আজ শুক্রবার। পবিত্র জুমাবার। আজকের বিষয় ‘সময়ের মূল্য’। শীর্ষবিন্দু পাঠকদের জন্য এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ‘ইসলাম বিভাগ প্রধান’ ইমাম মাওলানা নুরুর রহমান।
মানবজীবনে সময়ের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই মানব জাতির জীবন বিধান পবিত্র আল কুরআনে সময় অপচয় ও অনর্থক কাজে ব্যয় করার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
মানবজীবনে সময়ের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি, তাই সময়ের মূল্যায়ন করা অপরিহার্য। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মহাকালের শপথ!
মানুষ অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত, কিন্তু তারা নয়; যারা বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয় ও ধৈর্য ধারণে সহায়তা করে।’ (সুরা আসর, আয়াত: ১-৩)।
আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তারা কি ধারণা করে নিয়েছে তাদের অনর্থক সৃষ্টি করা হয়েছে। তাদের আমার দিকে ফিরে আসতে হবে না? (সূরা আল-মুমিনুন : ১১৫)।
সময়ের গুরুত্ব উপলব্ধি: মানুষ সময়ের গুরুত্ব উপলব্ধি করে না।
কাজকর্মে নিষ্ক্রিয় ও অলস হয়ে পড়ে। সুস্থ ও অবসরের সময়ের ব্যাপারে উদাসীন থাকে। ফলে অসুস্থ বা ব্যস্ত হয়ে পড়লে তার কাছে সময়ের প্রকৃত মূল্য উপলব্ধি হয়। হাদিসের ভাষ্যমতে, খুবই অল্প সংখ্যক মানুষ এই দুই সময়ের সদ্ব্যবহার করতে পারে।
ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, দুটি নিয়ামত এমন রয়েছে যে ব্যাপারে অধিকাংশ লোক প্রতারিত হয়। তা হলো- সুস্থতা ও অবসর সময়।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৪১২)
সময়ের ব্যাপারে ছাড় নয়
ইমাম ইবনুল কাইয়িম (রহ.) বলেছেন, ‘সময়ের ব্যাপারে ছাড়ের প্রবণতা আত্মঘাতি। কারণ সময় অতি দ্রুত অতিবাহিত হয়। কারো জন্য অপেক্ষা করে না।
আমাদের জীবনে সময়ের মূল্য ও সময়ের গুরুত্ব নিয়ে কুরআনের আয়াত এবং আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মাদ (সা) সময়ের গুরুত্ব নিয়ে হাদিস কি বলেছেন তা জানবো। মুমিন জীবনে সময়ের মূল্য কতটুকু ও সময়ের গুরুত্ব দারসুল হাদিস আলোচনা করাবো।
হাদিসের আলোকে সময়ের গুরুত্ব
عَنْ بنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهٍ صَلىَّ اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمْ لِرَجٌلٍ وَهُوَ يَعِظُهُ : ” اِغْتَنِمْ خَمْسًا قَبْلَ خَمْسٍ شَبِابَكَ قَبْلَ هَرَمِكَ وَصِحَّتُكَ قَبْلَ سُقْمٍكَ وَغِنَاكَ قَبْلَ فَقْرِكَ وَفَرَاغَكَ قَبْلَ شُغْلِكَ وَحَياتَكَ قَبْلَ مَوْتٍك ” (أخرجه الحاكم في المستدرك رقم )7846
সময়ের মূল্য নিয়ে হাদিস
প্রসিদ্ধ সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা: থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: কোন এক ব্যাক্তিকে রাসূল স: উপদেশ দেওয়ার সময় বললেন: তুমি পাঁচটি বিষয়ের পূ্র্বে পাঁচটি বিষয়কে গুরুত্ব দাও।
(১) বার্ধক্য আসার পূর্বে তোমার যৌবনে গুরুত্ব দাও
(২) অসুস্থতার পূর্বে তোমার সুস্থতাকে গুরুত্ব দাও
(৩) দারিদ্রতা আসার আগে তোমার সচ্ছলতাকে গুরুত্ব দাও
(৪) তোমার ব্যস্ততার পূর্বে তোমার অবসরতার প্রতি গুরুত্বারোপ করো
(৫) এবং তোমার মৃত্যু আসার আগেই তোমার জীবনের গুরুত্ব দাও। মুসতাদরিক ৭৮৪৬।
সময়ের গুরুত্বের শিক্ষা
এই শিক্ষা আমাদের যথাযথ ব্যবহার করা। কাজটি আজ নয় আগামী কাল করব, এমন কথা না বলা। আখেরাতের চিন্তা নিয়ে সময়ের সৎ ব্যবহার করা। ইবাদতের জন্য আগামীকালকে নির্ধারণ না করা।
এ অবস্থায় প্রতিটি যুবকের উচিৎ তাদের শত্রূকে চেনা এবং তাদের এড়িয়ে চলা। সুতরাং যুবকদের উচিৎ যৌবন নামক সোনালী সময়কে গুরুত্ব দিয়ে আল্লাহর ইবাদতে নিজেকে ব্যস্ত রাখা। এ ক্ষেত্রে সমাজে প্রতিষ্ঠিত সকল পাপাচার মুলৎপাটনে সর্বচ্ছো চেষ্টা করা।

Leave a Reply