শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ১১:৩৮

খামেনির মৃত্যুর পর কে হচ্ছেন উত্তরসূরী?

খামেনির মৃত্যুর পর কে হচ্ছেন উত্তরসূরী?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর প্রশ্ন উঠেছে- কে ধরবেন ইরানের হাল?

প্রায় চার দশক ধরে লৌহমুষ্টিতে শাসন করা এই নেতার কোনো আনুষ্ঠানিক উত্তরসূরী নেই। ফলে এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে ইরানের ইসলামি শাসনব্যবস্থা।

ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, ৮৮ জন জ্যেষ্ঠ আলেমদের নিয়ে গঠিত ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ বা বিশেষজ্ঞ পরিষদ নতুন নেতা নির্বাচন করবে। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর এ পর্যন্ত মাত্র একবারই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যখন ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর খামেনিকে নির্বাচন করা হয়েছিল।

তবে বর্তমান পরিস্থিতি আরও জটিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, এই হামলা অব্যাহত থাকতে পারে। এমন অবস্থায় বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্যরা কোনো এক স্থানে মিলিত হওয়ার ঝুঁকি নিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। নতুন নেতাকে অবশ্যই পুরুষ, জ্যেষ্ঠ আলেম, রাজনৈতিকভাবে দক্ষ এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতি অনুগত হতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে কয়েক জনের নাম বেশ আলোতি হচ্ছে। নিচে তাদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরা হলো।

মোজতবা খামেনি: আয়াতুল্লাহ খামেনির দ্বিতীয় পুত্র মোজতবা পর্দার আড়াল থেকে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ‘আইআরজিসি’ এবং আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ’-এর সঙ্গে তার গভীর সখ্যতা রয়েছে।

তবে শিয়া ধর্মতাত্ত্বিক ব্যবস্থায় বংশানুক্রমিক শাসনকে ভালো চোখে দেখা হয় না। বিশেষ করে যে বিপ্লব রাজতন্ত্র হটিয়ে এসেছিল, সেখানে খামেনির ছেলের স্থলাভিষিক্ত হওয়া বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। এছাড়া তিনি ধর্মীয় পদমর্যাদায় খুব একটা উচ্চপর্যায়ের নন। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।

আলিরেজা আরাফি: খামেনির অত্যন্ত আস্থাভাজন এই আলেম বর্তমানে বিশেষজ্ঞ পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান। তিনি শক্তিশালী ‘গার্ডিয়ান কাউন্সিল’-এর সদস্য এবং ইরানের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার প্রধান। তাকে একজন দক্ষ আমলা হিসেবে দেখা হয়। তিনি প্রযুক্তিপ্রেমী এবং আরবি ও ইংরেজি ভাষায় সাবলীল। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তার তেমন ঘনিষ্ঠতা নেই।

মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি: তিনি বিশেষজ্ঞ পরিষদের একজন কট্টরপন্থী সদস্য এবং রক্ষণশীলদের প্রতিনিধি। অতি সম্প্রতি গাজায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে তিনি আলোচনায় আসেন। তিনি মনে করেন, পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সংঘাত অনিবার্য। বর্তমানে তিনি পবিত্র নগরী কোমে ‘ইসলামিক সায়েন্সেস একাডেমি’র প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

হাসান খোমেনি: ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি হওয়ায় তার একটি বিশেষ বিপ্লবগত গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তবে তিনি শাসনব্যবস্থার কট্টরপন্থীদের তুলনায় কিছুটা উদার হিসেবে পরিচিত। ২০১৬ সালে তাকে বিশেষজ্ঞ পরিষদের নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা দেয়া হয়েছিল। নিরাপত্তা বাহিনীর ওপরও তার প্রভাব সীমিত।

হাশেম হোসেইনি বুশেহরি: তিনি বিশেষজ্ঞ পরিষদের প্রথম ডেপুটি চেয়ারম্যান এবং খামেনির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। তবে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তার প্রভাব খুব একটা দৃশ্যমান নয় এবং আইআরজিসি’র সঙ্গে তার সম্পর্কের গভীরতা সম্পর্কেও খুব বেশি জানা যায় না।

ইরানের শাসকগোষ্ঠী বর্তমানে দ্রুত একজন উত্তরসূরি নির্বাচনের চেষ্টা করছে যাতে দেশে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। তবে মার্কিন হামলা অব্যাহত থাকায় এই প্রক্রিয়া কতটা মসৃণ হবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026