শীর্ষবিন্দু নিউজ: ডা. শামসুল আলম খান মিলনের শাহাদাত বার্ষিকীতে এই প্রথম দাওয়াত করা হয়নি স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে। ১৯৯০ এ গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বৈরশাসক এরশাদের পতনের পর থেকে গত ২২টি বছর মিলন দিবসে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অতিথি হয়ে এসেছেন। আর এ মুহূর্তে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসে আছেন স্বৈরশাসক এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদ।
শহীদ চিকি্ৎসক মিলনের মা সেলিনা খাতুন বলেন, এই সময়ে রওশন এরশাদকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী করা মানে আমার মিলনকে অপমান করা। এটা তো পুরো চিকিত্সক সমাজেরই অপমান। এবার আমি কোথাও যাব না। আমি একাই আজ ওর কবর জিয়ারত করে এসেছি। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব এম ইকবাল আর্সালান স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বুধবার ডা. মিলনের স্মরণসভায় আমন্ত্রণ না জানানোর কারণ ব্যাখ্যা করেন।
তিনি বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বাংলাদেশের চিকিৎসকেরা পুরোভাগে ছিলেন। মিলন শহীদ হয়েছিলেন। এ আন্দোলনে যাঁরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন তাঁদেরকে সঙ্গে করে দিনটি আমরা পালন করি। বিএমএ স্মরণসভার যে কার্ড ছাপিয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে আমন্ত্রিতদের মধ্যে রয়েছেন শহীদ মিলনের মা সেলিনা আক্তার, গণপূর্ত, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুর রহমান সেলিম, সাংসদ মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক বদিউজ্জামান ভূঁইয়া ডাবলু।
১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর শামসুল আলম খান মিলনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে স্বৈরশাসক এরশাদের বিরুদ্ধে প্রায় এক দশক জুড়ে চলা আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ পায়। গণ-অভ্যুত্থানের ভয়ে ভীত এরশাদের লেলিয়ে দেওয়া ক্যাডাররা এই দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সামনে গুলি করে হত্যা করে বিএমএর যুগ্ম সম্পাদক মিলনকে। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিএমএর তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে আওয়ামী লীগের সাংসদ মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন।
স্বৈরশাসকের পতনের পর থেকে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল শহীদ মিলন দিবস পালন করে আসছে। দুই দলের প্রধান শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া বাণী দিয়ে থাকেন। বাণী দেন রাষ্ট্রপতিও। যদিও নির্বাচনের আগে দুই দলই এরশাদকে দলে টানার চেষ্টা করে আসছে। ডাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা মুস্তাক আহমেদ প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, এ সময়ে এমন একজন ব্যক্তিকে (রওশন এরশাদ) স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদে বসানো খুবই লজ্জাজনক।