বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০১:২৪

আফ্রিকার নতুন রূপ দিয়েছেন ম্যান্ডেলা

আফ্রিকার নতুন রূপ দিয়েছেন ম্যান্ডেলা

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদী শাসনের যে অবসান হতে যাচ্ছে, আশির দশকের শেষদিকে তা অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায়। তবে এটা নিশ্চিত ছিল না, কীভাবে এটা হতে যাচ্ছে বা বর্ণবাদী শাসনের স্থলে কোন ধরনের শাসন আসছে। কারণ, স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের অর্থ হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের আর একনায়ককে সমর্থন দেওয়া বা দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গ শাসকদের সমর্থন দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

ওই সময় অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় গণতন্ত্র ও সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে—রক্ত ঝরবে অনেক। কারণ, তখন শ্বেতাঙ্গদের বাইরে কোনো রাজনৈতিক সংগঠন ছিল না। ষাটের দশকে শ্বেতাঙ্গ শাসকদের কঠোর দমনীতিতে সাউথ আফ্রিকান কমিউনিস্ট পার্টি (এসএসিপি) ও আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (এএনসি) একেবারেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল। ম্যান্ডেলাসহ এই দুটি দলের অধিকাংশ নেতাই তখন কারাবন্দী।

তবে পেছনে ফিরে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে ম্যান্ডেলার লড়াইয়ের দিকে দৃষ্টি দিলে বোঝা যায়, ম্যান্ডেলাকে ছাড়া নতুন দক্ষিণ আফ্রিকা গড়া অসম্ভব। দীর্ঘদিন কারাগারে থেকে ম্যান্ডেলা আদর্শগতভাবে শক্তিশালী হয়েছেন, পরিপক্ব হয়েছেন। এএনসির ‘স্বাধীনতার সনদের’ প্রতি নিজেকে একান্তভাবে নিয়োজিত করেছেন। যে সনদে বলা হয়, ‘দক্ষিণ আফ্রিকা তাদেরই, যারা এ দেশের জনগণ। দক্ষিণ আফ্রিকা কৃষ্ণাঙ্গ-শ্বেতাঙ্গ সবার।

১৯৯৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে যখন এএনসি ক্ষমতায় এল, তখন একটি প্রশ্ন বড় হয়ে উঠেছিল। দক্ষিণ আফ্রিকা কি আফ্রিকা মহাদেশের অন্য দেশগুলোর চেয়ে আলাদা হবে? নাকি একই সমান্তরালে হাঁটবে? দক্ষিণ আফ্রিকার অর্থনীতি তখনো অন্য দেশগুলোর চেয়ে ভালো। কিন্তু প্রয়োজন ছিল বিদেশি বিনিয়োগের। কিন্তু দুর্নীতি, অদক্ষতা আর অস্থিতিশীলতাই ছিল দেশটিতে বিদেশি বিনিয়োগের বড় বাধা। ম্যান্ডেলা আফ্রিকাকে সম্পূর্ণভাবে আফ্রিকানদের হিসেবে গড়তে চেয়েছিলেন। শ্বেতাঙ্গদের শাসনামলে এএনসির সমর্থকেরা এটা প্রায়ই বলতেন, আফ্রিকায় দারিদ্র্যের জন্য বর্ণবাদ দায়ী। দক্ষিণ আফ্রিকার শিল্প জ্বালানি আফ্রিকার উন্নয়নে ব্যবহার করা হলে সবার মঙ্গল হবে। একপর্যায়ে সেটাই সত্য হয়ে সবার কাছে ধরা দেয়। বর্ণবাদের পরাজয়ের পর দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যবসায়ীরা মহাদেশের অন্য দেশগুলোর সঙ্গেও বাণিজ্যের বিস্তৃতি ঘটান।

ম্যান্ডেলা আফ্রিকার অন্য দেশগুলোর একনায়ক শাসকদের সরাসরি নিন্দা করা থেকে বিরত থাকতেন, আবার সর্বজনীন মানবাধিকার, বাক্স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টাও চালাতেন। এই কৌশলেই তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য বিশ্বের অন্যতম উদারপন্থী সংবিধান প্রণয়ন করেন। বহির্বিশ্বের প্রভাব এড়িয়ে ‘আফ্রিকানদের আফ্রিকা’ গড়তে ২০০০ সালে আফ্রিকার দেশগুলোর সংগঠন অর্গানাইজেশন অব আফ্রিকান ইউনিটিকে (ওএইউ) আফ্রিকান ইউনিয়নে (এইউ) রূপ দিতে অন্যতম ভূমিকা রাখেন ম্যান্ডেলা।

এই সংগঠনের মূল সনদের অঙ্গীকার হলো গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা। ম্যান্ডেলার আমলে দক্ষিণ আফ্রিকা যে রাজনৈতিক বা বাণিজ্যিক দিক থেকে সব সময়ই আফ্রিকার অন্য দেশগুলোর সঙ্গে সেতুবন্ধ রক্ষা করে চলেছে, তাও হয়তো নয়। ফলে সাধারণ আফ্রিকানদের কাছে ম্যান্ডেলা নায়ক হলেও অনেক রাজনীতিকের কাছে তিনি হয়তো কৌশলী শক্তিশালী একজন শাসক। ইনডিপেনডেন্ট।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026