মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০১:৫২

শাবিতে তৈরী হচ্ছে দেশের প্রথম ড্রোন

শাবিতে তৈরী হচ্ছে দেশের প্রথম ড্রোন

শীর্ষবিন্দু নিউজ: শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) তরুণ গবেষক দল এবার মানববিহীন বিমান (ড্রোন) তৈরি করতে যাচ্ছে। নতুন বছরের শুরুতেই তারা ড্রোনের একটা বিমান আকৃতির পরীক্ষামূলক ডিজাইন তৈরি করেছেন। এখন চলছে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস সংযোজনের কাজ।

আগামী এপ্রিল মাসে সিলেটের আকাশে তারা ড্রোন উড়াবেন বলে সংবাদ মাধ্যমকে জানান, গবেষক টিমের প্রধান শাবির পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সৈয়দ রেজওয়ানুল হক নাবিল।
শুক্রবার বিকেলে মানববিহীন বিমান (ড্রোন) বানানোর উদ্যোগ নিয়ে সৈয়দ রেজওয়ানুল হক নাবিল কথা জানান, ড্রোন তৈরি টিমের তত্বাবধানে রয়েছেন শাবির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রানিক্স বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

নাবিল ছাড়াও ড্রোন গবেষক টিমে আরও রয়েছেন পদার্থ বিজ্ঞানের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র রবি কর্মকার এবং ২য় বর্ষের ছাত্র মারুফ হোসেন রাহাত। তারা সকলেই সাস্ট রোবটিক্স এরোনটিক্স অ্যান্ড ইন্টারফেসিং রিসার্চ গ্রুপের www.facebook.com/SUSTRoboAero সদস্য।

আপাতত আমরা নিজের টাকাতেই শুরু করেছি। তবে কোনো স্পন্সর পেলে এটা আরো বড় আকারে এবং দ্রত শেষ করা সম্ভব। তবে স্পন্সর না পেলে স্বাভাবিক ভাবে এপ্রিলেই শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আকাশে ড্রোনটি উড়িয়ে দেওয়ার আশাবাদ করেন তিনি।

নাবিল বলেন, এই ড্রোন দিয়ে দেশের সীমানা পাহারা দেওয়া, উপর থেকে তাৎক্ষণিক ছবি তোলা সম্ভব হবে। এছাড়া আবহাওয়া সম্পর্কে তথ্য জানা যাবে। দেশের সেনা বিমান ও নৌবাহিনী এটি ব্যবাহার করে তাদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজ করবে। নাবিল উল্লেখ আরো বলেন, রেলে যেভাবে নাশকতা বাড়ছে তাতে রেলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিচ্ছে। ড্রোন দিয়ে রেল লাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে। অর্থাৎ রেল লাইনের পাহারার কাজ করবে ড্রোন। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এটা ব্যবহার করে দেশের যে কোনো স্থান পর্যবেক্ষন করতে পারবে।

নাবিল জানান, গত বছরের এপ্রিল থেকে তারা ড্রোন তৈরির তাত্বিক কাজ শুরু করেন। এরপর চলতি বছরের শুরু থেকে তারা মূল কাজগুলো শুরু করেছেন। আরও তিন মাস পরেই ড্রোন আকাশে ছাড়া যাবে।
বিশেষত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের চাহিদানুযায়ী ড্রোন ব্যবহার করতে পারবে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী ড্রোনের বিভিন্ন ডিভাইস অন্তর্ভূক্ত করা সম্ভব। আর ড্রোনটি সহজ পদ্ধতিতে চালনা করা যাবে-বলে জানান গবেষক দলের প্রধান নাবিল।

প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক বিশ্বে ড্রোন একটি আলোচিত যন্ত্র। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি ড্রোন যেমন—রাডার ফাঁকি দিয়ে একটি দেশের ভেতর অনায়াসে ঢুকে পড়তে পারে, তেমনি দূরনিয়ন্ত্রিত এসব বিমান লক্ষ্যবস্তুতেও আঘাত হানতে পারে নির্ভুলভাবে।

জানা গেছে, মনুষ্যবিহীন ড্রোন-এ ক্যামেরা থাকে। ওই ক্যামেরার মাধ্যমে গৃহীত ভিডিওচিত্র ভূমি থেকে বিমান নিয়ন্ত্রণকারী অপারেটরের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। আকাশসীমায় পর্যবেক্ষণ চালানো, নিজ দেশের আকাশসীমা পাহারা দেওয়া, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, শত্রুদের বেতার ও রাডার সিস্টেমে ব্যাঘাত ঘটানো, আড়ি পেতে তথ্য জোগাড় করা থেকে শুরু করে প্রয়োজনে আরও ব্যাপক ভূমিকা পালন করতে পারে এ বিমান। এসব বিমান পাইলট বিহীন হওয়ায় যুদ্ধে পাইলটের মৃত্যুঝুঁকি থাকে না তাই যে কোনো পরিস্থিতিতে এ ধরনের বিমান ব্যবহার করা যায়।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026