রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:০৯

২০১৫ সালে বেকারের সংখ্যা হবে ৩৩ লাখ

২০১৫ সালে বেকারের সংখ্যা হবে ৩৩ লাখ

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: গত এক দশক ধরে বেকারত্ব বৃদ্ধির যে প্রবণতা তা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে আগামী বছর (২০১৫) দেশে বেকারের সংখ্যা দাঁড়াতে পারে ৩৩ লাখে। এক দশকের বেকারত্ব বৃদ্ধির গড় হারের প্রবণতা বিশ্লেষণ করে স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন অন্বেষণ-এর মাসিক বাংলাদেশ অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’র ২০১৪ সালের মে সংখ্যায় এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

সংস্থাটির মতে, বেকারত্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি আংশিক বেকারত্বও বাড়ছে। যদি এখনি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হয় তাহলে তা দেশের অর্থনীতির জন্য হুমকি হতে পারে। এছাড়া বেকারত্বের হার বৃদ্ধি ও দারিদ্র্য হ্রাসের হার কমে যাওয়া মোকাবেলার জন্য শ্রম-নিবিড় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অর্থনৈতিক কাঠামো পুর্নগঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি এই সময়ে অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মসংস্থান, যুব বেকারত্ব ও মোট শ্রমশক্তিতে নারী শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও তথ্য পেয়েছে।

সর্বশেষ শ্রম জরিপের তথ্য উল্লেখ করে উন্নয়ন অন্বেষণ জানায়, ২০০০ সালের ১৭ লাখ বেকার থেকে ২০১০ সালে বেকার জনসংখ্যা বেড়ে ২৬  লাখে দাঁড়িয়েছে। আংশিক কর্মসংস্থানের কোন ব্যক্তি যদি সপ্তাহে ৩৫ ঘণ্টার কম কাজ করে তাকে আংশিক কর্মসংস্থান বলা হয় এর উচ্চ হার লক্ষ্য করা যায়। সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, ২০১০ সালে ১ কোটি ৯ লাখ ৯০ হাজার লোক আংশিক কর্মসংস্থানের মাধ্যমে জীবন নির্বাহ করে। এই সংখ্যা মোট কর্মজীবী শ্রমশক্তির এক বিশাল পরিমাণ, তথা ২০.৩১ শতাংশ। উন্নয়ন অন্বেষণ উল্লেখ করছে, গ্রামীণ অর্থনীতিতে ও নারী শ্রমিকদের মাঝে আংশিক কর্মসংস্থানের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। গ্রামাঞ্চলে আংশিক কর্মসংস্থানের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহকারীর সংখ্যা মোট শ্রমশক্তির ২২.৬৭ শতাংশ; শহুরাঞ্চলে এই জনসংখ্যার পরিমাণ ১২.৪০ শতাংশ।

অপরদিকে, গ্রামাঞ্চলে আংশিক কর্মসংস্থানের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহকারী নারীর সংখ্যা মোট নারী শ্রমশক্তির ৩৪.১৫ শতাংশ এবং শহুরাঞ্চলে ১৪.৪০ শতাংশ। অর্থাৎ, মোট আংশিক কর্মসংস্থানের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহকারী ৪৭ শতাংশই নারী শ্রমিক। অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির দিকে লক্ষ্য রেখে ‘উন্নয়ন অন্বেষণ’ বলছে, ২০০০ সালে যেখানে অনানুষ্ঠানিক খাতে মোট ২ কোটি ৯৩ লাখ কর্মজীবী ছিল, তা গড়ে বার্ষিক ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১০ সালে ৪ কোটি ৭৩ লাখে উপনীত হয়েছে। বেকারত্ব বৃদ্ধির এই প্রবণতার সঙ্গে কম মজুরি দেশে দারিদ্র্যের প্রবণতা বৃদ্ধি করে বলে মত প্রকাশ করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি।

দৈনিক ২ মার্কিন ডলারের সমান অথবা কম আয়ের সীমাকে দারিদ্র্যসীমা বিবেচনা করলে দেশে মোট জনসংখ্যার ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশ জনগণ দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করে বলে বিশ্ব ব্যাংকের পর্যালোচনায় দেখা যায়। মোট শ্রমশক্তি ২০০০ সালের ৪ কোটি ৭ লাখ থেকে ২০১০ সালে ৫ কোটি ৬৭ লাখে উপনীত হয়েছে। শ্রমশক্তি বৃদ্ধির গড় হার দাঁড়িয়েছে ৩.৯৩% বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৯৫ সালে দেশে মোট চাকুরিজীবী ও বেকারের সংখ্যা যথাক্রমে ৩ কোটি ৪৮ লাখ ও ১৪ লাখ যা ২০১০ সালে বৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে ৫ কোটি ৪৫ লাখ ও ২৬ লাখে উপনীত হয়েছে বলেও গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি লক্ষ্য করেছে।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2025