লন্ডনে শিক্ষা ও সমাজসেবায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১১ বছর বয়সী জয়নাব চৌধুরী মর্যাদাপূর্ণ টাওয়ার হ্যামলেটস সিভিক অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ অর্জন করেছেন। যুক্তরাজ্য ও আন্তর্জাতিক পরিসরে ভাবমূর্তি তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর ব্যতিক্রমী ভূমিকার জন্য তাঁকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
জয়নাব চৌধুরী হচ্ছেন কমলগঞ্জের তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এবং লন্ডনের একাধিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা, ট্রাস্টি এবং কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব হাসান চৌধুরী (শিপনের) মেয়ে। তাঁর দাদী, রুনা বেগম (বি.এ., বি.এড.), একজন সম্মানিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ডেপুটি হেড টিচার হিসেবে সারা জীবন জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দিয়ে প্রজন্মকে গড়ে তুলেছেন।
লন্ডনে আয়োজিত অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে স্পিকার, ডেপুটি মেয়র, কেবিনেট মেম্বার, চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার, স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি, ব্রিটিশ গণমাধ্যম কর্মীসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
টাওয়ার হ্যামলেটস টাউন হলে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে সিভিক অ্যাওয়ার্ড প্রদানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জয়নবের নাম স্থায়ীভাবে লন্ডনে সিভিক রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হল, যা খুব কম সংখ্যাক মানুষকে প্রদান করা হয়।
এই কোটাগরিতে সর্বকনিষ্ঠ ব্রিটিশ বাংলাদেশী সিভিক অ্যাওয়ার্ড গ্রহীতা জয়নাবকে এই অ্যাওয়ার্ডের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে একজন আদর্শ প্রতিনিধি এবং রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হল। যুক্তরাজ্যের সিভিক ব্যবস্থা ক্রাউন রাজতন্ত্রের অধীনস্থ সাংবিধানিক কাঠামোর অংশ।
জয়নাব চৌধুরী সর্বকনিষ্ঠ ব্রিটিশ বাংলাদেশী লেখিকা। তাঁর প্রকাশিত ‘My Journey Through Cayley Primary’ বইটিতে একজন শিক্ষার্থীর দৃষ্টিতে বিদ্যালয়জীবন, অধ্যবসায়, শিক্ষক–শিক্ষার্থী সম্পর্ক এবং আত্মবিশ্বাস গড়ে ওঠার গল্প সংবেদনশীল ও অনুপ্রেরণামূলক ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।
লেখালেখির পাশাপাশি জায়নাব ছোটবেলা থেকেই সমাজসেবায় যুক্ত। কোভিড-১৯ মহামারির সময় অল্প বয়সেই তিনি খাদ্য সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নেন। পরবর্তীতে চারিটেবল কাজের অংশ হিসেবে তিনি নিয়মিতভাবে খাদ্য বিতরণ, তহবিল সংগ্রহ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির কাজে অংশগ্রহণ করে আসছেন। তাঁর এই দীর্ঘমেয়াদি স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ড তাঁকে কমিউনিটিতে আলাদা মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছে।
জয়নাব বইমেলাসহ বিভিন্ন সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তিনি পড়াশোনায় কৃতিত্বের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ, নেতৃত্বগুণ এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের জন্য প্রশংসিত হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, সিভিক অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তি প্রমাণ করে—যথাযথ উৎসাহ ও সহায়তা পেলে অল্প বয়সেই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
জয়নাব চৌধুরীর এই সাফল্য তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সম্ভাবনার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
Leave a Reply