শীর্ষবিন্দু নিউজ: দেশী-বিদেশী দুর্লভ ও বিপন্ন হয়ে পড়া ২৪টি জাতের ৭০০ বাঁশের চারা রোপণ করে সিলেটে যাত্রা শুরু করেছে দেশের প্রথম জাতীয় বাঁশ উদ্যান (ন্যাশনাল ব্যাম্বু পার্ক)। বুধবার থেকে এটি সবার জন্য উন্মক্ত করে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রধান বন সংরক্ষক মো. ইউনুছ আলী আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্যানের উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।
জানা যায়, সিলেট অঞ্চলে পাহাড়-টিলা-বনের প্রাকৃতিক সমৃদ্ধির ফলে বাঁশের ব্যাপক উৎপাদন রয়েছে। কিন্তু সুষ্ঠু তদারকি না থাকায় নানা নাম আর জাতের বাঁশ ক্রমে বিলুপ্ত হয়ে পড়ছে। এ বিলুপ্তি ঠেকাতে ও বাঁশের উৎপাদন জনপ্রিয় করতে সিলেট বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে চলতি অর্থবছরের একটি প্রস্তাবিত প্রকল্পের বাস্তবায়ন রূপ হচ্ছে জাতীয় বাঁশ উদ্যান। সিলেট বিমানবন্দর সড়কের পাশে পর্যটন মোটেলের বিপরীত দিকে ৩০ একর জায়গায় বন বিভাগের ফরেস্ট স্কুল অ্যান্ড ট্রেনিং ইন্সটিটিউট। সুবিশাল এ প্রতিষ্ঠান চত্বরের পরিত্যক্ত দুটি টিলা ও সমতল ভূমির প্রায় তিন একর জায়গা উদ্যান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রবেশমুখে প্রধান ফটকে জাতীয় বাঁশ উদ্যানের নাম সম্বলিত সাইনবোর্ডে বাঁশের জাত, নাম ও উদ্যানের তথ্যাদি উপস্থাপন করা হয়েছে।
বন বিভাগ জানিয়েছে, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও ইকো-ট্যুরিজম উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সিলেট শহরতলীর বিমানবন্দর এলাকায় ফরেস্ট স্কুল অ্যান্ড ট্রেনিং ইন্সটিটিউট (এফএসটিআই) চত্বরে টিলা শ্রেণীর তিন একর জায়গাজুড়ে এ উদ্যান গড়ে তোলা হয়েছে। এতে রয়েছে নানা জাত আর বাহারি নামের বাঁশ। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও ইকো-ট্যুরিজম উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে দুই লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ উদ্যান জাতীয় পর্যায়ের প্রথম কোনো উদ্যোগ। ভবিষ্যতে বাঁশের উদ্যানে অন্তত শতাধিক দেশি-বিদেশি বাঁশের জাত সংগ্রহ করে আরও সমৃদ্ধ করা হবে। ফলে বন ও পরিবেশ বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী-গবেষকদের গবেষণায়ও সহায়তা হবে।
বন বিভাগ সূতে আরো জানা যায়, চারা রোপণ থেকে পরিচর্যার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন বন বিভাগের রেঞ্জার মো. রেজাউল করিমের নেতৃত্বে বনকর্মীদের একটি দল। উদ্যানের প্রথমভাগে রয়েছে সোনালীসহ দুর্লভ সব জাতের বাঁশ। ‘কলসি’ নামে এক প্রজাতির বাঁশ রয়েছে, যেগুলোর বেড়ে ওঠা বৈচিত্র্যময়। কলসির পাশাপাশি রয়েছে বোতল, কালী, রঙ্গন, কঞ্চি, মৃতিঙ্গা, টেংগা, বরুয়া, বুদুম বেতুয়াসহ সিলেট অঞ্চলের প্রসিদ্ধ ২৪ জাতের বাঁশ। সিলেট বৃষ্টিপ্রবণ হওয়ায় পরিবেশগত কারণে বাংলাদেশের মধ্যে বাঁশের উৎপাদন সিলেটে বেশি হচ্ছে। গ্রাম এলাকায় ‘গরিবের কাঠ’ হিসেবে সমাদৃত হলেও নানা কারণে ক্রমেই বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে বাঁশ। পরিবেশের সৌন্দর্য বাড়াতে ও বাঁশের বিলুপ্তি ঠেকাতে এ উদ্যান বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন সিলেট বিভাগীয় এক বন কর্মকর্তা।
Leave a Reply