জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সিলেট সব সময়ই বঞ্চিত। ব্রিটিশ আমলে সিলেটের করিমগঞ্জ জেলা ভারতের অংশ করা হয়েছে। এরপর পাকিস্তান আমল ও বাংলাদেশেও সিলেটের উন্নয়ন হয়নি। তেল, গ্যাস ও পাথর সম্পদে সমৃদ্ধ সিলেটকে সঠিক ব্যবস্থাপনায় সমৃদ্ধ অঞ্চলে পরিণত করতে হবে।
শুক্রবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় সিলেটে ‘জুলাই পদযাত্রা’ শেষে নগরীর চৌহাট্টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত সমাবেশে এসব কথা বলেন এনসিপি আহ্বায়ক।
সমাবেশে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, বিচার, সংস্কার ও নতুন বাংলাদেশ গঠনে ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে জুলাই সনদ ও জুলাই ঘোষণাপত্র নিশ্চিত করা হবে। সমাবেশ থেকে জুলাই ঘোষণাপত্র ও জুলাই সনদ আমরা আদায় করে নেবো।
জুলাই অভ্যুত্থানে সিলেটের প্রবাসীদের অবদান স্বীকার করে তিনি বলেন, সিলেটের প্রবাসীরা গণঅভ্যুত্থানে আমাদের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। আমরা তাদের ভুলবো না। এই প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। আমরা চাই, প্রবাসীরা বাংলাদেশের নীতি নির্ধারণের অংশ হবে।
সিলেটবাসীর উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, আগামীর নতুন বাংলাদেশে সিলেট হবে এনসিপির অন্যতম দুর্গ। সিলেটবাসী আজ তা দেখিয়ে দিয়েছেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, এনসিপি বিএনপিবিরোধী বলে যে প্রচার করা হচ্ছে তা ঠিক নয়। তবে বাংলাদেশে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট চলতে দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, সিলেটের চা বাগানের শ্রমিকরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের ঠিকমতো মজুরি দেওয়া হয় না। চা বাগানের লাভ শুধু মালিক নয়, শ্রমিকদের দেওয়ার ব্যবস্থা করবে এনসিপি।
এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আমাদের দেশ কখনও প্রশাসনের, কখনও ব্যবসায়ীর আবার কখনও সেনাবাহিনীর হয়েছে, জনতার হয়নি। আমরা জনতার বাংলাদেশ গঠন করতে চাই।
‘আওয়ামী লীগের সুবিধা নিয়ে যারা লেখক হয়েছেন, যারা আওয়ামী লীগ আমলে মিডিয়া খুলেছেন তাদের দিকে বিশেষভাবে নজর রাখতে হবে’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, এনসিপি কোনও চাঁদাবাজ দল নয়। আওয়ামী লীগের চ্যাপ্টার ক্লোজ করে এনসিপি উঠে এসেছে।
এর আগে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় সিলেটের চৌহাট্টা থেকে পদযাত্রা শুরু করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। পদযাত্রাটি পুনরায় চৌহাট্টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পথসভায় মিলিত হয়।
এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের সঞ্চালনায় পথসভায় যুগ্ম আহ্বায়ক অনিক রায় ও এহতেশামুল হক, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা, সিনিয়র মুখ্য সংগঠক সাদিয়া ফারজানা দিনা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমীন, কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক গোলাম মর্তুজা সেলিমসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে সমাবেশকে ঘিরে সকাল থেকেই উৎসুক সিলেটের আপামর জনতা ও দলটির সমর্থকরা। সমাবেশ ঘিরে পুরো এলাকা জুড়ে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) রাতে সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার স্বয়ং সভামঞ্চ পরিদর্শন করেন।
সমাবেশকে কেন্দ্র করে চৌহাট্টার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় সিলেটের বিভিন্ন ইউনিটের ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টারে ছেয়ে যায় চারপাশ। তৈরি হয়েছে মূল মঞ্চ। নগরজুড়ে নির্মাণ করা হয়েছে তোরন। রাত থেকেই সিলেট মহানগর পুলিশের নজরদারিতে ছিল পুরো এলাকা।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, এনসিপি কোনো চাঁদাবাজের দল নয়। এনসিপি কোনো টেন্ডারবাজের দল নয়। এনসিপি উঠে এসেছে সংকট থেকে। সমস্যা সমাধান করেই এনসিপি উঠে এসেছে। ফ্যাসিবাদের কবর রচনা করে এনসিপি উঠে এসেছে। আওয়ামী লীগের চ্যাপ্টার ক্লোজ করেই এনসিপি উঠে এসেছে।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আপনারা এনসিপির হাতকে শক্তিশালী করে তুলুন। আমরা আপনাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, এনসিপির নেতৃত্বে ক্ষমতা আমরা জনতার হাতে তুলে দেবো। আপনারা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবেন, আমাদের সংকট এখনও শেষ হয়ে যায়নি। আমাদের সামনে লড়াই রয়েছে।
আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের একটা পক্ষ যারা আওয়ামী লীগের সুবিধা নিয়ে লেখক হয়েছে, সুবিধা নিয়ে অ্যাক্টিভিজম করেছে, যারা মিডিয়া খুলেছে তাদের প্রতি আমাদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
আওয়ামী লীগ আবার বিভিন্নরূপে আমাদের সমাজে ফিরতে পারবে না, কিন্তু বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করবে। তাদেরকে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।
হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও বলেন, নতুন করে আবার দেখতে পাচ্ছি, আমাদের মুজিববাদের পাহারাদার দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। তারা কথায় কথায় আমাদের বাংলা ছাড়তে বলছে। আমরা বলব, চাঁদাবাজ আর দখলদার, বাংলা নয় তাদের বাপ দাদার।
Leave a Reply