রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৩০

হালাল দাবি করে জালিয়াতি করা ব্রিটিশ বাংলাদেশি ব্যবসায়ী কারাগারে

হালাল দাবি করে জালিয়াতি করা ব্রিটিশ বাংলাদেশি ব্যবসায়ী কারাগারে

২০১৯ সালের জানুয়ারিতে কার্ডিফ এবং ভেলের শেয়ার্ড রেগুলেটরি সার্ভিসেসের শুরু করা একটি তদন্তে এই জালিয়াতিমূলক অপারেশনটি প্রকাশ্যে আসে।

হালাল নয় এমন মাংস‌কে হালাল দা‌বি ক‌রে জালিয়াতি করে ব্যবসা পরিচালনার দায়ে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন হামিল মিয়া (৪৬) নামে এক ব্রিটিশ বাংলাদেশি।

মৌলভীবাজারের আদি বা‌সিন্দা হামিল মিয়া লন্ডনে ইউনিভার্সাল ফুড হোলসেল লিমিটেডের মালিক। তাকে চার বছর আট মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

তার সহ-অভিযুক্ত, কার্ডিফের ৪৬ বছর বয়সী নোয়াফ রহমান, বিচার শুরু হওয়ার আগেই জালিয়াতির অভিযোগ স্বীকার করে ২৪ মাসের স্থগিত দণ্ড পেয়েছেন।

প্রসিকিউটর অ্যালেক্স গ্রিনউড মের্থির টাইডফিল ক্রাউন কোর্টে জানান যে, পাঁচ বছর ধরে দক্ষিণ এবং পশ্চিম ওয়েলসের অসংখ্য রেস্তোরাঁ ও টেকঅ্যাওয়ের গ্রাহকরা অজান্তেই হালাল নয় এমন মাংস গ্রহণ করেছেন, যা এই আসামিদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সরাস‌রি প্রমাণ।

তদন্তে এই দুই ব্যক্তির কার্ডিফের গুদামে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের চিত্র ওঠে আসে, যেখানে ২,৮৪০ কেজি হিমায়িত মাংস জব্দ করা হয়। এ মাংসের উৎস সম্পর্কে সঠিক তথ্যের সম্পূর্ণ অভাব, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ পরিবর্তন করা, এবং অপরিষ্কার ভ্যানে, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে ও পর্যাপ্ত শীতলীকরণ ছাড়াই মুরগি পরিবহনের প্রমাণ মে‌লে তদন্তে।

আদালত জান‌তে পে‌রে‌ছে যে কিছু মুরগি প্রাথমিকভাবে হালাল হিসাবে কেনা হলেও, গুদামের “কাটিং রুম” হালাল মাংস প্রক্রিয়াকরণের জন্য প্রয়োজনীয় কঠোর স্বাস্থ্যবিধির মান মেনে চলেনি।

এই একই সুবিধা হালাল নয় এমন মাংস প্রক্রিয়াকরণের জন্যও ব্যবহৃত হতো, যার ফলে সমস্ত পণ্য দূষিত হয়ে যায় এবং সেগুলোকে সঠিকভাবে হালাল বলে দা‌বি করা যায় না।

প্রসিকিউশন জোর দিয়ে বলেছে যে, আসামিরা একাধিক কোম্পানি গঠন করেছিল, ইচ্ছাকৃতভাবে একটি “কর্পোরেট আড়াল” তৈরি করে তাদের অবৈধ কার্যক্রম গোপন রাখার এবং একটি “বিভ্রান্তিকর পথ” তৈরির জন্য।

বিচারক ভেনেসা ফ্রান্সিস তাদের “উদাসীন মনোভাবের” তীব্র নিন্দা করেছেন এবং উভয়কে সমানভাবে দোষী সাব্যস্ত করেছেন, “ব্যাপক ক্ষতি” এবং “দীর্ঘ সময় ধরে গুরুতর লঙ্ঘন”-এর ওপর জোর দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, উদ্বেগজনকভাবে, দীর্ঘ সময় ধরে গুদামটিতে কোনও হালাল মাংস পাইকারি বিক্রেতাদের কাছ থেকে আসেনি, তবুও তারা রেস্তোরাঁ ও টেকঅ্যাওয়েতে মুরগি সরবরাহ করে গেছেন, ক্রেতারা বিশ্বাস করতো যে তারা হালাল পণ্য কিনছে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026