রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৩

কারাগার থেকে পালানো দরিদ্রতম প্রেসিডেন্টের কাহিনী

কারাগার থেকে পালানো দরিদ্রতম প্রেসিডেন্টের কাহিনী

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: রাজনীতিবিদ আর তাদের যারা নেতা বানান তাদের জীবনে প্রায়ই মিল থাকে না। তবে উরুগুয়ের ক্ষেত্রে একথা সত্য নয়। দেশটির প্রেসিডেন্ট হোসে আলবার্টো পেপে মুজিকা সত্যিই এক ব্যতিক্রমী রাজনীতিবিদ। যাকে পৃথিবীর সবচেয়ে গরিব প্রেসিডেন্ট মনে করা হয়। যিনি তার বেতনের ৯০ ভাগই দান করে দেন গরিব মানুষের জন্য। প্রেসিডেন্ট ভবন নয়, স্ত্রী টপলোনাস্কিকে নিয়ে বাস করেন একটি সাধারণ খামার বাড়িতে। নিঃসন্তান এই দম্পতি প্রেসিডেন্ট অফিসের কোন স্টাফও ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেন না। খামার বাড়ির কাজ করেন নিজেরাই। প্রেসিডেন্টের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত গাড়িটিই সাক্ষ্য দেয় তার সাধারণ জীবন যাপনের।

লন্ডনের ম্যাগাজিন ইকোনমিস্টের ভাষায়, হোসে মুজিকা এমন এক জন সাবেক গেরিলা নিজ বাগানে যিনি ফুল উৎপাদন করে চলছেন। আর তিনি নিজে ভালোবাসার মধ্যেই দেখেন সব সংকটের সমাধান। গেরিলা যোদ্ধা মুজিকার জীবন সংগ্রামের কাহিনী আসলেই দীর্ঘ। ২০১০ সালের ১লা মার্চ উরুগুয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মত যখন কোন গেরিলা প্রেসিডেন্ট ভবনে প্রবেশ করলেন তখন তার প্রতি প্রত্যাশার পারদ ছিল অনেক উপরে। সে প্রত্যাশা পূরণে নিরন্তর কাজ করে চলছেন তিনি।

১৯৩৫ সালের ২০শে মে খুবই দরিদ্র এক পরিবারে জন্ম নিয়েছিলেন মুজিকা। তার বাবা ছিলেন ছোট চাষী। খুব ছোট বেলাতেই মুজিকা তার পিতাকে হারান। ১৯৬০ সালে মুজিকা যোগ দেন তুপামারস আন্দোলনে। কিউবাতে সমাজতান্ত্রিক বিল্পবের দ্বারা যে আন্দোলন অনুপ্রাণিত ছিল। উরুগুয়ের সামরিক আদালতে তার কারাদন্ডের রায়ও হয়। গেরিলা জীবনে মোট চার বার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। কারাগারে কাটিয়েছেন জীবনের ১৪ বছরেরও বেশি সময়। গুলিবিদ্ধ হন ছয় বার। ১৯৭১ সালে কারাগার থেকে পালিয়ে যান। যদিও পরে আবার তাকে ধরা দিতে হয়। ১৯৮৫ সালে যখন উরুগুয়ে সাংবিধানিক শাসন ব্যবস্থায় ফিরে তখন মুক্ত জীবনে ফিরে আসেন মুজিকা। এরপর তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

রাজনীতিতে একের পর এক সাফল্য ধরা দেয় তার হাতে।  নিজের সাধারণ জীবন যাপন নিয়ে মুজিকার কথা অসাধারণ। তিনি বলেন, আমি আমার জীবনে সবচেয়ে ভালোভাবে বাস করছি এখন। আমার যা আছে আমি তা-ই নিয়ে ভালো থাকতে পারি। আমাকে সবচেয়ে দরিদ্র প্রেসিডেন্ট বলা হয়। কিন্তু আমি নিজেকে দরিদ্র মনে করি না। আসলে দরিদ্র লোক হলো তারাই যারা শুধুমাত্র বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য কাজ করে। এবং সবসময়ই আরো চাই আরো চাই করতে থাকে। কারণ এটি সবার স্বাধীনতার ব্যপার। আপনার যদি অনেক চাহিদা না থাকে তাহলে সারা জীবন অনুগত দাসের মতো কাজ করার দরকার নেই। আর তখন আপনি আপনার জন্য আরো অনেক সময় পাবেন।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026