ব্রিটেন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে যেতে অনেক মানুষকে ভুয়া পাসপোর্ট, ভিসা এবং ভ্রমণ সংক্রান্ত স্ট্যাম্প তৈরি করে পথ করে দিচ্ছে একটি চক্র। এর মধ্যদিয়ে জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের সদস্যরাও এসব দেশে প্রবেশ করছে বলে লন্ডন গার্ডিয়ানের এক অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।
এমন একটি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে তুরস্কে বসবাসকারী এক উজবেক উগ্রপন্থি। তারা এখন ১৫ হাজার ডলারে বিভিন্ন দেশের জন্য উচ্চ মানসম্পন্ন ভুয়া পাসপোর্ট ইস্যু করছে। এমন কমপক্ষে ১০টি ঘটনার খবর জানতে পেরেছে গার্ডিয়ান। এসব মানুষ সিরিয়া সীমান্ত দিয়ে তুরস্কে প্রবেশ করেছে। তারপর ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরের মধ্যদিয়ে সে দেশ ছেড়েছে। এক্ষেত্রে ওই ভুয়া পাসপোর্ট, ভিসা বিক্রেতারা দাবি করে ইউরোপ হলো সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য।
অন্যদিকে কমপক্ষে দু’জন ব্যক্তি ভুয়া পাসপোর্ট ব্যবহার করে ইস্তাম্বুল থেকে মেক্সিকো সফর করেছে। সেখান থেকে তারা অবৈধ উপায়ে সীমান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে। নাইজার এবং মৌরিতানিয়া হলো এক্ষেত্রে ইউক্রেন এবং আফগানিস্তানের মতো তাদের কাছে জনপ্রিয় গন্তব্য।
পশ্চিমা নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মকর্তারা ২০১৫ সালে সতর্ক করেছে যে, আইএস গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম হাতে পেয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে আছে খালি পাসপোর্ট, তাদের হাতে আছে সিরিয়া ও ইরাকের পাসপোর্ট তৈরির প্রিন্টার। শরণার্থী সংকটের সময় যে কমপক্ষে ১০ লাখ মানুষ ইউরোপে পাড়ি জমিয়েছে এর মধ্যে আছে এমন অনেক অপারেটিভ। এর অল্প পরেই ইউরোপে বেশ কতোগুলো হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএস।
এর মধ্যে রয়েছে ১০১৫ সালের নভেম্বরে প্যারিসের বাটাক্লা থিয়েটারে হামলা, ২০১৭ সালে ম্যানচেস্টার অ্যারিনায় বোমা হামলা। তখন থেকেই ইউরোপিয়ান সীমান্ত বিষয়ক এজেন্সিগুলো এসব ব্যক্তির ব্যবহৃত প্রযুক্তি এবং প্রশিক্ষণের বিষয়ে তদন্ত শুরু করে। তারা ভুয়া পাসপোর্ট শনাক্তে কাজ করে। ২০২০ সালে ইস্তাম্বুলে নিজেদের কনস্যুলার স্টাফ ঢেলে সাজায় তাজিকিস্তান।
তাজিকিস্তানের ভুয়া পাসপোর্ট যাতে ওইসব মানুষ ব্যবহার করতে না পারে, সে জন্য এমন প্রচেষ্টা নেয়া হয়। এর জবাবে ভুয়া পাসপোর্ট বিক্রেতারা তাদের খেলাও পাল্টে ফেলে। তারা বিভিন্ন দেশের মানুষকে ক্লায়েন্ট হিসেবে ধরা শুরু করে। ওই উজবেক তার বেশকিছু ওয়্যারের ভিডিও পাঠিয়েছেন।
এর মধ্যে আছে ফরাসি, বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া এবং রাশিয়ার পাসপোর্ট। তাতে নিরাপত্তার যথাযথ জলছাপ এবং হলোগ্রাম দেখা যায়। আলোর বিপরীতে তা ধরার পর রাশিয়ান দুটি পাসপোর্টে অতিবেগুনি স্পর্শকাতর ম্যাটেরিয়াল দেখা যায়, যা থেকে পাসপোর্ট জালিয়াতি বন্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়।
এ খাতে উজবেক ব্যবসা খুব ভালোভাবে চলছিল। এ জন্য তারা একটি এনক্রিপ্টেড ম্যাসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রাম নামে নতুন চ্যানেল চালু করেছে। অফিসিয়াল নাম দেয়া হয়েছে ‘ইস্তাম্বুল গ্লোবাল কনসালটিং’। এই ব্যবসা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। তা বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা সার্ভিসগুলোর রাডার থেকে পিছলে যেতে পারে। অতীতের অপরাধ থেকে রক্ষা পেয়ে যেতে পারে।
সিরিয়ার বাইরেও তারা অব্যাহতভাবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে অব্যাহত চেষ্টা চালিয়ে যেতে সক্ষম। গার্ডিয়ানের সঙ্গে এক মেসেজ চ্যাটে ওই উজবেক বলেছেন, কে কোন গ্রুপের তা আমি জানতে চাই না। আমি যে কারও জন্য কাজ করি। কে ভালো, কে মন্দ তা দেখা আমার কাজ নয়। তা দেখবে নিরাপত্তা সার্ভিসগুলো।
Leave a Reply