শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৫

বাংলাদেশে বাণিজ্য সহায়তা বাড়লেও অগ্রগতি কমেছে

বাংলাদেশে বাণিজ্য সহায়তা বাড়লেও অগ্রগতি কমেছে

শীর্ষবিন্দু নিউজ: বৃহস্পতিবার সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত বাণিজ্য সাহায্য: বাংলাদেশে দ্বিতীয় প্রজন্মের ইস্যু বিষয়ে এক সংলাপে বলা হয়, গত এক দশকে বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহায়তা বাড়লেও বাংলাদেশ তা থেকে খুব সামান্যই অগ্রগতি করতে পেরেছে। এই সহায়তা দেশের বাণিজ্য নীতি ও বিধিমালা তৈরিতে বাড়লে অবকাঠামো উন্নয়ন ও সক্ষমতা সৃষ্টিতে তা কমেছে বলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

রাজধানির ব্র্যাক ইন সেন্টারে আয়োজিত এই সংলাপে সভাপতিত্ব করেন সিডিপির নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মজিবুর রহমান। সংস্থার সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার‌্য এতে বক্তব্য রাখেন।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০০৬ -২০০১১ সাল পর্যন্ত  অর্থনৈতিক অবকাঠামো উন্নয়নে বিশ্বে এএফটি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭৭ দশমিক ৯২ শতাংশ হয়েছে। পক্ষান্তরে একই সময়ে বাংলাদেশে ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি কমেছে। আলোচ্য সময়ে  উৎপাদন ক্ষমতা তৈরি খাতে বিশ্বে এএফটি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫৬ দশমিক ০৩ শতাংশ। আর উল্টো বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধি কমেছে ৪৪ দশমিক ৮১ শতাংশ। তবে বাণিজ্য নীতি ও বিধিমালা খাতে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। আলোচ্য সময়ে এই খাতে বাংলাদেশে এএফটিএ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬৮৬ দমশিক ০৩ শতাংশ। আর বিশ্বে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে যে পরিমাণ বাণিজ্য সাহায্য আসছে নানা অজুহাতে তা দাতা দেশগুলোতে ফেরত যাওয়ায় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তা তেমন একটা কাজে লাগছে না। বাংলাদেশে বাণিজ্য সহায়তার কার্যকরিতা ও প্রভাব বিষয়ে ওই প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচাল ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, অনুন্নত দেশগুলোর বৈশ্বিক সংহতি জোরদারের লক্ষ্যে বাণিজ্যসংক্রান্ত সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বাণিজ্যের জন্য সহায়তা (এএফটি) নামের এই উদ্যোগের শুরু হলেও বাংলাদেশে এই তহবিলের প্রভাব মিশ্র।

সিপিডি গবেষক বলেন, ২০০২ সালে থেকে বাংলাদেশে এএফটিতে দাতাদের অর্থছাড় বাড়লেও ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত এএফটি অর্থছাড়ের প্রবৃদ্ধি কমেছে ২৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ। কিন্তু বিশ্বে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬৭ শতাংশ।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার‌্য বলেন, দাতারা কারিগরি সাহায্যে নানা ধরনের শর্ত জুড়ে দেয়। দাতা দেশে থেকে পরমর্শক নিয়োগ বা ওই দেশের পণ্যক্রয় বাধ্যতামূলক করে দেয়। এতে স্থানীয়ভাবে বৈদেশিক সহায়তার যথার্থ ব্যবহার হতে পারে না। এসমস্যা দূর করতে শর্তহীন বাণিজ্য সাহায্যের দাবি জানান এ অর্থনীতিবিদ।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলেন প্রধান অর্থর্নীতিবিদ সঞ্জয় কাঠুরিয়া বলেন, বাণিজ্য সাহায্যে নিয়ে শুধুমাত্র বাণিজ্য নীতির মধ্যে সীমাবন্ধ থাকলে হবে না। অভ্যন্তরীণ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে। এছাড়া বাণিজ্য উন্নয়নে দক্ষতা বৃদ্ধিও গুরুত্বপূর্ণ।

মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে সাবেক বাণিজ্য সচিব সোহেল আহমেদ চৌধুরী বিশ্বব্যাংকের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, পূর্বে দাতাদের অর্থগ্রহণের অনেক মন্দ অভিজ্ঞতা রয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থগ্রহণ করে দেখা গেছে এর অধিকাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে তাদের নিয়োজিত পরামর্শকের পেছনে। এসব বাণিজ্য সাহায্য অবকাঠামো উন্নয়ন বা উৎপাদন ক্ষমতা বাড়তে ব্যবহার হচ্ছে না। বরং মূল অংশই ব্যবহার হচ্ছে নীতি তৈরি বা প্রশিক্ষণের নামে ভ্রমণ-বিলাসে।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026