রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৫১

ব্রিটেন ছাড়ছেন এ্যাসাইলাম প্রার্থীরা

ব্রিটেন ছাড়ছেন এ্যাসাইলাম প্রার্থীরা

/ ৪৪
প্রকাশ কাল: বুধবার, ১০ মার্চ, ২০২১

মো: রেজাউল করিম মৃধা, লন্ডন: উন্নত জীবনের আশায় ব্রিটেনে এসে স্থায়ী ভাবে থাকার জন্য অনেকেই এ্যাসাইলাম রেস করেছেন। কিন্তু এ্যাসাইলাম প্রার্থীদের থাকা, খাওয়া, চিকিৎসা এবং কাজ সব মিলিয়ে এক অবর্ননীয় কস্ট যা ভাষায় বর্ননা করার মতো নয়। উন্নত জীবনের পরিবর্তে বেঁচে থাকাই যেখানে মূখ্য হয়ে উঠে। তাই এই কস্টের জীবন ছেড়ে হাজার হাজার এ্যাসাইলাম প্রার্থীরা ব্রিটেন ছেড়ে নিজ নিজ দেশে ফেরত যাচ্ছেন।

UNHCR এর স্টার্টিজ অনুযায়ী ২০১৯ সালে ১৩৩,০৯৪ জন এ্যাসাইলামের জন্য আবেদন করেছেন। ৬১,৯৬৮ জনের আবেদন যাছাই বাছাই করা হয়েছে। ৪৫,২০৩ জনের আবেদন গ্রহন করা হয়েছে। ১৬১ জন এ্যাসাইলাম আবেদন কারীর কোন দেশের পরিচয় নেই। এ পর্যন্ত ২৮৭,০০০ থেকে ৩০০,০০০ আবেদন খারিজ করে দিয়েছে হোম অফিস। তবে গত এক বছরে ২৯,৪৫৬ জনকে ব্রিটেন থাকার অনুমতি দিয়েছে হোম অফিস।

এ্যাসাইলামদের জন্য ব্রিটিশ সরকারের £১ বিলিয়ন পাউন্ডের বাজেট।এই বিশাল বাজেট থাকা স্বত্তেও এ্যাসাইলামদের সেবা দিতে ,থাকার জায়গার সংকট , খাবারের মান , মানবেতর জীবন সহ তাদের সুরক্ষা করতে ব্যার্থ হয়েছে হোম অফিস। এ্যাসাইলাম আবেদনের ৬ মাসের মধ্যেই রেজাল্ট দেওয়ার কথা থাকলেও ১ বছর ২ বছর এমন কি বছরের পর বছর ও কোন সুরাহা না হওয়াতে তাদের জীবনে নেমে আসে অবর্ননীয় দূর্ভোগ। আর এ জন্যই হাজার হাজার এ্যাসাইলাম প্রার্থীরা ব্রিটেন ছাড়ছেন।

অন্যদিকে ব্রিটেনে যারা বৈধভাবে এসে আইনি জটিলতায়, সময়মত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দিতে পারায়, স্টুডেন হিসেবে এসে ঠিকমত লেখাপড়া না করা সহ বিভিন্ন কারনে আর বৈধকরন হতে পারেন নাই।দীর্ঘ সময় ধরে ব্রিটেনে অসহায় ভাবে জীবনযাপন করছেন। অথচ তারা সবাই বৈধভাবে এসেছিলেন।আইনের প্যাচে ফেলে বৈধ করা হচ্ছে না।

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বিরোধী দল লেবার পার্টির এমপি ডা. রোজেনা এলিন খান প্রশ্নোত্তর পর্বে অবৈধ অভিবাসীদের বিষয়ে সরকারের বক্তব্য জানতে চান। জবাবে অভিবাসনবিষয়ক মন্ত্রী ভিক্টোরিয়া এটকিনস জানান, সরকার একটি অভিবাসন নীতিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে। এটি নিরাপদ ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অন্য দেশের মানুষদের ব্রিটেনে স্বাগত জানায়। একইসঙ্গে এটি অবৈধ অভিবাসনকে বাঁধা দেয়। সরকারের এমন আচরণে ব্যাপক সমালোচনা করে অবৈধ অভিবাসীদের বৈধতা আদায়ে কাজ করা কয়েকটি সংগঠন।

এমনই একটি সংগঠন ফোকাস অন লেবারি এক্সপ্লয়টেশন (ফ্লেক্স)। ওই সংগঠনে প্রধান নির্বাহী লুসিয়া গ্রান্ডাক বলেন, ব্রিটেনে বসবাস ও কাজের বৈধ অনুমোদনহীন মানুষকে সাধারণ ক্ষমা দিলে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত হতো। সরকারও লাভবান হবে।

সম্প্রতি কোভিড-১৯ করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে অন্যান্য দেশের মতো ব্রিটিশ সরকার লকডাউনের ঘোষণা দেয়। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ে ওইসব অভিবাসী যাদের এদেশে বাস করার যথাযথ ডকুমেন্ট নাই।

এমপিদের অনুরোধের প্রেক্ষাপটে সরকারও মানবিক দিক বিবেচনা করে ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসকে (এনএইচএস) নির্দেশ দিয়েছে করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য এদেশে বৈধভাবে আছে কিনা তা যাচাই না করতে। ব্রিটেনে ডকুমেন্ট ছাড়া অভিবাসী, আশ্রয় প্রার্থী ও শরণার্থীদের অস্থায়ীভাবে দেশটিতে থাকার অনুমোতি দেয়ার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ করেছে ২০টিরও বেশি চ্যারিটি ও চার্চের পুরোহিতরা।

সরকার সম্প্রতি তাদের জন্য ফ্রি চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করেছে।এখন থেকে যে কোন জিপিতে গিয়ে নিজের নাম তালিকা ভুক্ত করে কভিড-১৯ ভ্যাকসিন দিতে পারবেন।

এই আন ডকুমেন্ট অভিবাসীদের থাকার অনুমোতি দিলে শুধু তারাই উপকৃত হবে না, সরকারও উপকৃত হবে। কারন অভিবাসীদের অনেকে চিকিৎসা ও অন্যান্য কাজে অভিজ্ঞ। এছাড়া ওসব অভিবাসীরা দীর্ঘদিন এদেশে বাস করায় অন্যান্য কাজে পারদর্শী হয়ে উঠেছে ও এখানকার পরিবেশের সাথে মিশে গেছে। করোনাকালে ও পরবর্তী সময়ে সরকার তাদের কাজে লাগাতে পারে ।

এ বিষয়ে বরিস সরকারের এক মুখপাত্র গার্ডিয়ানকে জানান, আমরা স্পষ্ট করে বরতে চাই এদেশে বাস করছে এমন কারো করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিলে সরকার তাদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা সহায়তা দিবে। এবং যে কোন জিপিতে যেয়ে নাম রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন এক্ষেত্রে তাদের কোনো ধরনের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস পরীক্ষা করবে না। নাম রেজিস্ট্রির পর তারা ভ্যাকসিন দিতে পারবেন।

তবে কেউ যদি এদেশে স্থায়ীভাবে বাস করতে চায় তবে তাদের অবশ্যই আইনগতভাবে করতে হবে। কারো এদেশে আইনগতভাবে বাসের অধিকার না থাকলে তাদের জন্য সরকার পাবলিক ফান্ডের ব্যবস্থা করতে পারবে না। , ২০০০ সালে ‘ওভার স্টেয়ার রেগুলেশন ২০০০’ নামে আইন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নীতিমালার মধ্যে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের ব্রিটেনে বসবাসের সুযোগ দিয়েছিল। তারপর জুলাই ২০০৬ সালে আটকে পড়া ৪ লাখ ৫০ হাজার ফাইলের ওপর ৫ বছর মেয়াদি একটি পরিকল্পনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গ্রহণ করেছিল, যা বহুলভাবে ‘লিগ্যাসি’ নামে পরিচিত।

এরমধ্যে ১ লাখ ৬১ হাজার মানুষকে বিভিন্নভাবে বৈধতা দেওয়া হয় এবং ফাইলগুলো বিভিন্ন জটিলতার কারণে প্রত্যাখান করে ২০১১ সালে লিগেসির পরিসমাপ্তি ঘটে। এর আগে ২০১০ সালের ব্রিটেনের সাধারণ নির্বাচনে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির তৎকালীন প্রধান নিক ক্লেগ ব্রিটেনে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের বিভিন্ন শর্তের মাধ্যমে বৈধতা প্রদানের প্রস্তাব করেছিলেন।

যার নাম ছিলো ‘রুট টু সিটিজেনশিপ’। তার প্রস্তাবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো ছিল।
আবেদনকারীকে
১. ব্রিটেনে অন্তত ১০ বছর বসবাসের প্রমাণ থাকতে হবে। ২. কোনো অপরাধের রেকর্ড থাকা যাবে না। ৩. আবেদনকারীকে অবশ্যই ইংরেজি ভাষায় পারদর্শী হতে হবে।

এছাড়া তাকে একটি নির্ধারিত পদ্ধতিতে নাগরিকত্ব অর্জনের নীতিমালা প্রদান করা হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেটা পূরণ করতে হবে। এ্যাসাইলাম আবেদনকারীরা এত ঝক্কি ঝামেলা সহ্য করতে না পেরে নিজ নিজ দেশে ফিরে যাচ্ছেন।

১৯৭০ সাল থেকেই ব্রিটেনে এ্যাসাইলাম প্রকৃয়া শুরু হয়ে ধারাবাহিক ভাবে চলছে। প্রতিবছরই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লোক ব্রিটেনে এসে এ্যাসাইলমান আবেদন করছেন। অনেকে আবার এ্যাসাইলাম পেয়ে এখানে সকল সুযোগ গ্রহন করছেন। ফিরে পেয়েছেন নিজেদের নতুন জীবন কিন্তু বর্তমানে একদিকে করোনাভাইরস মহামারি অপর দিকে থাকা ,খাওয়া, চিকিৎসা এবং কাজ না পেয়ে এ্যাসাইলাম প্রার্থীরা ব্রিটেন ছেড়ে নিজ দেশে ফিরে যাচ্ছে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2021