শীর্ষবিন্দু নিউজ: তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার ৩০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করে সরকার গঠিত মজুরি বোর্ড। শুরুতে রাজি না হলেও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৫৩০০ টাকা মেনে নিয়েছে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকরা।
গত ৪ নভেম্বর মজুরি বোর্ডের প্রস্তাব চূড়ান্ত হওয়ার পর তা প্রত্যাখ্যান করে কারখানা বন্ধের হুমকিও দেয় শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ। এরপর নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নের দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুরে শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে বুধবার গণভবনে মালিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠকের পর মজুরি বোর্ডে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি আরশাদ জামাল গণমাধ্যমকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় আমরা মজুরি বোর্ডের প্রস্তাব মেনে নিয়েছি। গেজেট নোটিফিকেশন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা তা বাস্তবায়ন করব। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলামসহ পোশাক শিল্প মালিকদের দুই সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। শ্রমমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু, প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান, শ্রমসচিব মিকাইল শিপারও বৈঠকে ছিলেন।
সাধারণত ৫ বছর পর পর ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ করার নিয়ম থাকলেও বাংলাদেশে কখনোই তা ঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়নি। এর আগে সর্বশেষ ২০১০ সালের ২৭ জুলাই পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের এই শিল্পে ৩৬ লাখের বেশি শ্রমিক জড়িত, যাদের অধিকাংশই নারী। বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হলেও আগের মজুরি কাঠামোই সব কারখানায় ঠিকমতো অনুসরণ করা হয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
গত বছরের নভেম্বরে তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ড এবং গত এপ্রিলে সাভারে রানা প্লাজা ধসের পর বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমে বাংলাদেশের পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশ ও শ্রমিকদের স্বল্প মজুরির বিষয়টি নতুন করে সামনে চলে আসে। বিদেশি বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশি পোশাক বর্জনেরও হুমকি দেয়ার প্রেক্ষাপটে গত জুনে পোশাক খাতের বেতন পুননির্ধারণের জন্য নতুন মজুরি বোর্ড ঘোষণা করে সরকার।