শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: সিলেটের বিয়ানীবাজারের এক প্রবাসীর বাড়ির সম্পত্তি দুর্বৃত্তচক্র দখল করতে উঠে পড়ে লেগেছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। জাল উত্তরাধিকারী সনদ তৈরীর মাধ্যমে এই চক্র মাথিউরা ইউনিয়নের দোয়াখা গ্রামের প্রবাসী মো. বোরহান উদ্দিনের বাড়ির একাংশ নিজেদের নামে রেকর্ডভুক্ত করে নিয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
গত শনিবার দুপুরে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, একই গ্রামের বাসিন্দা খালেদ সাইফুদ্দিন জাফরী ও তার ছোট ভাই শিবলী মুরাদ জাফরী এবং নুরুল ইসলামের ছেলে জাহাঙ্গির খান, মন্তজিম আলী, মুজিবুর রহমান ও হোমিওপ্যাথি ডাক্তার সিরাজ উদ্দিন খানের স্ত্রী মালেকা আক্তার বসত বাড়ির অংশ জাল ঠিকানা ব্যবহার করে ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে তাদের নিজেদের নামে রেকর্ড করে নিয়েছেন। রেকর্ড করে নেওয়া জমির অবস্থান মাথিউরা মৌজার এস এ ১৯৭৮ নং খতিয়ানের দাগ নং ৫০৭৯, ৫০৮১, ৫০৮৫, হাল দাগ নং ৬০৭৯, ৬০৮০, নং এর ০. ১৬২৫ একর।
সংবাদ সম্মেলনে এই প্রবাসী অভিযোগ করেন, খালেদ সাইফুদ্দিন জাফরী দ্বারা প্ররোচিত হয়ে মাথিউরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শিহাব উদ্দিন জমির তফসিল এবং একটি ভুয়া দলিলের নাম্বার উল্লেখ করে জাল উত্তরাধিরী সনদ তৈরী করেছেন। যা সংগ্রহ করেন খালেদ খালেদ সাইফুদ্দিন জাফরী। এটি চেয়ারম্যানের এখাতিয়া বহিভূত কাজ ও বিধি লঙ্গন। চেয়ারম্যান শিহাব উদ্দিন খালেদ সাইফুদ্দিন জাফরীদের কাছ থেকে আর্থিক ও অন্যান্য সুবিধা প্রাপ্ত হয়ে এই অসৎ কাজ করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মো. বোরহান উদ্দিন সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, চেয়ারম্যান শিহাব উদ্দিন ও খালেদ জাফরীদের এসব অসৎ ও জাল সার্টিফিকেটের প্রতিকার চেয়ে ও উত্তরাধিকারী সার্টিফিকেটটি পুন: ইস্যুর জন্য ১৬-১০-২০১২ ইংরেজী তারিখে সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করেন। জেলা প্রশাসনের তদন্তে সঠিক তথ্য যাচাই সাপেক্ষে তাদেরকে উত্তরাধিকারী সার্টিফিকেট প্রদানের নির্দেশ দেন এবং তাদের উত্তরাধিকারী সার্টিফিকেটটি বাতিল করেন।
কিন্তু ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জেলা প্রশাসকের নির্দেশ না মেনে উল্টো দক্ষ কর্মকর্তা দিয়ে পুন:তদন্ত এবং একই দিনে খালেদ জাফারীর চাচাতো বোন মালেকা আক্তারকে দিয়ে যোগসাজশ করে নিজের বরাবরে উকিল নোটিশ পাঠান। যাতে জেলা প্রশাসক মহোদয় আদেশ বাস্তবায়িত না করেন।
অন্যদিকে চেয়ারম্যন শিহাব উদ্দিন মালেকা আক্তারকে দিয়ে জেলা প্রশাসকের নির্দেশ স্থগিত চেয়ে জর্জকোর্টে একটি মামলা দায়ের করেন। যা বিচারাধীন। এরপর আবার বিগত ১৬-০৩-২০১৩ ইংরেজী তারিখে আমার অন্যান্য ভাইবোনকে বাদ দিয়ে আমার পিতার একমাত্র উত্তরাধিকারী আমাকে (আমি বোরহান উদ্দিন) বানিয়ে এলাকার ভিন্ন একজন ব্যক্তিকে উত্তরাধিকারী সার্টিফিকেট প্রদান করেন ওই আলোচিত ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শিহাব উদ্দিন।
একজন প্রবাসী হিসেবে মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, মৌরসী সম্পত্তি দখল চেষ্টাকারী চক্র ৭ নং মাথিউরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: শিহাব উদ্দিন, খালেদ সাইফুদ্দিন জাফরী, শিবলী মুরাদ জাফরী, মন্তজিম আলী, মুজিবুর রহমান, জাহাঙ্গির খান, মালেকা আক্তারওে বিরুদ্ধে সিলেট রেঞ্জের মাননীয় ডিআইজি বরাবরে আবেদন করেন। পরে ডিআইজির দীর্ঘ তদন্তের পর সিলেট জেলা পুলিশ সুপারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিলে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশকে জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন পুলিশ সুপার।
সংবাদ সম্মেলনে হাজী বোরহান উদ্দিন জানান, অদৃশ্য শক্তির ইশারায় থানার ওসি নির্দেশ থাকার পরও আমাদের মামলা গ্রহন করতে অনীহা প্রকাশ করেন। বাধ্য হয়ে আমরা সিলেট জর্জকোর্টে উল্লেখিত ব্যাক্তিবর্গের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করি। আদালতের নির্দেশে আমাদের আবেদন এফআইআর হিসেবে গ্রহন করে বিগত ২৫/০১/২০১৪ ইংরেজী সনে বিয়ানীবাজার থানায় এজহার হিসেবে গণ্য করা হয়। যার নাম্বার ২০/২০১৪।
তিনি জানান, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য দুষ্ট চক্র নানা চাপ দিচ্ছে। মামলাটি প্রত্যাহার না করা হলে আমাকে ও আমার পরিবার পরিজনকে প্রাণে মারারা হুমকি দিচ্ছে। আমাকে ও আমার আত্মীয় স্বজনকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। থানায় মামলাটি এফআইআর হওয়ার পরদিন আমার গ্রামের মাথিউরার বাড়িতে ৩০/৪০ জনের মত অজ্ঞাত ব্যাক্তি জড়ো হয়ে নানাভাবে হুমকি ধামকি দিলে আমার বাড়ির মহিলা ও শিশুরা ভয়ে তটস্থ হয়। আমি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করলে পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা নেওয়ায় উক্ত লোকজন স্থান ত্যাগ করে। এখন প্রতিদিনে ও রাত্রে আমার বাড়ির সীমানায় অজ্ঞাত লোকদের আনাগোনা দেখা যায়। এতে আমি ও আমার বাড়ির লোকজন নিরাপত্তার অভাব অনুভব করায় বিগত ০৬-০২-১৪ ইংরেজী তারিখে বিয়ানীবাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করেছি। যার নম্বর ২৭৫।