বর্তমান রাজনৈতিক সহিংসতায় ব্যবসায়িক কাজে আসা বিদেশি ক্রেতারা তাদের জীবন নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। আর জীবন শঙ্কায় ব্যবসায়ী কাজে বাংলাদেশে আসতে অনীহা দেখাচ্ছেন বিদেশি ক্রেতারা।
পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে এ তথ্য জানা গেছে। পোশাক মালিকেরা বলছেন, এ অবস্থায় বাংলাদেশে আসতে রাজি নন ক্রেতারা। আর এ কারণে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পোশাক শিল্প যাচ্ছে। জানা গেছে, সাধারণত বছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর মাসে দেশের পোশাক কারখানাগুলোতে বড় বড় অর্ডার আসে। কিন্তু গত কয়েক মাসের রাজনৈতিক সহিংসতায় চলতি বছরে তেমন কোনো অর্ডার পায়নি পোশাক মালিকরা।
বিজিএমইএ’র নেতারা জানান, এ পরিস্থিতিতে বিদেশি ক্রেতাদের দেশে আসার আহ্বান জানালে তারা জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছে। এছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্রেতাদের নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে ব্যবসায়ীদের।
বিজিএমইএ’র তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারির তুলনায় অক্টোবরে পোশাক শিল্পের অর্ডার কমেছে ৪০ শতাংশ। যার মূল্যমাণ প্রায় ৮শ কোটি ডলার। বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে এ লোকসানের পরিমাণ আরো ২০ শতাংশ কমে যাবে বলে মনে করছে বিজিএমইএ। এছাড়া পোশাক শিল্পের ভারী মেশিন আমদানিও কমেছে উল্লখেযোগ্য হারে। বিজিএমইএ’র হিসাব অনুযায়ী, চলতি গত মার্চে ভারী মেশিন আমদানি করা হয়েছে মোট ৩ কোটি ২০ লাখ ডলারের। অক্টোবর মাসে এর পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ডলার।
অন্যদিকে পোশাক শিল্পের শুল্ক মুক্ত আমদানি সনদ ইউডি’র পরিমাণ কমেছে প্রায় ৩৩ শতাংশ। গত জানুয়ারি মাসে মোট ইউডি খোলা হয়ে ছিলো ৩ হাজার ৩৮টি এবং অক্টোবর মাসে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৩টি। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে দেশের অর্থনীতি ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন এফবিসিসিআই’র প্রথম সহ-সভাপতি মোনোয়ারা হাকিম আলী।
হাকিম আলী বলেন, ব্যবসায়ীরা ধীরে ধীরে শ্রমিকদের নিয়ে যে অর্থনীতি গড়ে তুলেছে তা আজ হুমকির মুখে। ক্রেতারা এখন আমাদের ওপর ভরসা পাচ্ছে না এমন অভিযোগ সঠিক। কিন্তু আমি আশাবাদী যে, অতি দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে। নয়তো ব্যবসায়ীরাও মাঠে নামতে বাধ্য হবে। তিনি আরো বলেন, ব্যবসায়ীরা ব্যবসায় করতে চায়, রাজনীতি নয়। কিন্তু এ সহিংসতার কারণেই আজ কঠিন সময় পার করতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।
বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, গত ৩০ বছরেও এ শিল্প এমন কঠিন সময় পার করেনি। এ পরিস্থিতিতে বিদেশি ক্রেতারা সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন, ঝুঁকি নিয়ে তারা এ দেশে আগের মতো বড় বড় অর্ডার দিবে না। যা দেওয়া হচ্ছে তাই নাও, নয়তো তাদের কিছুই করার নেই। যেসব ছোট ছোট অর্ডারগুলোও বিদেশিরা দিতে চাচ্ছে তা পেতেও পোশাক মালিকদের বিদেশে গিয়ে ধরনা দিতে হচ্ছে। ফলে পোশাক শিল্প উল্লেখযোগ্য ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।