রবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ০২:০২

সীমান্ত ও তিস্তা চুক্তি নিয়ে কেন্দ্রের সমালোচনা মমতার

সীমান্ত ও তিস্তা চুক্তি নিয়ে কেন্দ্রের সমালোচনা মমতার

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

অদূর ভবিষ্যতে স্থল সীমান্ত ও তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে চুক্তি হওয়ার কোন পথই খোলা রইলো না। সব রকম সম্ভাবনাতেই পানি ঢেলে দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত শনিবার রাতে তার ফেসবুকে মমতা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা না করে আমাদের জমি ও পানি বাংলাদেশকে দেয়ার ব্যাপারে ভারত সরকারের এত তাড়াহুড়া করার কারণ কি?

মমতা বলেছেন, আগে ত্রিপুরা ও আসামের জমি সংশ্লিষ্ট দেশকে দিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থ নিয়ে এই ধরনের সমঝোতা কিছুতেই করতে দেয়া হবে না। তার বক্তব্য, রাজ্যের সম্মতি ছাড়া বাংলাদেশকে জমি তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া খুবই কষ্টকর।

মুখ্যমন্ত্রী মনে করেন, ছিটমহলের বাসিন্দাদের মতামত না নিয়ে জমি হস্তান্তরে তার সায় নেই। তিনি আরও বলেছেন, তিস্তা চুক্তির ক্ষেত্রেও ভারত সরকার খসড়ায় যা বলেছিল তা পরবর্তী সময়ে মূল চুক্তিতে পাল্টে গিয়েছিল। তাই রাজ্যের স্বার্থেই তিনি তিস্তা চুক্তি থেকে সরে এসেছিলেন। ভারত সরকারের উদ্দেশ্যে মমতার পরামর্শ দেশের মানুষের স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে অনুসরণ করা দরকার।

মমতা অবশ্য জানিয়েছেন,  বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ এবং ভাল সম্পর্ক রাখার আমরা পক্ষপাতী। কিন্তু রাজ্যের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে তা কোনমতেই নয়। মমতা গত শনিবার স্পষ্ট করে তার আপত্তির কথা জানালেও অতীতে স্থল সীমান্ত চুক্তির ক্ষেত্রে এরকম ভাবে আপত্তি জানান নি। বরং চার দিন আগেই তিনি বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি তৈরি করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সলমান খুরশিদের সঙ্গে আলোচনার নির্দেশ দিয়েছিলেন। গত শনিবার সেই আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেই বৈঠক হয় নি।

এদিকে বিজেপিও স্পষ্ট করে স্থল সীমান্ত চুক্তিতে সমর্থন না দেয়ার কথা জানিয়ে দিয়েছে। অথচ বিজেপি’র শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ভারত সরকার সমর্থনের ব্যাপারে একটা সমঝোতায় পৌঁছেছিল। সেই মতোই রাজ্যসভায় সংবিধান সংশোধনী বিলটি তোলার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু শনিবার আসামের এমপিদের সঙ্গে নিয়ে স্পষ্ট করে বিজেপি নেত্রী সুষমা স্বরাজ জানিয়ে দিয়েছেন, তারা স্থল সীমান্ত চুক্তিতে সমর্থন জানাবেন না। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের এবং অন্যদিকে বিজেপির আপত্তিতে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং প্রবল অস্বস্তিতে পড়েছেন। কূটনৈতিক দায়বদ্ধতা রক্ষার ক্ষেত্রে তিনি ব্যর্থই হয়েছেন। শেখ হাসিনা সরকার যেভাবে জঙ্গি দমনে ভারতের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল তার কোন প্রতিদানই ভারত সরকার দিতে পারে নি। রাজনীতির টানাপড়েনের শিকার হতে হচ্ছে কূটনীতিও।

সূত্র: মানবজমিন।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2024