গত বছর ইউরোপীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে আশ্রয় চেয়ে আবেদনের নজিরবিহীন এক রেকর্ড গড়েছেন বাংলাদেশিরা। এ বছর ৪০ হাজারের বেশি মানুষ বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে আশ্রয় চেয়ে আবেদন করেন।
গত বুধবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা এজেন্সি ফর অ্যাসাইলামের (ইইউএএ) প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে এই চিত্র।
২০২৩ সালে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ৪০ হাজার ৩৩২ জন বাংলাদেশি ইইউ প্লাস দেশগুলোতে আশ্রয় চেয়ে আবেদন করেছেন।
এর মধ্যে শুধু জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আবেদন করেছেন ২০ হাজার ৯২৬ জন। অপরদিকে জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন করেছেন ১৯ হাজার ৪০৬ জন।
ইইউএ-এর পরিসংখ্যান অনুসারে, গত বছর বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদনের প্রধান গন্তব্য ছিল ইতালি। ইইউ প্লাসে আশ্রয় চেয়ে আবেদনের ৫৮ শতাংশই ইতালিতে।
অর্থাৎ, ২০২৩ সালে ২৩ হাজার ৪৪৮ জন বাংলাদেশি ইতালিতে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। দেশটিতে বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীদের ৬৯ শতাংশ আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল।
ইইউ প্লাস অঞ্চলে মধ্যে রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭ দেশ এবং নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড।বাংলাদেশিদের ওই অঞ্চলে আশ্রয় আবেদন গত বছরের তুলনায় ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইইএ-এর পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ৯ বছরের মধ্যে ২০২৩ সালেই সর্বাধিক সংখ্যক বাংলাদেশি ইইউ প্লাসে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন।
সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৫ সালে ওই অঞ্চলে আশ্রয় আবেদন করেছিলেন ১৭ হাজার ২১৭ জন। ২০১৬ সালে ১৫ হাজার ৮৭ জন, ২০১৭ সালে ১৯ হাজার ১২৮ জন, ২০১৮ সালে ১৩ হাজার ৩৪০ জন, ২০১৯ সালে ১৪ হাজার ৩৭৫ জন, ২০২০ সালে ১১ হাজার ২৬৯ জন, ২০২১ সালে ১৯ হাজার ৯৯৪ জন বাংলাদেশি আশ্রয় চেয়ে আবেদন করেন।
কিন্তু ২০২২ সালে বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদনের সংখ্যা বিগত বছরগুলোর তুলনায় বাড়তে থাকে। ওই বছর ৩৩ হাজার ৭৩১ জন আশ্রয় চেয়ে আবেদন করেন।
ইউরোপের দেশগুলোয় আশ্রয়ের আবেদন করে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে—এমন শীর্ষ পাঁচ দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। অনেক সময়ই আবেদনের পর সিদ্ধান্ত পেতে শরণার্থী, অভিবাসীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে হয়।
তবে গত বছর ৬ লাখ ৩২ হাজার আবেদনেরই সিদ্ধান্ত দেয়া সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ৭৯ হাজার বা প্রায় অর্ধেক আবেদনই প্রত্যাখ্যান করেছে কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে ১ লাখ ৪৭ হাজার জন শরণার্থী হিসেবে এবং ১ লাখ ৬ হাজার জন সাবসিডিয়ারি প্রোটেকশন বা সহায়ক সুরক্ষার আওতায় থাকার অনুমতি পেয়েছেন।
নিজ দেশে বর্ণ, ধর্ম, জাতীয়তা ও রাজনৈতিক কারণে কেউ নির্যাতনের শিকার হলে বা কারও জীবন হুমকির মুখে থাকলে তিনি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ইউরোপের দেশগুলোতে সুরক্ষা চেয়ে আবেদন করতে পারেন।
উন্নত জীবন, অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা আর নিরাপত্তার আশায় প্রতি বছরই ইউরোপে যান অসংখ্য মানুষ। অবৈধ পথে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করেন অনেকে। কেউবা আবার নানা কারণ দেখিয়ে করেন আশ্রয়ের আবেদন।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এজেন্সি ফর এসাইলাম প্রকাশিত নতুন এক পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক এক তথ্য।
এদিকে গত মাসে ইইউ’র সীমান্ত সুরক্ষা বিষয়ক সংস্থা ফ্রন্টেক্সের এক পরিসংখ্যানে বলা হয়, ২০১৬ সালের পর বর্তমানে ইউরোপে অবৈধ সীমান্ত ক্রসিংয়ের সংখ্যাও আশঙ্কাজন হারে বেড়েছে।
বেশিরভাগই যেতে চেয়েছেন ইতালি ও ফ্রান্সে। শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউরোপীয় ইউনিয়ন এজেন্সি ফর এসাইলাম (ইইউএএ) প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে নতুন এই তথ্য উঠে এসেছে।
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালির মতো যেসব দেশ আশ্রয়প্রার্থীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকে, তারা নিজেদের অভিবাসন নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে ইউরোপের অধিকাংশ দেশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
Leave a Reply