বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০৪:৩১

বন্ধ হয়ে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে দেশের ৪০০ গার্মেন্টস কারখানা

বন্ধ হয়ে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে দেশের ৪০০ গার্মেন্টস কারখানা

শীর্ষবিন্দু নিউজ: গার্মেন্ট খাতে ২০১৩ সালের বিপর্যয়ের প্রভাবে চলতি বছরে প্রায় ৪শ’ ছোট ও মাঝারি আকারের কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ২০১৩ সাল শুরু হয়েছিল তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে। আর ২০১৪ সালের শুরু হলো সাভারের রানা প্লাজা ধসের নেতিবাচক প্রভাবকে সঙ্গী করে। সঙ্গে যোগ হয়েছে অক্টোপাসের মতো জড়িয়ে থাকা রাজনৈতিক সঙ্কট।

আর এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হবে ছোট ও মাঝারি পোশাক শিল্পসমূহ। ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ-আশুলিয়া এলাকায় প্রায় ১৫ থেকে ২০টির মতো কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানায় বাংলাদেশ নীট পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ)। শুধু তাই না ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়ন নিয়ে নানা শঙ্কায় ইতোমধ্যে কারখানগুলোতে হেলপার নিয়োগ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। আগে যেসব কারখানাগুলোতে হেলপার ছিলো তাদেরও ছাঁটাই করা হচ্ছে। টেক্সটাইল গার্মেন্ট ওয়ার্কাস ফেডারেশন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী গত দেড় মাসে পোশাক শিল্প থেকে প্রায় ২০ হাজার হেলাপারকে ছাঁটাই করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ি, বর্তমান অবস্থা চলমান থাকলে একদিকে অর্ডার আসা যেমন বন্ধ হবে তেমনি রফতানিকাজও ব্যাহত হবে ভয়াবহভাবে। ফলে ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় টাকার যোগান দিতে ব্যর্থ হবে মালিকরা। এই পরিস্থিতিতে ২০১৪ সালে প্রায় ৪০০ কারখানা বন্ধের প্রত্যক্ষ ফলে বেকার হয়ে পড়বে ৪লাখ শ্রমিক। প্ররোক্ষভাবে এই শিল্প সংশ্লিষ্ট অন্যান্য শ্রমিকদের জীবন জীবিকাও পড়বে হুমকির মুখে।

বিজিএমইএ‘র তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালে পোশাক শিল্পে রফতানি আদেশ কমেছে ৪০ শতাংশ। যার মূল্যমান প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার। র্বতমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে তা আরো ২০ শতাংশ কমে যাবে। পোশাক শিল্পের ভারি মেশিনারি আমদানিও কমেছে। অন্যদিকে পোশাক শিল্পের শুল্ক মুক্ত আমদানি সনদ ইউডি’র পরিমাণ কমেছে প্রায় ৩৩ শতাংশ। ২০১৩  সালের জানুয়ারিতে ইউডি খোলা হয়েছিলো ৩ হাজার ৩৮টি যা অক্টোবরে এসে দাঁড়িয়েছে ২হাজার ২৩টিতে।

শিল্পের দুরবস্থার জন্য রাজনৈতিক অস্থিরতাকে দায়ী করে বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি মো. শহীদুল্লাহ আজীম বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতায় এ শিল্প আজ হুমকির মুখে। আমাদের অর্ডার প্রায় বন্ধের পথে। ন্যূনতম মজুরি স্মরকালের মধ্যে সব চেয়ে বেশি বাড়ানো হয়েছে। আমরা তাও মেনে নিয়েছি। কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন কাজ। আমরা সেই বাড়তি কাজ করতে পারছি না। অতিরক্ত ব্যয় ভার বহন করতে গিয়ে চলতি বছর আমাদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় ছোট ও মাঝারি আকারের পোশাক শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026