কাজের নিয়োগকর্তা, চিকিৎসক ও অন্যদের কাছে তিনি রেজাউল করিম (৪৪) নামে একজন বৃটিশ নাগরিক হিসেবে পরিচিত। এই নামের এক ব্যক্তির ইন্স্যুরেন্স নাম্বার নকল করে নিজে ব্যবহার করেছেন এবং এই পরিচয়ে বৃটেনে বসবাস করছেন এক দশকের ওপরে। তার আসল নাম সুলতান মাহমুদ। এ খবর দিয়েছে বৃটেনের অনলাইন ফ্রি মুভমেন্ট।
১৯৯৬ সাল থেকে বৃটেনে বসবাস করছেন বাংলাদেশি সুলতান মাহমুদ (৪১)। তবে বৃটেনে তিনি সুলতান মাহমুদ নামে পরিচিত নন। ২০০৯ সালে তিনি অনির্দিষ্টকালের জন্য বসবাসের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। এটা করেছিলেন তিনি নিজের প্রকৃত নাম ব্যবহার করে। এ সময় তিনি স্বীকার করেন ভুয়া নাম ধারনের কথা।
এক্ষেত্রে তার আবেদনের পক্ষে কিছু প্রমাণও উপস্থাপন করেন। এর সঙ্গে যুক্ত করেন ১৯৯৮ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত পি৬০ ফর্ম। তাতে তিনি দেখান তিনি রেজাউল করিম। তিনি দাবি করেন, বৃটেনে ডাবল লাইফ বা দুই পরিচয়ে বসবাস অভিবাসন আইনের লঙ্ঘন নয়। কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। এতে অস্বস্তিকর এক অবস্থায় পড়েন তিনি। তিনি ২০১৬ সাল পর্যন্ত অবৈধভাবে বসবাস করতে থাকেন বৃটেনে। এত দীর্ঘ সময় তিনি বৃটেনে বসবাস করার কারণে দেশটিতে বসবাসের বৈধতা দাবি করেন। এতে আরো বলা হয়, বাংলাদেশি কোনো নাগরিক বৃটেনে ২০ বছর অবস্থান করার পর তিনি দেশটিতে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য জন্য আবেদন করতে পারবেন। সেই নিয়মের অধীনে রেজাউল করিম বৃটেনে বসবাসের আবেদন করেন।
কিন্তু রেজাউল করিমের এ আবেদন প্রত্যাখ্যান করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দুটি ধারা উত্থাপন করে। এক্ষেত্রে আপিলে ফার্স্ট-টিয়ার ট্রাইবুনালের বিচারক আপিলের সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সমর্থন করেন। বিচারক বলেন, সুলতান মাহমুদ হিসেবে পরিচয় দেয়া ওই ব্যক্তি কমপক্ষে এক দশকের বেশি নানা রকম ছলনার আশ্রয় নিয়েছেন। তার উদ্দেশ্য মহৎ নয়। আর যে কোন ছলনায় বৃটেনে থাকার আশ্রয় খুজছেন।