রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৭

অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগে পলিসি ত্রুটি আছে

অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগে পলিসি ত্রুটি আছে

শীর্ষবিন্দু নিউজ: দেশের সার্বিক উন্নয়নে ও অর্থপাচার রোধে অপ্রদর্শিত অর্থকে শিল্প-কারখানায় বিনিয়োগের সুযোগ দিতে বাজেটে বিশেষ চিন্তা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন। বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সম্মেলন কক্ষে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের ইকোনমিকস রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, জমি কেনাবেচায় অনেক জটিলতা। এজন্য রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর নির্দেশে চট্টগ্রাম ও ঢাকার জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে রাজস্ব আদায় এনবিআর আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রাক-বাজেট আলোচনায় ইআরএফ সভাপতি সুলতান মাহমুদের নেতৃত্বে সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন বলেন, পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো অপ্রদর্শিত অর্থকে সহজ শর্তে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ না থাকায় এসব টাকা বিদেশে পাচার করা হচ্ছে। এ সব টাকা দিয়ে বিদেশে শিল্প-কারখানা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সব দেশে ফাঁকি আছে। তাই বলে পলিসি ত্রুটির কারণে অর্থ পাচার হয়ে যাচ্ছে না। আমাদের দেশের টাকা আমেরিকা, কানাডা, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ এসব অর্থের ‘সেকেন্ড হোম’ হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের পলিসি ত্রুটি থাকায় এসব অর্থ অবাধে পাচার হচ্ছে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হচ্ছে না। তিনি বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ থাকা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

পোশাক শিল্পে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ হয়েছে উল্লেখ করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ১৯৮৯ সালে গার্মেন্টস শিল্প নির্মাণে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে এ শিল্প আজ বাংলাদেশের প্রধান শিল্প। এতে প্রায় ৪০ লাখ নারীর কর্মসংস্থানের পাশাপাশি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। বাজেটে আয়কর ও ভ্যাটে পরিবর্তন আসছে উল্লেখ করে গোলাম হোসেন বলেন, বাজেটে আয়কর ও ভ্যাটে ব্যাপক পরিবর্তন আসছে। তবে আয়করকে এক নম্বর খাত করাই এ বাজেটের লক্ষ্য। কর্পোরেট কর ও ব্যক্তি পর্যায়ে করের ক্ষেত্রে সমন্বয় করে ব্যবসাবান্ধব বাজেট প্রণয়ের আশ্বাস দেন তিনি।

কাস্টমস শুল্ক সম্পর্কে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন বলেন, আন্তর্জাতিক নীতি অনুসারে আগামী বাজেট থেকে কাস্টমস শুল্ক কমানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। আগামী বাজেটে ১৩৬২টি পণ্যের ওপর (এইচএস কোর্ড অনুসারে) সম্পূরক শুল্ক রয়েছে। তিনি বলেন, এ থেকে প্রায় কয়েক হাজার কোটি টাকা শুল্ক পাওয়া যেত। আগামী বাজেটে মাত্র ১৪৭টি পণ্য ছাড়া সব সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে। এ থেকে ৫ থেকে ৭ হাজার কোটি টাকা আসবে। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতিকর সব পণ্যে সর্বোচ্চ শুল্কারোপ, বাড়ি, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবীদের করের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

কর ফাঁকিতে এনবিআরের দুর্বলতা রয়েছে স্বীকার করে তিনি বলেন, কর আদায় করতে যে জনবল দরকার, তার অর্ধেকও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নেই। এর ফলে সঠিকভাবে কর আদায় সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, প্রতি করাঞ্চলে ২৭ জন কর ইন্সপেক্টরের স্থলে গড়ে সাতজন ইন্সপেক্টর রয়েছে। অফিসের কাজ শেষে মাঠ পর্যায়ে কাজ করা তাদের পক্ষে অসম্ভব বলে জানান তিনি।

সিইসি সেলের সফলতা ও দুর্বলতা রয়েছে উল্লেখ করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, কর ফাঁকিতে সিইসি সেলের ব্যাপক সফলতা আছে। তবে দুর্বলতাও আছে বলে স্বীকার করেন তিনি। তবে সিইসি সেল যাকে ধরে ঠিকই কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি পায় বলে দাবি করেন তিনি। গোলাম হোসেন বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামে ১ লাখ ৬২ হাজার বাড়িওয়ালা রিটার্ন দেন না। এক্ষেত্রে বাড়িওয়ালাদের কর ফাঁকি রোধ ও তাদের করের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, যে নিয়ম চালু করা হচ্ছে, এতে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া কেউই রেহাই পাবে না। ইনসেনটিভ বিষয়ে তিনি বলেন, ইনসেনটিভ যেসব প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে, বেশির ভাগ রাইজ (অগ্রসর) করতে পারেনি। এরা সারাজীবনেও রাইজ করতে পারবে না। এটা বন্ধ করে দেওয়া উচিত। রিয়েল এস্টেট ও পুঁজি বাজারের প্রণোদনায় কোনো সফলতা আসেনি উল্লেখ করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, কোনো সফলতা না আসায় আগামী বাজেটে এ নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026