মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২, ০৫:২৩

হযরত ইয়াহিয়া (আঃ) এর জীবনী

হযরত ইয়াহিয়া (আঃ) এর জীবনী

ইমাম মাওলানা নুরুর রহমান / ২২৪
প্রকাশ কাল: শুক্রবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২১

আজ শুক্রবার পবিত্র জুমাবার আজকের বিষয়হযরত ইয়াহিয়া (আঃ) এর জীবনী’ শীর্ষবিন্দু পাঠকদের জন্য এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ইমাম মাওলানা নুরুর রহমান

ইয়াহিয়া (আ ) মৃত্যুকালে বয়স ছিল ৩০ বছর। জাকারিয়া (আ ) ও ইয়াহইয়া (আ ) সুলায়মান পরবর্তী দুই নবী পরস্পরে পিতা-পুত্র ছিলেন এবং বায়তুল মুক্বাদ্দাসের অধিবাসী ছিলেন। ইয়াহইয়া ছিলেন পরবর্তী নবী ঈসা (আঃ) এর আপন খালাতো ভাই এবং বয়সে ছয় মাসের বড়। তিনি ঈসার ছয় মাস পূর্বেই দাওয়াতের কাজ শুরু করেন।

একদা হযরত ইয়াহিয়া (আঃ) এর সাথে ইবলিশের দেখা হয়। ইবলিশের হস্তস্হিত একটি বস্তুর প্রতি ইঙ্গিত করে আল্লাহর নবী জিজ্ঞাসা করলেন, এটা কি তোমার হাতে? ইবলিশ বললো, এটা শাহওয়াত বা প্রবৃত্তির তাড়না। এটা দিয়ে আমি বনী আদমকে শিকার করে থাকি। হযরত ইয়াহিয়া (আঃ) জিজ্ঞেস করলেন, আমাকে শিকার করার জন্য কি তোমার কাছে কিছু আছে? ইবলিশ বললো, না; তবে এক রাত্রিতে আপনি পরিতৃপ্ত হয়ে ভোজন করেছিলেন, সেই সুযোগে আমি আপনাকে অবসাদ গ্রস্ত করে নামায হতে উদাসীন করে দিয়েছিলাম। হযরত ইয়াহিয়া (আঃ) বললেন, ‘আজ থেকে আমি আর কোনদিন তৃপ্ত হয়ে আহার করবো না।’ ইবলিশ বললো, তাহলে আমিও আজ থেকে আর কোনদিন বনী আদমকে নসীহত করবো না।

হাদীছে নববীর মাঝে লুকিয়ে আছে অমূল্য জ্ঞানভান্ডার। যাতে মানুষের জন্য রয়েছে অনুপম উপদেশ ও জীবন চলার পখের অনন্য দিক নির্দেশনা। এমনই একটি হাদীছ নিম্নে হারেছ আশ‘আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর নবী মুহাম্মাদ (ছাঃ) বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা ইয়াহ্ইয়া ইবনু যাকারিয়া (আঃ)কে পাঁচটি বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছিলেন, যেন তিনি সে অনুযায়ী আমল করেন এবং বানী ইসরাঈলকে সে অনুযায়ী আমল করার নির্দেশ দেন।

তিনি তদনুযায়ী আমল করতে বিলম্ব করছিলেন, তখন ঈসা (আঃ) তাকে বললেন, আল্লাহ তা‘আলা আপনাকে পাঁচটি বিষয়ের নির্দেশ দিয়েছেন যাতে আপনি সে অনুযায়ী আমল করেন এবং বানী ইসরাঈলকে সে অনুযায়ী আমল করার নির্দেশ দেন। আপনি তাদেরকে নির্দেশ দেন অন্যথা আমি তাদেরকে নির্দেশ দিব। তখন ইয়াহইয়া (আঃ) বললেন, আপনি যদি আমার পূর্বে নির্দেশ দেন তাহ’লে আমি আমাকে মাটির নিচে দাবিয়ে দেওয়ার অথবা আমাকে শাস্তি দেওয়ার আশঙ্কা করছি। অতঃপর তিনি লোকদেরকে বায়তুল মাক্বদাসে সমবেত করলেন। মসজিদ ভরে গেলে তারা বারান্দায় বসল।

তিনি বললেন, আল্লাহ তা‘আলা আমাকে পাঁচটি বিষয়ের নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে আমি সে অনুযায়ী আমল করি এবং তোমাদেরকে সে অনুযায়ী আমল করার নির্দেশ দেই।

১. হ’ল তোমরা কেবল আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবে না। আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপনকারীর উদাহরণ সে ব্যক্তির ন্যায়, যে তার সম্পদের খাঁটি সোনা ও রূপা দিয়ে একটি দাস ক্রয় করে তাকে বলল, এটা আমার ঘর আর এগুলো আমার কাজ। তুমি এ কাজগুলো করবে এবং এর প্রাপ্য আমাকে বুঝিয়ে দিবে। সে কাজ করতে থাকল এবং মালিক ব্যতীত অন্যকে এর সুফলাদি দিতে থাকল। তোমাদের কে খুশি হবে যে তার দাস এরূপ হোক? কারণ আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি তোমাদেরকে রিযিক দেন। অতএব তোমরা তাঁর সাথে কাউকে শরীক করো না।

২. আল্লাহ তোমাদেরকে ছালাত আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। অতএব তোমরা ছালাত আদায়কালে এদিক-সেদিক তাকাবে না। কেননা আল্লাহ তা‘আলা তাঁর মুখমন্ডল বান্দার মুখমন্ডলের দিকে নিবিষ্ট করে রাখেন যতক্ষণ না বান্দা এদিক-সেদিক তাকায়।

৩. আমি তোমাদেরকে ছিয়াম পালন করার নির্দেশ দিচ্ছি। ছিয়াম পালনকারীর উদাহরণ ঐ ব্যক্তির ন্যায়, যে একটি দলের সাথে অবস্থান করছে আর তার সাথে রয়েছে সুগন্ধিযুক্ত একটি থলে। সবাই সেটির প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে অথবা সেটি সবাইকে তার প্রতি আকৃষ্ট করছে। আর ছিয়াম পালনকারীর মুখের গন্ধ মিশকে আম্বরের সুগন্ধি অপেক্ষা আল্লাহর নিকট অতি পবিত্র।

৪. আমি তোমাদেরকে ছাদাক্বা করার নির্দেশ দিচ্ছি। ছাদাক্বাকারীর উদাহরণ ঐ ব্যক্তির ন্যায়, যাকে শত্রুরা পাকড়াও করে তার ঘাড়ের সাথে হাত বেঁধে ফেলেছে এবং তাকে হত্যার জন্য বদ্ধভূমিতে নিয়ে যাচ্ছে। তখন সে বলল, আমি আমার প্রাণের বিনিময়ে আমার কম-বেশী সমস্ত সম্পদ তোমাদেরকে দিচ্ছি। অতঃপর সে মালের বিনিময়ে নিজেকে ছাড়িয়ে নিল (অনুরূপ ছাদাক্বাকারী ছাদাক্বা করার মাধ্যমে নিজেকে বিপদমুক্ত করে)।

৫. আমি তোমাদেরকে আল্লাহর যিকির করার নির্দেশ দিচ্ছি। যিকিরকারীর উদাহরণ ঐ ব্যক্তির ন্যায়, যার শত্রুরা দ্রুততার সাথে তার পিছু ধাওয়া করেছে অতঃপর সে একটি সুরক্ষিত দুর্গে গমন করে নিজেকে তাদের থেকে রক্ষা করল। তদ্রূপ কোন বান্দা আল্লাহর যিকর ব্যতীত নিজেকে শয়তানের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে না। নবী করীম (ছাঃ) বলেন, ‘আমি তোমাদেরকে পাঁচটি বিষয়ে নির্দেশ দিচ্ছি, যা আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন (১) জামা‘আতবদ্ধ জীবন যাপন করা (২) আমীরের নির্দেশ শ্রবণ করা (৩) তাঁর আনুগত্য করা (৪) প্রয়োজনে হিজরত করা (৫) আল্লাহর পথে জিহাদ করা। যে ব্যক্তি জামা‘আত হ’তে এক বিঘত পরিমাণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল তার গর্দান হ’তে ইসলামের গন্ডি ছিন্ন হ’ল যতক্ষণ না সে ফিরে আসে। যে ব্যক্তি মানুষকে জাহেলিয়াতের দাওয়াত দ্বারা আহবান জানাল, সে ব্যক্তি জাহান্নামীদের দলভুক্ত হ’ল। যদিও সে ছিয়াম পালন করে, ছালাত আদায় করে এবং ধারণা করে যে, সে একজন মুসলিম।

অতএব তোমরা আল্লাহর আহবান দ্বারা আহবান কর, যিনি তোমাদেরকে আল্লাহর বান্দা মুমিন-মুসলিম হিসাবে নামকরণ করেছেন। (তিরমিযী হা/২৮৬৩; হাকেম হা/১৫৩৪; আহমাদ হা/১৭৮১৩; ছহীহুল জামে‘ হা/১৭২৪; ছহীহ তারগীব হা/১৪৯৮)। অতএব আসুন, আমরা ইয়াহইয়া বিন যাকারিয়া (আঃ)-এর সুন্দর পাঁচটি উপদেশ এবং মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর পাঁচটি উপদেশ আমাদের জীবনে বাস্তবায়ন করি। এ উপদেশগুলো আমাদের জীবনে বাস্তবায়ন করলে আমরা পৃথিবীতে সফলতা অর্জন করতে পারব এবং পরকালে সুখময় জান্নাত লাভ করতে পারব ইনশাআল্লাহ।

লেখক: ইসলাম বিভাগ প্রধানশীর্ষবিন্দু নিউজ। ইমাম খতিবমসজিদুল উম্মাহ লুটন, সেক্রেটারিশরীয়া কাউন্সিল ব্যাডফোর্ড মিডল্যন্ড ইউকে। সত্যায়নকারী চেয়ারম্যাননিকাহনামা সার্টিফিকেট ইউকে। প্রিন্সিপালআর রাহমান একাডেমি ইউকে, পরিচালকআররাহমান এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকে




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2021