শীর্ষবিন্দু নিউজ: বিশ্ব ইজতেমা শুরুর আগের দিনই তুরাগ তীরে জড়ো হয়েছেন লাখো মুসল্লি। বুধবার রাতেই অনেকে অবস্থান নিয়েছেন ইজতেমা ময়দানে। সকাল থেকে স্রোতের মতো লোক আসছে ইজতেমা ময়দানের দিকে। ট্রেন, বাসে করে মুসল্লিরা এসে অবস্থান নিচ্ছেন তুরাগ তীরে।
আগামীকাল বাদ ফজর থেকে শুরু হবে বয়ান। আর সে থেকে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে মুসলমানদের দ্বিতীয় ধর্মীয় জমায়েতের। প্রথম দফার ইজতেমায় ৩২টি জেলার মুসল্লিরা অংশ নিচ্ছেন। এদিকে ময়দানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও আনসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আজ সকাল থেকে সংশ্লিষ্টরা নিজ নিজ অস্থায়ী ক্যাম্পে অবস্থান নিয়েছেন। তাদেরও দায়িত্ব বণ্টন করে দেয়া হয়েছে।
টঙ্গীর তুরাগ তীরে ইজতেমার বিদেশি নিবাসে গ্যাস সংকটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অথিথিদের সুবিধার্থে সেখানে গ্যাস, বিদ্যুৎসহ সব ধরনের ব্যবস্থা আছে বলা হলেও বুধবারেই সেখানে গ্যাস সংকটে রান্নার কাজে ব্যাঘাত ঘটছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
বিদেশি মেহমানখানার খাবারের জিম্মাদার মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, সবচেয়ে প্রয়োজনীয় সময় সকাল ৯টা/১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত গ্যাসের চাপ কম থাকায় হাজার হাজার মুসুল্লির জন্য সময়মত খাবার দেয়া যাচ্ছে না। শুক্রবার থেকে প্রথম দফায় তিন দিনের ইজতেমা শুরু হচ্ছে।
দেশি-বিদেশি মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দানের নির্ধারিত খিত্তায় (জায়গায়) তারা অবস্থান করছেন। ইজতেমা ময়দানেরিউত্তর-পশিম পাশে টিনের চাল ও বেড়ায় নির্মাণ করা হয়েছে এই মেহমানখানা। এখানে গ্যাস ছাড়াও বিদ্যুৎ, টেলিফোন এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত থাকার পাশাপাশি আছে ফ্রি-মেডিকেল ক্যাম্পের ব্যবস্থাও। বিশ্বের ১৩০টি দেশ থেকে প্রায় ৩০ হাজার মুসল্লি এবারের ইজতেমায় অংশ নেবেন বলে ধারণা করছেন আয়োজকরা।
তিতাস গ্যাসের টঙ্গী জোনের ব্যবস্থাপক (বিতরণ) মো. শাহিরুল ইসলাম খান জানান, সোমবার পাঁচটি পয়েন্ট থেকে ওই নিবাসে গ্যাসের সংযোগ দেয়া হয়েছে। গ্যাসের চাপ বাড়ানোর জন্যে গত বছর দুই ইঞ্চির পরিবর্তে চার ইঞ্চি ব্যাসের বিতরণ লাইন স্থাপন করা হয়েছে। এতে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হওয়ার কথা থাকলেও শীতকালে জাতীয় গ্রিডে অনেক সময় গ্যাস উত্তোলন কম হওয়ায় এ সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে তিনি জানান।
এদিকে, ইজতেমা আয়োজক সূত্র জানিয়েছে বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যেই কয়েক লাখ মুসল্লি জড়ো হয়েছেন। তাদের সব ধরনের সেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এদিকে ইজতেমা ময়দানে যারা সমবেত হয়েছেন তারা নিজ নিজ খিত্তায় দ্বীনি আলোচনা ও এবাদত বন্দেগি করে সময় কাটাচ্ছেন।