শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পাশাপাশি ইতিহাস বিকৃতিকারী ও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিচারের দাবিতে নতুনভাবে সোচ্চার হচ্ছে গণজারণ মঞ্চ। অন্যদিকে, বিকেলে ইমরান এইচ সরকারের গ্রুপ সমাবেশ করার কথা রয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড-এর সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্মের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান জানান, তারা এতদিন গণজারণ মঞ্চের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকার তাদের দাবির প্রতি সমর্থন দিয়ে ঘাতকদের বিচার করছে। এখন তারা যুদ্ধাপরাধীদের মতো ভয়ঙ্কর ইতিহাস বিকৃতিকারীদেরও বিচার চান। তাই, তারা এ দাবি নিয়ে জনমত গড়ে তোলার জন্য এ কার্যক্রম শুরু করেছেন।
তিনি বলেন, তারা প্রাথমিকভাবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)’র কাছ থেকে ১০ দিনের অনুমতি নিয়েছেন। পরবর্তীতে প্রয়োজনে বৈঠক করে সময় বাড়ানো হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সংগঠিত গণজাগরণ মঞ্চের আর তাদের মাঝে বিভেদ আছে কিনা জানতে চাইলে মেহেদী হাসান বলেন, আল্টিমেটলি, আমাদের দাবি এক। আমরা সে দাবির প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। যারা গণজারণের আন্দোলন করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। মূলত, আমরাই গণজারণ মঞ্চে কাজ করেছি। সমন্বয় করেছি।
তাদের এ নয়া আন্দোলন কতটুকু জনসমর্থন পাবে বা জাগরণ তৈরি করতে পারবে এ প্রশ্নের জবাবে এ উদ্যোক্তা বলেন, গণজারণ মঞ্চের সাম্প্রতিক সংকটের কারণে মানুষের মনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তারপরও আমরা মনে করি, সবাইকে নিয়ে নব জাগরণ সৃষ্টি করতে পারবো। আমি সব প্রতিষ্ঠানকে সহযোগিতা করার জন্য আহ্বান জানাবো। একই কথা বলেছেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সাধারণ সম্পাদক শেখ লিপন আহমেদ দিপু, যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ আবদুস সামাদ সুমন, মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্মের মহাসচিব সেলিম রেজা।
রোববার সন্ধ্যায় সরেজমিন দেখা গেছে, শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের বুথের স্থানে সংগঠন দুটি স্টল তৈরি করে তাদের স্বাক্ষর অভিযান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এতে কিছুক্ষণ পর পর লোকজন এসে তার অনুভূতি ব্যক্ত করে স্বাক্ষর করে যাচ্ছেন। স্বাক্ষর বই খুলে দেখা গেছে, প্রায় পাঁচ শতাধিক স্বাক্ষর সংগ্রহ হয়েছে।
গণজারণ মঞ্চের সাম্প্রতিক সংকটের কারণ জানতে চাইলে তারা ইমরান এইচ সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, আমরা মিটিং করে সিদ্ধান্ত করি একটা, আর ইমরান জনসম্মুখে এসে ঘোষণা দেয় আরেকটা। তার (ইমরান) বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেন ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ আছে। বিভিন্ন সময় মঞ্চ থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করার ঘটনাও ঘটেছে। রানা প্লাজার দুর্ঘটনার সময় বিভিন্নভাবে আসা কোটি কোটি টাকা ও তিন ট্রাক ওষুধ সামগ্রী কোথায় গেছে, তারও সদুত্তর পাওয়া যায়নি।
এর আগে ৩ এপ্রিল দ্বিধাবিভক্ত হয় গণজারণ মঞ্চ। শাহবাগে প্রজন্ম চত্বরে মারামারির ঘটনাও ঘটে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। একই দিন একপক্ষ অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা করে। এর মধ্যে ইমরান এইচ সরকারের নেতৃত্বাধীন গ্রুপ প্রতিপক্ষের সাতজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দেয়। অপরদিকে, মেহেদী হাসান বাদী হয়ে ইমরান এইচ সরকার, বাঁধন ও জয়সহ কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন। এতে দুপক্ষই জামিন নিয়ে বাইরে আছেন। পরে ৪ এপ্রিল দু’পক্ষের প্রতিবাদ সমাবেশ পুলিশি বাধায় পণ্ড হয়ে যায়। পহেলা বৈশাখেও একপক্ষের এ গণস্বাক্ষর কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা থাকবে।
গণজারণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রচণ্ড হৈচৈ। আওয়াজ, কথা বোঝা যাবে না। পরে রাতে ফোন দেবেন বলে জানান তিনি। পরে রাতে বার বার চেষ্টা করেও ফোন করে ও এসএমএস পাঠিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গণজারণ মঞ্চের স্লোগান কন্যা খ্যাত লাকী আক্তার বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের মধ্যকার অনৈক্যের সুযোগ নিচ্ছে আওয়ামীমনা একটি গ্রুপ। এ কারণে মূলত জামায়াত-শিবিরই লাভবান হচ্ছে। এজন্য আমরা চেষ্টা করছি আবারও সমন্বয় করতে, নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করতে। এ জন্য আলোচনা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। লাকী বলেন, যারা এখন গণস্বাক্ষর কর্মসূচি চালাচ্ছেন, তাদের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক আছে কিনা তা অবজারভ করছি।