শীর্ষবিন্দু নিউজ: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যুক্তরাষ্ট্রের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল সম্পর্কিত পররাষ্ট্র বিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান স্টিভ শ্যাবটকে বলেছেন, সংলাপের বিষয়ে তিনি সরকারের উদ্যোগ প্রত্যাশা করছেন। গুলশানে বিরোধী দলীয় নেতার বাসভবনে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে ৪৫ মিনিট স্থায়ী বৈঠকে তিনি এ কথা জানান।
এদিকে বিকালে স্টিভ শ্যাবটের সঙ্গে দেখা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের জামায়াতের আসামিপক্ষের প্রধান আইনজীবী ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার রাজ্জাক। এ সময় অনদের মধ্যে আরমান আলী ও তাজুল ইসলাম তার সঙ্গে ছিলেন।
বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান স্টিভ শ্যাবট। তিনি বলেছেন, আমরা দ্বি-পক্ষীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা করেছি। এর আগেও ২০০৬ সালে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ঢাকা সফরে এসেছিলেন তিনি। ৪৫ মিনিট স্থায়ী বৈঠকের সময়ে শমসের মবিন ছাড়াও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান ও সাবিহ উদ্দিন আহমেদ ও ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত জন ড্যানিলোইৎজ উপস্থিত ছিলেন। স্টিভ শ্যাবট মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় আসেন। বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সাক্ষাতের কথা রয়েছে।
পরে বিএনপির সহসভাপতি সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শমসের মবিন চৌধুরী সাংবাদিকদের বৈঠক প্রসঙ্গে জানান, স্টিভ শ্যাবট আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে তার দেশের অবস্থান তুলে ধরেছেন। যুক্তরাষ্ট্র মনে করে- আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সব দলের অংশগ্রহণে দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ব্যাপারে বিরোধী দলীয় নেতার বক্তব্য কি ছিলো জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, বিরোধী দলীয় নেতা বলেছেন দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে হবে। সরকার যখনই সংলাপের উদ্যোগ নেবে- তাতে তিনি বসতে প্রস্তুত রয়েছেন।
আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না প্রশ্ন করা হলে শমসের মবিন বলেন, বৈঠকে এই বিষয়টি উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানের হতে হবে। বিরোধী দলীয় নেতা বলেছেন- তার দল মনে করে, যে-ই যুদ্ধাপরাধ করুক না কেন, তার বিচার হতে হবে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে স্বচ্ছভাবে এই বিচার যাতে হয়, তার ব্যবস্থা তিনি নেবেন। যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার কিছু উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলেছে বলেও জানান তিনি।