বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০৭:১১

সোনালী ব্যাংকের মুনাফায় ভরাডুবি

সোনালী ব্যাংকের মুনাফায় ভরাডুবি

হামিদ বিশ্বাস |

রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের মুনাফায় ভরাডুবি হয়েছে। বিদায়ী বছরে মাত্র ৩১১ কোটি ৮৮ লাখ টাকার মুনাফা করেছে ব্যাংকটি। যেখানে কেলেঙ্কারির বছর হিসেবে পরিচিত ২০১২ সালেও হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছিল। সোনালী ব্যাংকের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিষয়টি নিয়ে অর্থনীতিবিদরা শঙ্কিত। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, শঙ্কা নতুন কিছু নয়, তবে এর ক্রমোবনতি আরও বাড়বে। কারণ হলমার্ক কেলেঙ্কারির রেশ যেখানে কাটিয়ে উঠতে পারেনি সেখানে চলছে রাজনৈতিক অস্থিরতা। এর মধ্যেও ব্যাংকের ম্যানেজমেন্ট ভাল হলে অবশ্য-ই ভাল করবে। কিন্তু তারও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ব্যাংকটির আর্থিক খরা একদিনে হয়নি, হয়েছে বহুদিনে। অতীত অনিয়মের মাশুল দিচ্ছে বলে মনে করেন এ অর্থনীতিবিদ।

প্রায় অভিন্ন শঙ্কার কথা জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ। তিনি মানবজমিনকে বলেন, পরিচালনগত দক্ষতা ও সততার অভাবে ব্যাংকটির আজকের এ করুণ চিত্র। তিনি বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের পরিস্থিতি আগে কখনও এমন ছিল না। শক্ত হাতে ব্যবস্থা না নিলে ক্রমেই এটি আরও তলানিতে নেমে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তবে ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা-তদবিরও কম করেনি। কিন্তু কিছুতেই পারছে না ঘুরে দাঁড়াতে। ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে মূলধন ঘাটতি মেটাতে বেশ কিছু টাকা নিয়েছে। বারবার আমানতে সুদের হার কমিয়েছে। কিন্তু ফলাফল শূন্য। জানা গেছে, গত বছরের ছয় মাসে পাঁচবার আমানতের সুদহার পরিবর্তন করেছে সোনালী ব্যাংক।

ব্যাংকটির ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের আমানতের সুদ হার নির্ধারণবিষয়ক সার্কুলার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ২০ই জুন এক সার্কুলার জারি করে ব্যাংকটি আমানতের সুদহার পুনঃনির্ধারণ করে, যা ১লা জুলাই থেকে কার্যকর হয়। এরপর ২১ই আগস্ট, ৬ই অক্টোবর, ১০ই নভেম্বর এবং সর্বশেষ ৩১শে ডিসেম্বর আলাদা আলাদা সার্কুলারের মাধ্যমে নতুন করে নির্ধারণ করা হয় আমানতের সুদ হার। সর্বশেষ সার্কুলার অনুযায়ী, নতুন সুদহার ১লা জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে। এতে বিভিন্ন স্থায়ী আমানতের বিপরীতে সুদ হার .৫০% থেকে ১% পর্যন্ত কমিয়েছে সোনালী ব্যাংক। আগের সার্কুলারগুলোতে ব্যাংকটির বিভিন্ন আমানত স্কিমে সুদহার বাড়ানো অথবা কমানো হয়েছে।

এ ছাড়া ব্যাংকটির বিভিন্ন সঞ্চয় প্রকল্প যেমন মাসিক উপার্জন প্রকল্প, ডাবল বেনিফিট স্কিমেও পরিবর্তন আনা হয়। এগুলোও এক ধরনের আমানত। ২০১২ সালে সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক কেলেঙ্কারিসহ বিভিন্ন দুর্নীতির তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে গ্রাহকদের অনেকেই আমানত তুলে নিতে থাকেন। এর ফলে ব্যাংকটি ব্যাপক নগদ অর্থের সঙ্কটে পড়ে। একসময় ব্যাংকটি কলমানি মার্কেটের ধার দেয়ার অবস্থান থেকে সরে এসে ধার নেয়া শুরু করে। অনেক সময় কলমানি থেকেও ধার পায়নি রাষ্ট্রের এ সর্ববৃহৎ ব্যাংক। ওই সময় বাংলাদেশ ব্যাংক স্পেশাল লিকুইডিটি সাপোর্ট দিয়ে টিকিয়ে রাখে।

যে কারণে আমানত সংগ্রহ বাড়ানোর জন্য সোনালী ব্যাংক আমানতের সুদহার বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে মেয়াদি আমানতের সুদহার বাড়ায় দেড় শতাংশ। তারল্য সঙ্কট কেটে গেলে ব্যাংকটি আবার আমানতের সুদহার কমাতে শুরু করে। প্রথম দু’টি সার্কুলারে বিভিন্ন মেয়াদি আমানতে সুদহার বাড়ানো হলেও শেষ তিনটি সার্কুলারে তা কমানো হয়েছে। সোনালী ব্যাংক দেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক ব্যাংক। ব্যাংকটির বর্তমানে ১২০১টি শাখা রয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটির মোট আমানত প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026