাকা। প্রতিকেজিতে পাইকারি ব্যবসায়ী বা পরিবেশক এবং খুচরা ব্যবসায়ীদের দুই ও তিন টাকা করে লাভ ধরলে কেজিপ্রতি দর হওয়ার কথা ৫৫ থেকে ৫৭ টাকার মধ্যে।

কিন্তু কারসাজি করে সেই চিনি এখন বিক্রি করা হচ্ছে ৭০-৭৫ টাকায়। এ নিয়ে দ্রব্যমূল সংক্রান্ত এক বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে, গত মাসের শেষের দিকে দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের দাম লিটারে দুই থেকে চার টাকা বাড়িয়ে দিয়েছেন মিল মালিকরা। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার অজুহাতে এ কাজ করেছেন তারা। সরকারী প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, গত শুক্রবার প্রতিলিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ছিল ৯৪ থেকে ৯৮ টাকা।

এছাড়া সয়াবিন তেল লুজ প্রতিলিটার ৮২-৮৫ টাকা বিক্রি হয়েছে। ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদনে ভোজ্যতেলের এই মূল্য বৃদ্ধিকে অযৌক্তিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

টিসিবির তথ্যমতে, বাজারে প্রতিকেজি পরিশোধিত লবণের দাম এখন ২৫ টাকা থেকে ৩৮ টাকা পর্যন্ত। গত বছর এই সময়ে প্রতিকেজি লবণের দাম ছিল ১৫ থেকে ২৮ টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে লবণের দাম বেড়েছে ৪৭ শতাংশ।

এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে গত এক মাসের ব্যবধানে মসুর ডালের দাম ৩৫ শতাংশ কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে টনপ্রতি মসুর ডালের দাম ছিল ৫০ হাজার ৪৪০ টাকা। গত মাসের এই দিনে টনপ্রতি মসুর ডালের আন্তর্জাতিক দর ছিল ৭৭ হাজার ৯০৭ টাকা। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক বাজারে মসুর ডালের দর কমেছে ৩৫ দশমিক ২৫ শতাংশ।

আর গত এক বছরের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক বাজারে মসুর ডালের দর কমেছে ২৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ। কিন্তু দেশের বাজারে গত এক মাসে দাম এক টাকাও কমেনি। বছরওয়ারি হিসাব করলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রায় ২৪ শতাংশ দরপতন হলেও দেশের ভেতরে দাম বেড়েছে প্রায় ৭ থেকে ২৮ শতাংশ পর্যন্ত।

এছাড়া কোরবানি ঈদ সামনে রেখে ইতোমধ্যে পেঁয়াজসহ মসলা জাতীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। যদিও গত এক বছরে পেঁয়াজের দাম হ্রাস পেয়েছে। বর্তমান প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৫-৪৫ টাকা। এছাড়া চালের দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ৫ – ৭ টাকা।

 




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2025