শীর্ষবিন্দু নিউজ: মহাজোট ছেড়ে সর্বদলীয় সরকারে যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ এ সময় তিনি প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকেও সর্বদলীয় সরকারে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে এইচ এম এরশাদ তিনবার বলেন, সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক পা এগিয়ে এসেছেন। তিনি একটি প্রস্তাব দিয়েছেন। বিরোধী দলের উদ্দেশে এরশাদ বলেন, আপনারাও আসুন। আলোচনার প্রস্তাব দিন। সর্বদলীয় সরকারে অংশ না নিলে কোথায় প্রস্তাব দেবেন? রাস্তায় বাস জ্বালিয়ে? এরশাদ দেশের রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় বিদেশিদের দূতিয়ালির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, নিজেদের সমাধান নিজেদের করতে হবে। রাজনীতিকেরা এভাবে দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারেন না।
আজ সোমবার দুপুর ১২টার দিকে জাতীয় পার্টির বনানী কার্যালয়ে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এইচ এম এরশাদ বলেন, চলমান সংকট মোকাবিলায় সর্বদলীয় সরকারে যোগ দেওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিল না। তাঁর দাবি, জনগণকে বাঁচাতে তিনি ও তাঁর দল এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এরশাদের ভাষ্য, দুর্নীতিগ্রস্ত ও অত্যাচারী সরকারকে সরাতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলে জাতীয় পার্টি নির্বাচনে যাবে কি না, এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি এরশাদ। তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচনে আসবে বলে তাঁর বিশ্বাস। তবে নির্বাচনে কারচুপির আশঙ্কা দেখা দিলে জাতীয় পার্টি নির্বাচন করবে না। তিনি তিনবার উল্লেখ করে বলেছেন, কারচুপি হলে জাতীয় পার্টি নির্বাচন করবে না, করবে না, করবে না।
জাতীয় পার্টির এই নেতা বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে তিনি ও তাঁর দল কখনো সমর্থন করেন না। তাঁদের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার কখনো সুখকর হয়নি। এ কারণে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের জন্য আনা বিলে তিনি স্বাক্ষর করেছেন। তিনি বলেন, এ মুহূর্তে প্রধান বিরোধী দল বিএনপিরও উচিত এক পা এগিয়ে আসা। এর আগে কয়েক মাস ধরে এরশাদ বলে আসছিলেন, তিনি সব দলের অংশগ্রহণ ছাড়া নির্বাচনে যাবেন না। তিনি যদি নির্বাচনে যান, জনগণ তাঁকে থুতু দেবে। আজ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকেরা এরশাদকে তাঁর আগে দেওয়া বক্তব্য মনে করিয়ে দেন। উত্তরে তিনি বলেন, দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবার এগিয়ে আসা উচিত। নইলে শুধু তাঁকে নয়, দেশের সব রাজনীতিককে জনগণ থুতু দেবে।