শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪, ১০:৩২

ব্রিটিশ মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞতা ও বৈচিত্র্যের প্রাধান্য

ব্রিটিশ মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞতা ও বৈচিত্র্যের প্রাধান্য

দীর্ঘ ১৪ বছর পর ক্ষমতায় আসা লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বে ব্রিটেনের নতুন মন্ত্রিসভা গঠনে প্রাধান্য পেয়েছে অভিজ্ঞতা ও বৈচিত্র্য।

এই মন্ত্রিসভায় পূর্বে লেবার সরকারে কাজ করা চারজন সদস্যসহ বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ রাজনীতিক স্থান পেয়েছেন। মন্ত্রিসভায় ব্রিটেনের বৃহত্তর লন্ডনের এমপিরাও প্রাধান্য পেয়েছেন। যা স্টারমারের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার ছাপ স্পষ্ট করেছে।

সামাজিক সুরক্ষা পুনরুদ্ধার, অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার এবং পরিবেশ সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘদিন পর ক্ষমতায় ফিরেছে লেবার পার্টি। ব্রিটেনের জনসাধারণের জন্য এই সরকার কতটা কার্যকরী হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বিভিন্ন মতামত রয়েছে।

বিশ্লেষক জন কার্টিস বিবিসে বলেছেন, এই মন্ত্রিসভা লেবার পার্টির ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নির্দেশ করছে। স্টারমার অতীতের অভিজ্ঞতা ও নতুন চিন্তা-ভাবনা একত্রিত করেছেন। যা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সঠিক পদক্ষেপ হতে পারে।

ব্রিটিশ রাজনৈতিক বিশ্লেষক রিচার্ড উইটিংটন দ্য গার্ডিয়ানকে বলেছেন, স্টারমারের এই মন্ত্রিসভা দেখাচ্ছে যে, তিনি নেতৃত্ব দিতে একটি নির্ভরযোগ্য দল গঠনে সক্ষম। তবে, নতুন চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে তাদের কৌশলগত দক্ষতা প্রমাণ করতে হবে।

নতুন সরকারকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, স্বাস্থ্যসেবা উন্নতি এবং সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণে অবিলম্বে কাজ করতে হবে। স্টারমার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তার সরকার স্থিতিশীল ও কার্যকরী নীতি প্রণয়নে অগ্রাধিকার দেবে। যা দেশের অর্থনীতি ও সমাজকে শক্তিশালী করবে।

নিউ স্টেটসম্যানের রাজনৈতিক সম্পাদক প্যাট্রিক ম্যাগুয়ার মন্তব্য করেছেন, লেবার সরকারের প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ হবে অর্থনীতির বর্তমান অবস্থাকে শক্তিশালী ভিত্তিতে দাঁড় করানো। সফল হলে এটি ক্ষমতায় তাদের দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকা নিশ্চিত করবে।

স্টারমারের মন্ত্রিসভায় রয়েছে লিঙ্গ, জাতিগত ও ভৌগোলিক বৈচিত্র্য। এটি ব্রিটেনের ইতিহাসে সবচেয়ে লিঙ্গ-ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা। ১৯৭৯ সালের পর এবার সর্বোচ্চ সংখ্যক নবাগত এমপি পার্লামেন্টে বসবেন। যা নতুন ভাবনার সঞ্চার করতে পারে।

সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, নতুন সরকার নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কিছু মানুষ আশাবাদী যে, অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে নতুন মন্ত্রিসভা দেশকে নতুন পথে নিয়ে যাবে। অন্যদিকে, কনজারভেটিভ পার্টি ও তাদের সমর্থকরা কৌশলগত ভুলগুলো তুলে ধরছে।

ইউগভ-এর সাম্প্রতিক জরিপ বলছে, ৪৫ শতাংশ ভোটার মনে করেন নতুন মন্ত্রিসভা সরকারের কার্যক্রমকে আরও কার্যকরী করবে। তবে ৩৫ শতাংশ এখনও সন্দিহান।

মন্ত্রিসভায় কয়েকজন উল্লেখযোগ্য লেবার নেতার অনুপস্থিতি বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। যারা আশা করেছিলেন তারা যুক্ত হবেন। কিন্তু হয়নি। তাদের বাদ পড়ার কারণ নিয়ে বিভিন্ন জল্পনা-কল্পনা চলছে।

স্টারমারের মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন ডেভিড ল্যামি, যিনি মাত্র ২৭ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ঠ এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। টনি ব্লেয়ার ও গর্ডন ব্রাউনের অধীনে জুনিয়র মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। উপ-প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অ্যাঞ্জেলা রায়নার এবং ব্রিটেনের প্রথম নারী চ্যান্সেলর হিসেবে র‍্যাচেল রিভস নিয়োগ পেয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন এভেট কুপার। এছাড়া মন্ত্রিসভায় এশীয় বংশোদ্ভূত দুই মন্ত্রী রয়েছেন— মুসলিম নারী এমপি শাবানা মাহমুদ ও লিসা নন্দি।

পরবর্তীতে মন্ত্রিসভায় রদবদল হলে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপি রুশনারা আলী, রূপা হক ও টিউলিপ সিদ্দিকের অন্তত একজন যুক্ত হতে পারেন এই আশায় আছেন লেবার পার্টির রাজনীতিতে সক্রিয় কয়েক লাখ বাংলাদেশি।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2024