শীর্ষবিন্দু নিউজ: চীন, ভারত ও মিয়ানমারকে নিয়ে আন্তঃদেশীয় সংযোগ ও বাণিজ্য ফোরাম বিসিআইএমকে এগিয়ে নিতে পারলে বাংলাদেশ অনেক বেশি লাভবান হবে বলে মনে করছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।
রোববার নিজের কার্যালয়ে ঢাকা চেম্বারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেন, সার্ক হয়েছে, সাফটা হয়েছে, কিন্তু এগুলো আমাদের ইচ্ছা অনুসারে মুভ করছে না। আমার মনে হয়, আমরা যদি বিসিআইএম করতে পারি তাহলে আমরা অনেক বেশি সুবিধা পাব। কৌশলগত কারণে বাংলাদেশ এখন চীনকে পশ্চিমা যে কোনো দেশ কিংবা সংস্থার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ইতোমধ্যে জানিয়েছেন।
এই ফোরামের আওতায় বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বাড়ানোর বিষয়ে চীনের কুনমিং থেকে ভারতের কলকাতা পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাব্যতা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে, যে সড়ক যাবে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের ওপর দিয়ে। নতুন সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পরপরই দিল্লীতে ১৬ ও ১৭ জানুয়ারি সাফটার বাণিজ্যমন্ত্রীদের সম্মেলনে যোগ দেন তোফায়েল আহমেদ, যেখানে ভারতের সঙ্গে ট্রান্সশিপমেন্টের মতো আন্তঃদেশীয় সংযোগ নিয়েও আলোচনা হয় বলে সাংবাদিকদের জানান তিনি।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, ভারত, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান সংযোগ স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা করছে। আমরাও বাকি থাকব কেন? বিসিআইএমকে এগিয়ে নিতে আলোচনা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী এপ্রিলের মধ্যে শর্ত পূরণ করে যুক্তরাষ্ট্রে স্থগিত হওয়া জিএসপি সুবিধা ফিরে পাওয়ার বিষয়ে তারা আশাবাদী। তিনি বলেন, নানা উদ্যোগের পরও শুল্ক বাধার কারণে এদিকে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ছে না।
আমাদের দেশের তামাক ও অ্যালকোহল ছাড়া সব ধরনের পণ্যে ভারত শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে। ইউরোপ আমেরিকায় আমরা অনেক রপ্তানি করলেও ভারতে আমাদের রপ্তানি মাত্র ৫৫০ মিলিয়ন ডলারের মতো। ভারতে পণ্য রপ্তানিতে কিছু ট্যারিফ ব্যারিয়ার আছে। এগুলো ঠিক করলেই আমরা সেখানে ১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করতে পারি।
সার্কভুক্ত দেশগুলোতে সমগ্র পৃথিবীর পাঁচভাগের একভাগ মানুষের বসবাস। কিন্তু সেই তুলনায় এখানে বাণিজ্য কম। প্রধান সমস্যা হলো কানেকটিভিটি। পরে আফগানিস্তানও এতে যোগ দেয়। এই সংস্থার সদস্য দেশগুলোর বাণিজ্য সুবিধা নিয়ে আলোচনার জন্য সাফটা নামে আলাদা একটি সংগঠন হলেও সার্ক ও সাফটা সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সুবিধা বাড়ানোর ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না বলে সমালোচনা রয়েছে। বিসিআইএম গঠনে গত প্রায় এক দশক ধরে তত্ত্বীয় আলোচনা চলার পর গত বছর এ ফোরামের বিষয়ে আলোচনা গতি পায়। গতবছর চীন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দিল্লী ও বেইজিং সফরেও এই ফোরামের বিষয়ে আলোচনা হয় বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।