শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: ২০১৩-১৪ অর্থবছরের ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) দাতা সংস্থাদের কাছ থেকে অর্থ ছাড়ের পরিমাণ অনেকটা বেড়েছে, তবে প্রতিশ্রুতির পরিমাণ হাতাশাব্যঞ্জক। বুধবার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
তথ্য মতে, দাতা সংস্থাদের কাছ থেকে অর্থ ছাড়ের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে সরকার। চলতি অর্থ বছরের ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) দাতারা মোট অর্থ ছাড় করেছে ২১৭ কোটি ১৪ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ঋণ ১৬১ কোটি ৪৪ লাখ ৫০ হাজার এবং অনুদান ৫৫ কোটি ৬৯ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। এর আগে ২০১২-১৩ অর্থবছরের ৯ মাসে বৈদেশিক অর্থ ছাড় হয়েছিল হয়েছিল মোট ১৯০ কোটি ৮৬ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ঋণ ১৩৯ কোটি ৯২ লাখ ১০ হাজার এবং অনুদান ৫০ কোটি ৯৪ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার।
সেই হিসেবে গত অর্থবছর থেকে চলতি অর্থবছরে প্রায় ২৭ কোটি ডলার বেড়েছে। তবে দাতাদের ঋণ পরিশোধের পরিমাণ কমে গেছে। চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে সর্বমোট ৮৬ কোটি ২৫ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার। এর মধ্যে আসল ৭০ কোটি ১২ লাখ এবং সুদ ১৬ কোটি ১৩ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার।গত অর্থবছরের একই সময়ে অর্থাৎ নয় মাসে বাংলাদেশ পরিশোধ করে ৮৮ কোটি ৩ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার। এর মধ্যে আসল ৭২ কোটি ৭ লাখ ৯০ হাজার এবং সুদ ১৫ কোটি ৯৫ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার।
ইআরডির তথ্য মতে, চলতি অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি অর্থ ছাড় করেছে বিশ্বব্যাংক। এর পরিমাণ ঋণ ও অনুদান মিলে ৬৯ কোটি ৭৯ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ৩৮ কোটি ২৫ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার, ইউএন ১১ কোটি ৪৫ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার, চায়না ২২ কোটি ২৪ লাখ ডলার, ভারত ৮ কোটি ৭৯ লাখ ৩০ হাজার ডলার।তবে চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে দাতাদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি আদায় হতাশজনক হারে কমেছে।
গত ৯ মাসে প্রতিশ্রুতি মোট ২৯০ কোটি ৩৮ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে ৯ মাসে প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ছিল ৫৪৩ কোটি ৩৬ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার। সেই হিসেবে প্রতিশ্রুতির পরিমাণ প্রায় ২৫১ কোটি মার্কিন ডলার কমেছে।২০১৩-১৪ অর্থবছরে মোট প্রতিশ্রুতির মধ্যে ঋণ ২৪৫ কোটি ৯৭ লাখ ডলার। এর মধ্যে অনুদান ৪৪ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার। ২০১২-১৩ অর্থবছরের মোট প্রতিশ্রুতির মধ্যে ঋণ ছিল ৪৮৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪০ হাজার এবং অনুদান ৫৬ কোটি ৭৭ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার।তবে চলতি অর্থবছরে গত অর্থবছরের তুলনায় প্রতিশ্রুতির মধ্যে ঋণ কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪০ কোটি মার্কিন ডলার। একই সময়ে গত অর্থ বছরের তুলনায় অনুদান কমে দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার।