রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪২

বাংলাদেশ ব্যাংকের হতাশা: অনিয়ম স্বজনপ্রীতিতে ৯ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকের হতাশা: অনিয়ম স্বজনপ্রীতিতে ৯ ব্যাংক

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: কার্যক্রম শুরু করতে না করতেই সুশাসনের  ঘাটতিতে পড়েছে নতুন ৯ ব্যাংক। রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংকগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তাই ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। ‌অনিয়মই যেন নিয়ম হয়েছে এসব ব্যাংকে। পর্ষদ নিয়মিত ব্যাংকের দৈনন্দিন কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করছে। ব্যাংকের কর্মী নিয়োগেও চলছে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি।

সূত্র বলছে, ঋণ বিতরণ, আমানত সংগ্রহ, পর্ষদের হস্তক্ষেপ, গাড়ি কেনা, অফিস স্থাপন, সামাজিক খাতে ব্যয়, নিয়োগসহ ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক প্রায় খাতেই এ অবস্থা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে নতুন ৯টি ব্যাংক সম্পর্কে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। নতুন ব্যাংকগুলোর এই হাল দেখে উদ্বিগ্ন বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ব্যাংকগুলোর এই পরিস্থিতি হতাশা ও উদ্বেগজনক। এভাবে চলতে থাকলে ব্যাংকগুলো দেশের পুরো ব্যাংকখাতকে অস্থিরতায় ফেলবে। ঝুঁকিতে পড়বে সাধারণ আমানতকারীর আমানত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়,  নতুন ব্যাংকগুলোকে এভাবে চলতে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি একটি গোপন বৈঠকের মাধ্যমে নতুন ৯টি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও প্রধান নিবার্হীদের সর্তক করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংক পরিচালনায় সুশাসনের ঘাটতিতে গ্রাহক আমানত নিয়ে শংকা তৈরি হয়। ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ফন্দিফিকির করে ব্যাংকের আয় তুলে নিয়ে যাচ্ছে, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার পরিপন্থি।

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সাবেক মন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরের ফারমার্স ব্যাংক থেকে ২০১০ সাল থেকে ২০১১ সাল নাগাদ ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা অফিস ভাড়া হিসেবে তুলে নেওয়া হয়েছে। অথচ ওই সময়ে ব্যাংকটি কার্যক্রমই শুরু করেনি। উপরন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এর কোন অনুমোদনই নেওয়া হয় নি। অনুমোদনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রস্তাব তোলা হলেও তা প্রত্যাখ্যান করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ব্যাংকে গাড়ি কেনা, শাখা স্থাপন থেকে প্রায় সব ক্ষেত্রেই অনিয়ম করা হচ্ছে।

শুধু তাই নয়, নতুন কোন ব্যাংকই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে তাদের আর্থিক প্রতিবেদন তুলে ধরতে পারছে না। এর কারণ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অদক্ষতা, অনিয়ম ও দুর্নীতি- এই তিন কারণে এটি হচ্ছে না। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ব্যাংকগুলো কর্মী নিয়োগেও নিয়োগ বিধির চরম লংঘন করছে। অযোগ্য লোকদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। নিয়োগের ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদের সুপারিশ থাকছে। পর্ষদ তাদের আত্মীয়-স্বজনকে চাকরিতে নিয়োগ দিচ্ছে।

সূত্র বলছে, নতুন ব্যাংকগুলোর উদ্যোক্তারা যেহেতু রাজনীতিতে নিবিঢ়ভাবে জড়িত, তাই তারা মুনাফার চেয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতায় নজর দিচ্ছেন বেশি। কারণ এতে ব্যাংকের অর্থে তাদের রাজনৈতিক ফায়দা পাওয়া সহজ হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন ব্যাংকগুলো ঋণ প্রদানে সর্তক নয়। আবেদনকারীর সিআইবি প্রতিবেদন ছাড়া বা পুরনো সিআইবি প্রতিবেদন নিয়ে ঋণ দিচ্ছে। এতে এসব ঋণ খেলাপি হয়ে পড়ার  আশঙ্কা রয়েছে।

ব্যাংকের দৈনন্দিন কার্যক্রমে কোন ধরনের হস্তক্ষেপ না করতে পরিচালনা পর্ষদকে নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সম্প্রতি এক বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন কার্যক্রম শুরু করা ৯টি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালদের সঙ্গে বৈঠকে স্পষ্ট করে বলে দিয়েছে, দয়া করে আপনারা ব্যাংক পরিচালনায় ব্যবস্থাপনা পরিচালক-এমডিদের কোন চাপ দেবেন না। তাদেরকে কাজ করতে দেবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান ওই বৈঠকে বলেন, আর্থিক সূচকে ও সুশাসনে আপনাদের ব্যাপক ঘাটতি দেখছি। এভাবে চললে ব্যাংকগুলো টিকতে পারবে না। তাই সুশাসন নিশ্চিত করুন। আগ্রাসী ব্যাংকিং করবেন না।

একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলানিউজকে বলেন, সুশাসনের ঘাটতি নতুন সব ব্যাংকে। তবে আমাদের অভিজ্ঞতা কম, সেটিও বিবেচনা করতে হবে। তবে এর জন্য কি দায়ী তা আমরা সবাই জানি। এর বেশি বলতে পারবো না। সূত্রমতে, সরকারের রাজনৈতিক বিবেচনায় নতুন ৯টি ব্যাংক কার্যক্রম শুরু করেছে প্রায় ১ বছর। ব্যাংকগুলো হলো- এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক,  এনআরবি ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, ফারমার্স ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার ও কমার্স ব্যাংক এবং মধুমতি ব্যাংক লিমিটেড।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026