শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪, ০৯:৪০

যুক্তরাজ্যে সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু

যুক্তরাজ্যে সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু

ছয় সপ্তাহের নির্বাচনী প্রচারণা শেষে যুক্তরাজ্যজুড়ে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। নতুন সরকার গঠনে ভোট দিতে শুরু করেছে দেশটির সাধারণ জনগণ।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়, চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। ইংল্যান্ড, স্কট্যান্ড, ওয়েলস এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডজুড়ে প্রায় ৪০ হাজার ভোট কেন্দ্রে ভোট দেওয়া শুরু করেছে ভোটাররা।

এবারের নির্বাচনে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হচ্ছে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি এবং বিরোধী লেবার পার্টি। তবে নির্বাচনে কেয়ার স্টারমারের লেবার পার্টি রেকর্ড ভাঙা জয় পেতে যাচ্ছে বলে স্বীকার করেছে দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা দল কনজারভেটিভ পার্টি।

এ নির্বাচনে ঋষি সুনাক তার নিজের আসন হারানোর বিষয়ে উদ্বিগ্ন বলে জানা গেছে। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আগামী পাঁচ বছরের জন্য হাউস অব কমন্সের ৬৫০ জন এমপিকে (পার্লামেন্ট সদস্য) বেছে নেবেন ভোটাররা।

এবারের নির্বাচনে ছোট-বড় মিলিয়ে অন্তত ৯৮টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে। যার মধ্যে ৩৫টি রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীর সংখ্যা মাত্র একজন করে।

সারভেশনের নির্বাচন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পার্লামেন্টের ৬৫০ আসনের মধ্যে অন্তত ৪৮৪টিতে জয়লাভ করতে পারে লেবার পার্টি, যা ১৯৯৭ সালে টনি ব্লেয়ারের নেতৃত্বাধীন লেবারের ৪১৮ আসনে জয়ের চেয়েও বেশি। সেবার ব্রিটেনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আসনে জয়ের অনন্য কীর্তি গড়েছিল লেবার পার্টি। অপরদিকে কনজারভেটিভ পার্টি মাত্র ৬৪ আসনে জয় পাবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

যদি এ ধারণা সঠিক হয়, তাহলে ১৮৩৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া কনজারভেটিভ পার্টি তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে কম আসনে জয় পাওয়ার লজ্জায় পড়বে।

২০১০ সালের নির্বাচনে ৪ হাজার ১৫০ জন প্রার্থীর রেকর্ড ভেঙে এবার ৪ হাজার ৫১৫ জন প্রার্থী হয়েছেন। একেকটি আসনে গড়ে ৭ জন করে প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৩১৭ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন ৪৫৯ জন।

অন্যদিকে এবারের নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক অংশ নিচ্ছেন। বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এবার ২৩ জন ব্রিটিশ বাংলাদেশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র হিসেবে অংশ নিচ্ছেন ১১ জন। অর্থাৎ ৩৪ জন ব্রিটিশ বাংলাদেশি এবার যুক্তরাজ্যের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সবশেষ জরিপের ফল অনুযায়ী, ৪০ পয়েন্ট নিয়ে প্রথম অবস্থানে ছিল লেবার পার্টি। ২১ পয়েন্টে দ্বিতীয় অবস্থানে বর্তমান ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি ভালো ফলাফল করলেও নির্বাচনী জরিপে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে রিফর্ম ইউকে।

সার্ভেশনের পোলিং বিশ্লেষণে দেখা যায়, লেবার পার্টি ৬৫০টি আসনের মধ্যে ৪৮৪টি আসন জিততে পারে, যা পার্টির সাবেক নেতা টনি ব্লেয়ারের ১৯৯৭ সালের ভূমিধস বিজয়ে ৪১৮টি আসনের চেয়ে অনেক বেশি। আর ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি পেতে পারে ৬৪টি আসন। ১৮৩৪ সালে পার্টি প্রতিষ্ঠার পর এবার সবচেয়ে কম আসনে জিততে পারে তারা।

এবারে যে দুই দল সবচেয়ে বেশি ভোট পেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে, তারা হলো, ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি ও বিরোধী লেবার পার্টি। ৪৪ বছরের ঋষি সুনাক কনজারভেটিভ পার্টির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ২০২২ সালে যখন তিনি প্রধানমন্ত্রী হন, তখন তার বয়স ছিল ৪২। আধুনিক সময়ে ব্রিটেনের সবচেয়ে কম বয়সের প্রধানমন্ত্রী তিনি। শুধু তাই নয়, তার হাত ধরেই এ প্রথমবার কোনো ব্রিটিশ-ভারতীয় ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন।

অন্যদিকে লেবার পার্টির নেতৃত্বে রয়েছেন স্যার কিয়ের স্টারমার। তার বয়স ৬১ বছর। ২০২০ সালে জেরেমি করবিনের পর দলের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নির্বাচিত হন তিনি। নির্বাচনে প্রধান দলগুলো জনমত নিজেদের দিকে টানতে চলমান সমস্যার সমাধানে ও সুসংহত যুক্তরাজ্য গড়ে তুলতে নির্বাচনি ইশতেহারে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিনে গতকাল কনজারভেটিভ পার্টির প্রধান ঋষি সুনাক এবং লেবার প্রধান স্টারমার প্রচারণা চালিয়েছেন। তারা দেশের অর্থনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেন। দুই জনই দাবি করেন যদি তাদের প্রতিপক্ষ জয় পায়, তাহলে অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে।

এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক খবরে বলা হয়েছে, লেবার পার্টি রেকর্ড ভাঙা জয় পেতে যাচ্ছে বলে স্বীকার করেছেন দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা দল কনজারভেটিভ পার্টির এক মন্ত্রী। এর মাধ্যমে নির্বাচনের একদিন আগেই কার্যত পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছে কনজারভেটিভ পার্টি।

কনজারভেটিভ মন্ত্রী মেল স্ট্রাইড বিবিসিকে বলেন, আমি পুরোপুরি মানি, এই মুহূর্তে নির্বাচনের অর্থ হলো- লেবারের সবচেয়ে বড় ভূমিধস জয় দেখতে পাব আমরা। এখন বড় যে বিষয়টি হলো বিরোধী দল হিসেবে আমরা কি করতে পারব।

২০২২ সালে আইনে পরিবর্তন আনার পর প্রায় ২০ লাখ ব্রিটিশ নাগরিক যারা ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিদেশে বসবাস করছেন তারা ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করতে সক্ষম হয়েছেন।

এটাই প্রথম সাধারণ নির্বাচন যেখানে ইংল্যান্ড, ওয়েলস এবং স্কটল্যান্ডের ভোটারদের ব্যক্তিগতভাবে ভোট দেওয়ার জন্য ফটো আইডি দেখাতে হবে। পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, বয়স্ক বা অক্ষম ব্যক্তির বাস পাস এবং ওয়েস্টার ৬০ প্লাস কার্ডসহ ২২টি আইডি কার্ড এক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হবে।

২০০৩ সাল থেকে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে ভোট দেওয়ার জন্য ৯টি বৈধ আইডি কার্ড রয়েছে যেগুলো দেখিয়ে ভোটারদের ভোট দিতে হয়। ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলসে যারা আইডি হারিয়েছেন তারা অন্য কোনো নিবন্ধিত ভোটারের মাধ্যমে জরুরি প্রক্সি ভোট দিতে পারবেন।

উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্সের আসন সংখ্যা ৬৫০টি। এবারের নির্বাচনে ব্রিটেনের পার্লামেন্ট সদস্যদের নির্বাচিত করতে ভোটে অংশ নিচ্ছে প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ ভোটার। আজই ভোটারদের ভোটের মাধ্যমে নির্ধারণ হবে কারা হাউস অব কমন্সে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে।

ভোটের ফলাফল আজ রাতে বা শুক্রবার সকালে ঘোষণা করার কথা রয়েছে। পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যেকোনো দলকে কমপক্ষে ৩২৬টি আসনে জয়ী হতে হবে। নির্বাচনে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী যে কেউ ভোট দিতে পারবেন।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2024