বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩০

সমিতির ৪৯% মালিকানায় পল্লীসঞ্চয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব

সমিতির ৪৯% মালিকানায় পল্লীসঞ্চয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব

শীর্ষবিন্দু নিউজ: একটি খামার একটি বাড়ি প্রকল্পের সুবিধাভোগী সমিতিগুলোর হাতে ৪৯ শতাংশ মালিকানা রেখে পল্লীসঞ্চয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে পল্লীসঞ্চয় ব্যাংক আইন ২০১৩ এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান।

তিনি বলেন, একটি বাড়ি-একটি খামার প্রকল্পকে একটি স্থায়ী কাঠামেতে আনতে এ আইনের মাধ্যমে এই বিশেষায়িত ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হবে। একটি বাড়ি-একটি খামার প্রকল্পের আওতায় যে সমিতিগুলো রয়েছে সেগুলো এই ব্যাংকের সদস্য হবে। ব্যাংকের ৫১ শতাংশ মালিকানা সরকারের হাতে এবং বাকি ৪৯ শতাংশ ওই প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের নিয়ে গঠিত সমিতিগুলোর হাতে থাকবে। ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন হবে ১ হাজার কোটি টাকা, আর পরিশোধিত মূলধন থাকবে ২০০ কোটি টাকা। গত অক্টোবরে এ প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের নিয়ে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পল্লীসঞ্চয় ব্যাংক গঠনের উদ্যোগের কথা বলেন।

স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের আওতায় একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পে বর্তমানে ১০ লাখ ৩৮ হাজার সুবিধাভোগী পরিবার রয়েছে। তাদের জন্য এক হাজার ৩৩২ কোটি টাকার তহবিল গঠন করে দিয়েছে সরকার। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও যাতে ওই তহবিল থেকে পরিবারগুলো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে পারে- সেজন্যই এ ব্যাংক। এসব পরিবার পল্লীসঞ্চয় ব্যাংকে তাদের সঞ্চয় জমা রাখতে পারবেন, ঋণও নিতে পারবে।

গ্রামের প্রতিটি দরিদ্র পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে দারিদ্র্য দূর করার লক্ষ্যে এর আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প শুরু হলেও ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় এসে তা বন্ধ করে দেয়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে এ প্রকল্প আবার চালু করে।

সচিব জানান, এই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সংখ্যা হবে ১৫ জন, যাদের মধ্যে আটজন হবেন সরকার মনোনীত। বাতি সাতজন সমিতিগুলো থেকে আসবেন। সদস্যদের মধ্যে থেকেই একজনকে ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসাবে নিয়োগ দেযা হবে। পরিচালনা বোর্ডের সদস্যদের মেয়াদ হবে তিন বছর করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনক্রমে বোর্ড একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ করবে। তিনি বলেন, আমরা মনে করি, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প দরিদ্রতা হ্রাসের পথ দেখাচ্ছে, সেখানে পল্লীসঞ্চয় ব্যাংক হওয়া দরকার। এরপর  গত সপ্তাহে এই ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবে অর্থমন্ত্রণালয় সম্মতি দেয়।

গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে পল্লীসঞ্চয় ব্যাংকের পার্থক্যের কথা বলতে গিয়ে সচিব জানান, গ্রামীণ ব্যাংক ব্যক্তি পর্যায়ে জামানত ছাড়া ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম চালায়। আর পল্লীসঞ্চয় ব্যাংক ঋণ দেবে সমিতি ও সদস্যদের। জামানত ছাড়া এবং বড় অংকের ক্ষেত্রে জামানতসহ এই ঋণ দেয়া হবে। সরকারের মালিকানার দিক দিয়েও দুই ব্যাংকের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য থাকছে বলে জানান মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026