শীর্ষবিন্দু নিউজ: বৃহস্পতিবার বিকালে সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে সেনাকুঞ্জে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকলের প্রতি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন যাতে করে ভবিষ্যত প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গর্ববোধ এবং মর্যাদার সঙ্গে বাস করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০১৩ উপলক্ষে স্বাধীনতাযুদ্ধে বীরশ্রেষ্ঠগণের উত্তরাধিকারী ও অন্যান্য খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা বা তাদের উত্তরাধিকারীদের দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের ভাষণে এ আহবান জানান। পরে প্রধানমন্ত্রী খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের স্বজনদের সঙ্গে চা চক্রে মিলিত হন এবং কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবের নতুন ভবন ও স্বাধীনতা টাওয়ারের উদ্বোধন করেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, লাখো শহীদের জীবনের বিনিময়ে এই স্বাধীনতা। মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক মর্যাদায় পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা এবং তাদের অবদানের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি দানে আমাদের সরকার আন্তরিক। খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা বৃদ্ধিসহ তাদের কল্যাণে সরকারের নেয়া বিভিন্ন কার্যক্রমের কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ৬৭৬ জন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাকে বর্ধিত হারে সম্মানী ভাতা দেয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপ্যাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এ বি তাজুল ইসলাম এবং তিন বাহিনীর প্রধানসহ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বিগত চার বছরে দুইবার মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতার পরিমাণ ও ভাতাভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে। বর্তমানে দুই লাখ মুক্তিযোদ্ধা পাঁচ হাজার টাকা করে ভাতা পাচ্ছেন। ২০০৯-১০ অর্থ বছরে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের মাসিক ভাতা এগারো হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪ হাজার ৪০০ টাকা করা হয়েছে এবং আড়াই হাজার শহীদ পরিবারের ভাতা বাড়িয়ে সাত হাজার ২০ টাকা করা হয়েছে। ২০১০-১১ অর্থ বছরে সাত হাজার ৮৩৮ জন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারকে ৬১ কোটি সাড়ে ৭ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতা দেয়া হয়েছে। ২০১১-১২ অর্থ বছরে এই ভাতার পরিমাণ আরো ২০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের জন্য ৩০ শতাংশ এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে সেনাকুঞ্জে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা হয় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে। এ সময় তারা কথা বলেন একে অপরের সাথে। তবে রাজনৈতিক বিষয়ে তাদের মধ্যে কোনো কথা হয়েছে কীনা তা জানা যায় নি।
সেনাকুঞ্জের অনুষ্ঠানে বিএনপির পক্ষ থেকে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার জমিরউদ্দিন সরকাসহ কয়েকজন সিনিয়র নেতা যোগ দেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিগণ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারগণ, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশী রাষ্ট্রদূতগণ, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবসহ দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা যোগ দেন।
গত বছর সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া। তবে একই অনুষ্ঠানে দুই নেত্রী যোগ দিলেও তাদের মধ্যে কোনো কথা-বার্তা কিংবা কুশল বিনিময় হয়নি। এবারের অনুষ্ঠানে বিরোধী দলীয় নেতা যোগ দেননি।