ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে |
ওবায়দুল কাদেরকে দেখেই এগিয়ে গেলেন আরিফুল হক চৌধুরী। দু’জনেই সহাস্য। একসঙ্গে হাতও বাড়িয়ে দিলেন। করলেন করমর্দন। মুখে হাসিই লেগেই থাকলো। গতকাল সিলেটের কাজিরবাজার সেতুর পাদদেশে দেখা দু’জনের। দু’জন দুই মেরুর। দুই দলের রাজনীতিবিদ। কিন্তু আন্তরিকতার ঘাটতি থাকলো না তাদের মধ্যে।
একজন যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, অন্যজন সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। কাজিরবাজার সেতু পরিদর্শনে মন্ত্রী আসেন বেলা সাড়ে ১১টায়। তার আগেই আরিফুল হক চৌধুরী কাজিরবাজার গিয়ে পৌঁছলেন। ঘুরে দেখলেন নির্মাণকাজ। এরপর হেঁটে হেঁটে চলে এলেন সেতুর পাদদেশ অর্থাৎ শেখঘাট মোড়ে। মেয়রকে দেখে আশপাশের লোকজন জড়ো হলেন। কারণ সেতুর ডাউন সড়কের জন্য ওই এলাকায় মার্কেট, বাসাবাড়ি ইতিমধ্যেই ভেঙে ফেলা হয়েছে। সরকার থেকে ক্ষতিপূরণ দিয়েই যোগাযোগের স্বার্থে সেগুলো ভেঙে ফেলা হয়। কিন্তু মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতেই সেখানে মেয়র আরিফের উপস্থিতি। মন্ত্রীর সঙ্গে করমর্দন করে তিনি এলাকাবাসীর কিছু দাবিও মন্ত্রীকে জানাতে ভুললেন না।
আরিফ বললেন, সেতু নির্মাণ হলে ওই রাস্তা দিয়ে ট্রাকসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল করবে। এতে ওই এলাকায় চাপ বাড়বে। তবে, সেতুর যে স্কয়ার হবে তার পাশেই ময়নুন্নেছা স্কুল। প্রচুর শিক্ষার্থী ওই স্কুলে। স্কুলে শিক্ষার্থীরা এলাকা দিয়ে যাতায়াত করবে। দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ জন্য এ বিষয়টি আগেই বিবেচনায় রেখে কাজ করার জন্য মন্ত্রীকে অনুরোধ জানান আরিফ। এ সময় তিনি পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাটি স্বাভাবিক রাখার জন্যও অনুরোধ জানান। মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর কথায় মন্ত্রীও সায় দেন। আশ্বাস দেন, বিষয়টি তিনি দেখবেন। প্রায় দুই মিনিট দাঁড়িয়ে কথা বলে আবারও করমর্দন করে দু’জন দুই রাস্তায় পথ ধরেন।
সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর এ ভূমিকায় উপস্থিত এলাকাবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সময় সিলেটের সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস এমপি, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরীসহ সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানান, এ সেতুটি নির্মাণকাজ শুরু করেছিলেন প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। সিলেটের যানজট দূর করতে মন্ত্রী নিজ প্রচেষ্টায় এখানে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করেছিলেন এবং বিগত চারদলীয় জোট সরকারের সময় সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। তিনি বলেন, এ সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলে সিলেটের যানজট অনেকাংশে কমে আসবে। এ ছাড়া কীন ব্রিজের ওপর থেকে চাপ কমবে।